19.2 C
London
August 28, 2026
TV3 BANGLA
বাংলাদেশ

বাংলাদেশকে ‘অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত দেশ’ বলল সৌদিঃ মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির আলোচনার মধ্যেই বাংলাদেশকে নিয়ে আগ্রহ

বাংলাদেশকে সৌদি আরবের অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত দেশগুলোর একটি হিসেবে উল্লেখ করেছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান আল-সাউদ। একই সঙ্গে বাংলাদেশের সঙ্গে অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও জোরদার করার গুরুত্ব তুলে ধরেছেন তিনি। পাশাপাশি বাংলাদেশে সৌদি কোম্পানিগুলোর বিনিয়োগ ও ব্যবসায়িক সম্পৃক্ততা বাড়ানোর আগ্রহের কথাও জানিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার ইসলামি সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বিশেষ সভার ফাঁকে সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। জেদ্দায় অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, অর্থনৈতিক সহযোগিতা, প্রতিরক্ষা সহযোগিতা এবং আঞ্চলিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশকে সৌদি আরবের অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত দেশগুলোর একটি হিসেবে উল্লেখ করেন। দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। একই সঙ্গে বাংলাদেশে সৌদি কোম্পানিগুলোর বিনিয়োগ এবং ব্যবসায়িক ক্ষেত্রে আরও সম্পৃক্ত হওয়ার আগ্রহের কথাও জানান।

বৈঠকে সৌদি আরবের উন্নয়নে প্রবাসী বাংলাদেশিদের অবদানের প্রশংসা করেন ফয়সাল বিন ফারহান। দুই দেশের বিদ্যমান সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি ভবিষ্যতে উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ ও সফর বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়।

এদিকে সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে সম্প্রতি স্বাক্ষরিত মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিকে ঘিরে বাংলাদেশের সম্ভাব্য অংশগ্রহণের আলোচনা চলার মধ্যেই হুমায়ুন কবিরের সৌদি সফর ও এই বৈঠক বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।

গত ৭ আগস্ট মক্কায় সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে সই করে। পশ্চিম এশিয়ায় চলমান যুদ্ধ ও সামরিক উত্তেজনার মধ্যে তিন দেশের নিরাপত্তা সহযোগিতা আরও জোরদার করাই এই চুক্তির অন্যতম লক্ষ্য। চুক্তির গুরুত্বপূর্ণ একটি দিক হলো—তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর সশস্ত্র হামলাকে তিন দেশের সবার ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে।

চুক্তিতে প্রতিরক্ষা সহযোগিতার পাশাপাশি রাজনৈতিক ও সামরিক সমন্বয়, যৌথ সামরিক মহড়া এবং প্রতিরক্ষা শিল্পে সহযোগিতা বাড়ানোর পরিকল্পনাও রয়েছে। চুক্তি স্বাক্ষরের পর তুরস্ক জানিয়েছিল, এটি কোনো নির্দিষ্ট দেশের বিরুদ্ধে পরিচালিত কোনো জোট নয়। পাকিস্তানও চুক্তিটিকে ‘সম্পূর্ণ প্রতিরক্ষামূলক’ হিসেবে বর্ণনা করেছে।

মক্কা চুক্তির পর বাংলাদেশকে এতে যুক্ত করার বিষয়ে আলোচনা শুরু হয়। গত ২৪ আগস্ট তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা এবং বর্তমানে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বে থাকা হুমায়ুন কবির সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে অংশগ্রহণের বিষয়ে বাংলাদেশ আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

তিনি তখন বলেন, বাংলাদেশের নেতৃত্বকে—বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে—জোটটির সঙ্গে থাকার জন্য বিভিন্ন জায়গা থেকে আমন্ত্রণ জানানো হচ্ছে।

এরপর বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিসরে আলোচনা শুরু হয়। সংসদে এক প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান জানান, সদস্য দেশগুলোর পক্ষ থেকে বাংলাদেশকে এই চুক্তিতে যুক্ত করার আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব এলে সরকার তা ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করবে। তবে তখন পর্যন্ত বাংলাদেশকে চুক্তিতে যোগ দেওয়ার কোনো আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব পাওয়া যায়নি বলেও জানান তিনি।

সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা ও আঞ্চলিক বিষয় নিয়েও ‘ইতিবাচক আলোচনা’ হয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। ফলে অর্থনৈতিক সহযোগিতার পাশাপাশি দুই দেশের নিরাপত্তা ও কৌশলগত সম্পর্ক নিয়েও আলোচনা অব্যাহত থাকার ইঙ্গিত মিলেছে।

বৈঠকে সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের কাছে পাঠানো বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের একটি চিঠি সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর হাতে তুলে দেন হুমায়ুন কবির। দুই পক্ষই দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ইতিবাচক গতিতে সন্তোষ প্রকাশ করে এবং অংশীদারত্বকে আরও উচ্চ পর্যায়ে নেওয়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে।

হুমায়ুন কবির বলেন, বিএনপি সরকার গঠনের পর দুই দেশের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের কয়েকটি সফর হয়েছে। এর ফলে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সমন্বিত সহযোগিতা আরও এগিয়ে নেওয়ার নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে।

ভবিষ্যতে দুই দেশের মধ্যে আরও উচ্চপর্যায়ের সফরের আশাবাদ ব্যক্ত করে সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান হুমায়ুন কবির।

বৈঠকে সৌদি আরবের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়ালিদ আব্দুলকরিম আল-খুরাইজি এবং ওআইসিতে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি এম জে এইচ জাবেদ উপস্থিত ছিলেন।

সৌদি আরবের পক্ষ থেকে বাংলাদেশকে অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত দেশ হিসেবে উল্লেখ করা, বিনিয়োগ বাড়ানোর আগ্রহ প্রকাশ এবং প্রতিরক্ষা ও আঞ্চলিক বিষয়ে ইতিবাচক আলোচনা—সব মিলিয়ে দুই দেশের সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ করার একটি নতুন পর্যায়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে। বিশেষ করে মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে বাংলাদেশের সম্ভাব্য অংশগ্রহণ নিয়ে আলোচনা চলার সময়ে সৌদি নেতৃত্বের এই বার্তা ঢাকার জন্য কূটনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

সূত্রঃ বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

এম.কে

আরো পড়ুন

অস্থায়ী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার বিদেশ সফরঃ জনবিচ্ছিন্নতা নাকি ব্যক্তিগত ব্র‍্যান্ডিং!

তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বহাল করার বিষয়ে সবাই একমতঃ বদিউল আলম

প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী খোদা বকশ চৌধুরীর পদত্যাগ