ফ্রান্সের কাঁ শহরে প্রকাশ্যে দুই হিজাব পরিহিত মুসলিম তরুণীর ওপর কথিত ইসলামোফোবিক হামলার অভিযোগ সামনে এসেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনায় দাবি করা হয়েছে, একটি ক্যাফের বাইরে বসে থাকা অবস্থায় এক নারী তাদের লক্ষ্য করে বর্ণবাদী ও ইসলামবিদ্বেষী মন্তব্য করেন এবং একপর্যায়ে তাদের দিকে থুতু নিক্ষেপ করেন।
ভিডিওতে দেখা যায়, পরিস্থিতি ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে উঠলে সেখানে উপস্থিত এক তরুণ এগিয়ে এসে ওই নারীকে থামানোর চেষ্টা করেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, তার হস্তক্ষেপের ফলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়া থেকে রক্ষা পায় এবং দুই তরুণী নিরাপদে সরে যাওয়ার সুযোগ পান।
ঘটনার ভিডিও দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই এটিকে ফ্রান্সে মুসলিম নারীদের বিরুদ্ধে প্রকাশ্য বিদ্বেষমূলক আচরণের উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও মূলধারার গণমাধ্যমকে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখার আহ্বানও জানানো হয়েছে।
যুক্তরাজ্যভিত্তিক মুসলিম সংবাদমাধ্যম ও অধিকারকর্মী প্ল্যাটফর্ম 5Pillars ঘটনাটি প্রকাশ করে জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে ফ্রান্সে মুসলিমদের লক্ষ্য করে একাধিক ইসলামোফোবিক ঘটনার অভিযোগ সামনে এসেছে। সংগঠনটি বলছে, বিশেষ করে হিজাব পরিহিত নারীরা জনপরিসরে বৈষম্য ও হয়রানির ঝুঁকিতে রয়েছেন।
ফ্রান্সে ধর্মনিরপেক্ষতা নীতিকে কেন্দ্র করে হিজাব নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্ক রয়েছে। ২০০৪ সালে সরকারি স্কুলে দৃশ্যমান ধর্মীয় প্রতীক পরিধানে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয় এবং ২০১০ সালে জনসমক্ষে মুখ ঢেকে রাখা পোশাক—যেমন বোরকা ও নিকাব—নিষিদ্ধ করা হয়। সমর্থকদের মতে এসব আইন রাষ্ট্রের ধর্মনিরপেক্ষ চরিত্র রক্ষা করে, তবে মানবাধিকার সংগঠনগুলোর অভিযোগ, এগুলোর প্রভাব মুসলিম নারীদের ওপর বেশি পড়েছে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ফ্রান্সে মুসলিমবিরোধী বিদ্বেষ নিয়ে উদ্বেগও বেড়েছে। ২০২৫ সালে মুসলিম উপাসনালয় ও মুসলিমদের লক্ষ্য করে কয়েকটি গুরুতর হামলার পর প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁসহ দেশটির শীর্ষ নেতারা ধর্মীয় বিদ্বেষ ও বর্ণবাদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।
কাঁ শহরের সর্বশেষ এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত ফরাসি কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে তদন্তের পূর্ণাঙ্গ ফলাফল প্রকাশ করা হয়নি। তবে ভাইরাল হওয়া ভিডিওটি ফ্রান্সে মুসলিম নারীদের নিরাপত্তা, ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং ইসলামোফোবিয়া নিয়ে নতুন করে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আলোচনা উসকে দিয়েছে।
সূত্রঃ ফাইভ পিলার
এম.কে

