ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দিয়ে যুক্তরাজ্যে অবৈধভাবে প্রবেশের চেষ্টা ঠেকাতে ফ্রান্সের ভূমিকা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। যুক্তরাজ্যের বিরোধী দলের ছায়া স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ক্রিস ফিল্প দাবি করেছেন, ফ্রান্সের বুলোঁ-সুর-মের উপকূলে তিনি এমন একটি ঘটনা প্রত্যক্ষ করেছেন যেখানে প্রায় একশ জন আরোহী নিয়ে একটি ছোট নৌকা যুক্তরাজ্যের উদ্দেশে রওনা হলেও উপস্থিত সশস্ত্র ফরাসি কর্মকর্তারা সেটি থামানোর কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেননি।
ক্রিস ফিল্পের অভিযোগ, তার সামনেই একজন সন্দেহভাজন মানবপাচারকারী নৌকার ইঞ্জিন চালু করে যাত্রীদের যাত্রা নিশ্চিত করেন। এরপর তিনি নির্বিঘ্নে সৈকত ছেড়ে চলে গেলেও ফরাসি নিরাপত্তা বাহিনী তাকে আটক করেনি।
তিনি আরও দাবি করেন, নৌকায় ওঠার জন্য পুরুষ আশ্রয়প্রার্থীদের মধ্যে তীব্র প্রতিযোগিতা দেখা দেয়। এ সময় কয়েকজন নারী ও শিশুকে ধাক্কা দিয়ে নৌকা থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় বলে তিনি অভিযোগ করেন।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত এক সশস্ত্র কর্মকর্তাকে কেন মানুষকে পানিতে নেমে নৌকায় উঠতে দেওয়া হচ্ছে—এমন প্রশ্ন করা হলে, ওই কর্মকর্তা নাকি জবাবে বলেন, “আমাদের নির্দেশ হলো তাদের যেতে দেওয়া। আমরা শুধু বলতে পারি, এটা বিপজ্জনক। আমাদের কাজ তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।” তবে এই বক্তব্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
ক্রিস ফিল্প আরও অভিযোগ করেন, তিনি সন্দেহভাজন মানবপাচারকারীকে গ্রেপ্তারের অনুরোধ জানালেও ফরাসি কর্মকর্তারা তাতে সাড়া দেননি। তার ভাষায়, পানির গভীরতা ছিল হাঁটুসমান, ফলে চাইলে নৌকাটি খুব সহজেই থামানো সম্ভব ছিল। তিনি পুরো ঘটনাকে “দায়িত্ব পালনে লজ্জাজনক ব্যর্থতা” বলে মন্তব্য করেন।
এ ঘটনার পর তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, সীমান্তে অতিরিক্ত টহল ও নজরদারি জোরদারের জন্য যুক্তরাজ্য ফ্রান্সকে যে বিপুল অর্থ সহায়তা দিচ্ছে, তার বাস্তব কার্যকারিতা কতটা নিশ্চিত করা যাচ্ছে।
এদিকে সংশ্লিষ্ট সূত্রের আশঙ্কা, সমন্বিতভাবে একাধিক ছোট নৌকা যাত্রা শুরু করায় একদিনেই প্রায় সাতশ জন ইংলিশ চ্যানেল অতিক্রম করে যুক্তরাজ্যে পৌঁছানোর চেষ্টা করতে পারেন।
তবে ক্রিস ফিল্পের উত্থাপিত অভিযোগ ও ফরাসি কর্মকর্তার কথিত মন্তব্যের বিষয়ে ফরাসি কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া এখনো প্রকাশিত হয়নি। ফলে ঘটনাটির কিছু দাবি এখনো স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া বাকি রয়েছে।
সূত্রঃ ডেইলি মেইল
এম.কে

