TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

বহিষ্কারের পর গোপনে যুক্তরাজ্যে ফেরা দণ্ডপ্রাপ্ত মাদক ব্যবসায়ীকে থাকতে দিল আদালত

মাদক পাচারের দায়ে কারাদণ্ড ভোগের পর যুক্তরাজ্য থেকে বহিষ্কৃত এক আলবেনীয় নাগরিককে মানবাধিকার আইনের ভিত্তিতে আবারও যুক্তরাজ্যে থাকার অনুমতি দিয়েছে আদালত। আদালতের মতে, তাকে পুনরায় বহিষ্কার করা হলে তার মানসিকভাবে অসুস্থ স্ত্রীর ওপর অত্যন্ত কঠোর প্রভাব পড়বে এবং বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তানটির পরিচর্যাও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে।

আদালতের নথি অনুযায়ী, ৩১ বছর বয়সী দারদান হোজহাই ২০১৮ সালে প্রায় সাত লাখ পঞ্চাশ হাজার পাউন্ড মূল্যের একটি মাদক পাচার চক্রে জড়িত থাকার অভিযোগে তিন বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন। সাজা শেষে তাকে আলবেনিয়ায় ফেরত পাঠানো হয়। তবে বহিষ্কারের মাত্র এক মাসের মধ্যেই তিনি কীভাবে আবার যুক্তরাজ্যে প্রবেশ করেন, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

পরবর্তীতে তিনি দীর্ঘ সময় অভিবাসন কর্তৃপক্ষের নজরের বাইরে ছিলেন। পরে ইউরোপীয় ইউনিয়ন সেটেলমেন্ট স্কিমের আওতায় নির্ভরশীল সঙ্গী হিসেবে আবেদন করার মাধ্যমে তার অবস্থান সামনে আসে। সেই আবেদন প্রত্যাখ্যাত হলে তিনি ২০২৩ সালে মানবাধিকার আইনের ভিত্তিতে যুক্তরাজ্যে থাকার আবেদন করেন। স্বরাষ্ট্র দপ্তর আবেদনটি নাকচ করলেও চলতি বছরের মে মাসে ট্রাইব্যুনালে আপিল করে তিনি সফল হন।

শুনানিতে হোজহাইয়ের আইনজীবী যুক্তি দেন, তার স্ত্রী অতীতে মানবপাচারের শিকার হয়েছিলেন এবং বর্তমানে জটিল মানসিক আঘাতজনিত সমস্যা, উদ্বেগ ও বিষণ্নতায় ভুগছেন। তাকে আলবেনিয়ায় ফিরে যেতে বাধ্য করা হলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে। এছাড়া পরিবারের বিশেষ স্বাস্থ্যগত চাহিদাসম্পন্ন সন্তানের দেখাশোনায় হোজহাই অপরিহার্য ভূমিকা পালন করেন।

আদালতে উপস্থাপিত সমাজকর্মীর প্রতিবেদনে বলা হয়, পরিবারের মানসিক ও শারীরিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে হোজহাইয়ের ভূমিকার বিকল্প নেই। তিনি রান্না, ঘর-পরিষ্কারসহ গৃহস্থালির অধিকাংশ কাজ করেন এবং তার স্ত্রীকে সন্তানের পরিচর্যায় সহায়তা করেন। বিশেষ করে ছেলের হাঁপানির চিকিৎসা ও ওষুধ ব্যবস্থাপনায় স্ত্রী আতঙ্কিত হয়ে পড়েন, ফলে স্বামীর সহায়তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

রায়ে বিচারক ফিওনা লিন্ডসলি বলেন, মামলায় উপস্থাপিত তথ্য-প্রমাণ আইনগতভাবে যথেষ্ট এবং এ ক্ষেত্রে শুধু মানসিক নয়, শারীরিক ক্ষতির বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, আবেদনকারীকে বহিষ্কার করা হলে তার স্ত্রী ও সন্তানের জন্য পরিস্থিতি অস্বাভাবিকভাবে কঠোর হয়ে উঠবে। এসব কারণ বিবেচনায় নিয়ে ট্রাইব্যুনাল তাকে যুক্তরাজ্যে থাকার অনুমতি দেয়।

এই রায় আবারও যুক্তরাজ্যের অভিবাসন আইনে মানবাধিকার এবং পারিবারিক জীবনের অধিকারের বিষয়টি কীভাবে আদালতের সিদ্ধান্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে, তা নতুন করে আলোচনায় নিয়ে এসেছে।

সূত্রঃ ডেইলি মেইল

এম.কে

আরো পড়ুন

যুক্তরাজ্যের রেস্তোঁরায় অবৈধ কর্মী নিয়োগ করায় লাইসেন্স হারালো প্রতিষ্ঠান

প্রতারণা মামলা থেকে রেহাই পেলেন এমপি আপসানা

যুক্তরাজ্যের নেট মাইগ্রেশন ব্রেক্সিট-পূর্ব স্তরে নেমে আসার পূর্বাভাস