TV3 BANGLA
বাংলাদেশ

বাংলাদেশী ব্লগার সানিউর রহমান উরফে ঋষিকেশ সত্যসাধু ভারতে আটক

ভারতের উত্তরাখণ্ড রাজ্যের ঋষিকেশে বিশেষ অভিযানে বাংলাদেশি ব্লগার সানিউর রহমান (উরফে সত্যসাধু) গ্রেফতার হয়েছেন। উত্তরাখণ্ড পুলিশের পরিচালিত ‘অপারেশন কালনেমি’ (বা ‘অপারেশন প্রহার’) চলাকালে তাকে আটক করা হয়। বর্তমানে রাজ্যটিতে পুষ্কর সিং ধামির নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকার ক্ষমতায় রয়েছে, যারা অনুপ্রবেশ ও অবৈধ কর্মকাণ্ড দমনে কঠোর অবস্থান নিয়েছে বলে জানা গেছে।

 

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সানিউর রহমান ২০১৬ সালে নেপাল হয়ে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করেন। বৈধ পাসপোর্ট বা ভিসা ছাড়াই তিনি দীর্ঘদিন ধরে উত্তর প্রদেশের গাজিয়াবাদ, পশ্চিমবঙ্গ এবং দিল্লিতে অবস্থান করছিলেন। নিজের প্রকৃত পরিচয় গোপন রাখতে তিনি ‘সত্যনিষ্ঠা আর্য’ নামে ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করেন এবং জাল নথির মাধ্যমে একটি আধার কার্ড সংগ্রহ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

পরবর্তীতে তিনি ঋষিকেশের লক্ষ্মণ ঝুলা এলাকায় হিন্দু সাধুর ছদ্মবেশ ধারণ করে ধর্মীয় ও দার্শনিক বক্তব্য দিতে শুরু করেন। এ সময় তিনি স্থানীয়ভাবে একটি পরিচিতি তৈরি করলেও, তার প্রকৃত পরিচয় গোপনই ছিল।

সানিউর রহমানের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে ভারতে বসবাস এবং জাল নথিপত্র ব্যবহারের অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট আইন অনুযায়ী এসব অভিযোগে দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে হতে পারে এবং জামিন পাওয়া কঠিন হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এদিকে, তদন্তকারীরা তার সম্ভাব্য উগ্রপন্থী গোষ্ঠীর সঙ্গে যোগাযোগ এবং আর্থিক উৎস খতিয়ে দেখছেন। পাশাপাশি, ভারতের সংখ্যালঘু খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগও তার বিরুদ্ধে উঠেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে খ্রিস্টানদের সঙ্গে তার আপত্তিকর আচরণের দৃশ্য দেখা গেছে বলে দাবি করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, সানিউর রহমান একসময় শাহবাগ আন্দোলনের সক্রিয় নাস্তিক ব্লগার হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তার জন্ম সৌদি আরবে এবং পৈতৃক নিবাস বাংলাদেশের ফরিদপুর জেলায়। ২০১৩ সালের ৭ মার্চ ঢাকার মিরপুর এলাকায় ইসলামী মৌলবাদীদের হামলায় তিনি গুরুতর আহত হন।

বিশ্লেষকরা বলছেন, একই সময়ের অন্যান্য বাংলাদেশি নাস্তিক ব্লগাররা যেখানে নেপালের মাধ্যমে জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থার সহায়তায় ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার বিভিন্ন দেশে আশ্রয় নিয়েছেন, সেখানে সানিউর রহমানের অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ রহস্যজনক।

ভারতীয় পুলিশ এখন তদন্ত করছে—খ্রিস্টানদের প্রতি তার আচরণ ব্যক্তিগত বিদ্বেষের ফল, নাকি বৃহত্তর কোনো উদ্দেশ্যপ্রণোদিত চক্রান্তের অংশ। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে চূড়ান্ত কোনো মন্তব্য করতে নারাজ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

সূত্রঃ স্যোশাল মিডিয়া

এম.কে

আরো পড়ুন

ডিসেম্বরে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ বিষয়ে বাংলাদেশ-ভারত বৈঠক

নিউজ ডেস্ক

রিজার্ভের পরিমাণ জানালো বাংলাদেশ ব্যাংক

নিউজ ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্রে টি-শার্ট রপ্তানিতে নিকারাগুয়া-চীনকে পিছিয়ে দিল বাংলাদেশ