12.3 C
London
October 20, 2026
TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

ফ্রান্সের পর ব্রিটেনেও বিক্ষোভ-সহিংসতার আশঙ্কাঃ ছড়াচ্ছে ‘জেন জি’ আন্দোলনের পোস্টার

ব্রিটেনে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, বাড়িভাড়া, বিশ্ববিদ্যালয়ের টিউশন ফি ও তরুণদের বেকারত্বের প্রতিবাদে ‘জেন জি’ বিক্ষোভের ডাক দিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একাধিক পোস্টার ছড়িয়ে পড়েছে। ফ্রান্সে চলমান দাঙ্গা এবং ইউরোপের বিভিন্ন দেশে বিক্ষোভের মধ্যে এসব পোস্ট ঘিরে ব্রিটেনেও অস্থিরতা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তবে ঘোষিত কর্মসূচিগুলোর আয়োজক ও বাস্তব প্রস্তুতি সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম জিবি নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, লন্ডনে চলতি সপ্তাহান্তে বিক্ষোভ আয়োজনের ঘোষণা দিয়ে অনলাইনে পোস্টার প্রকাশ করা হয়েছে। একটি পোস্টারে রাসেল স্কয়ার থেকে যাত্রা শুরু করে ওয়েস্টমিনস্টারে যাওয়ার কর্মসূচির কথা উল্লেখ রয়েছে। সেখানে বাড়িভাড়া, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাব্যয় ও তরুণদের কর্মসংস্থানের সংকটকে বিক্ষোভের কারণ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।

আরেকটি পোস্টারে ২৫ অক্টোবর লন্ডনে তরুণদের সমবেত হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, তরুণদের ভবিষ্যৎ নিয়ে কথা বলা হলেও তাদের জন্য পর্যাপ্ত বিনিয়োগ করা হচ্ছে না। এ ছাড়া ৭ ও ৮ নভেম্বর লন্ডন, বার্মিংহাম ও ম্যানচেস্টারে বিক্ষোভের ডাক দেওয়া হয়েছে। কর্মসূচি সংগঠিত করতে ইনস্টাগ্রামে গ্রুপ চ্যাট তৈরির কথাও একটি পোস্টে উল্লেখ করা হয়েছে।

২০ নভেম্বর ‘আন্তর্জাতিক যুব কর্মদিবস’ উপলক্ষে শিক্ষার্থী ও কর্মীদের লন্ডনের ট্রাফালগার স্কয়ারে জড়ো হওয়ার আহ্বান জানিয়ে আরেকটি পোস্ট প্রকাশিত হয়েছে। এতে কর্মসংস্থান ও শিক্ষায় অর্থ ব্যয়ের দাবি জানিয়ে যুদ্ধ ও দখলদারত্বে অর্থ ব্যয়ের বিরোধিতা করা হয়েছে। পোস্টারগুলো এক্স ও টিকটকে ছড়িয়ে পড়েছে। জিবি নিউজের প্রতিবেদনে একটি পোস্টকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে তৈরি হয়ে থাকতে পারে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।

ফ্রান্সের প্যারিস, মার্সেই, লিওঁ ও লিলের মতো বড় শহরে চলমান দাঙ্গার ঘটনায় দুই হাজার ৪০০ জনের বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জিবি নিউজ জানিয়েছে। বেলজিয়াম, ইতালি, স্পেন ও পর্তুগালেও বিক্ষোভের খবর পাওয়া গেছে।

ব্রিটেনের রেভল্যুশনারি কমিউনিস্ট পার্টি ফ্রান্সের সহিংসতার দৃশ্য প্রকাশ করে প্রশ্ন তুলেছে, ‘ব্রিটেন কি পরবর্তী?’ দলটি এডিনবরা, কেমব্রিজ, কার্ডিফ, লিডস, লন্ডন ও ব্রিস্টলে সভা আয়োজনের কথা জানিয়েছে। এসব সভায় ব্রিটেনে তরুণদের নাগরিক অবাধ্যতা ও আন্দোলনের প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা করা হবে বলে দলটির বক্তব্যে উল্লেখ রয়েছে।

সাবেক মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা কর্মকর্তা পিটার ব্লেকসলে জিবি নিউজকে বলেছেন, ফ্রান্সের অস্থিরতা ব্রিটেনেও ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে তিনি উদ্বিগ্ন। তার দাবি, পুলিশের একটি সূত্র তাকে জানিয়েছে, এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলায় পুলিশকে বড় ধরনের চাপের মুখে পড়তে হতে পারে।

রিফর্ম ইউকের নেতা নাইজেল ফারাজ সতর্ক করে বলেছেন, পরিস্থিতি মোকাবিলায় পদক্ষেপ না নিলে ফ্রান্সের মতো সহিংসতা ব্রিটেনের ভবিষ্যৎ হয়ে উঠতে পারে। তিনি আইনশৃঙ্খলা ও সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন।

অন্যদিকে, কনজারভেটিভ পার্টির ছায়া স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী ক্রিস ফিলপ ফ্রান্স ও ইউরোপের বিভিন্ন স্থানে সহিংসতা ও লুটপাটের ঘটনাকে উদ্বেগজনক বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার অধিকার সমর্থন করে বলেন, ব্রিটেনে কোনো চরম বামপন্থী গোষ্ঠী একই ধরনের বিশৃঙ্খলা ছড়ানোর চেষ্টা করলে আইনের পূর্ণ প্রয়োগ করা উচিত।

তবে অনলাইনে বিক্ষোভের আহ্বান ছড়িয়ে পড়লেও ব্রিটেনে ফ্রান্সের মতো দাঙ্গা শুরু হবে—এমন কোনো নিশ্চিত তথ্য প্রতিবেদনে দেওয়া হয়নি। বিক্ষোভের পোস্টার, সম্ভাব্য কর্মসূচি এবং রাজনৈতিক নেতাদের সতর্কবার্তাকে কেন্দ্র করেই বর্তমানে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

সূত্রঃ জিবি নিউজ

এমকে

আরো পড়ুন

সন্ত্রাসী হামলা মোকাবেলায় প্রস্তুত লন্ডন

অনলাইন ডেস্ক

আগামী বছরই কী যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্ট নির্বাচন?

পূর্ব লন্ডনের রাজনীতিতে বাংলাদেশিদের ঐতিহাসিক উত্থানঃ নির্বাচিত ৮০ কাউন্সিলর

নিউজ ডেস্ক