বিদেশ ভ্রমণের ক্ষেত্রে বাংলাদেশি নাগরিকদের বার্ষিক বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবহারের সীমা বাড়িয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এখন থেকে একজন প্রাপ্তবয়স্ক বাংলাদেশি নাগরিক এক পঞ্জিকাবর্ষে বিদেশ ভ্রমণের জন্য সর্বোচ্চ ১৮ হাজার মার্কিন ডলার বা সমপরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা খরচ করতে পারবেন। এতদিন এই সীমা ছিল ১২ হাজার ডলার।
রোববার এ বিষয়ে একটি পরিপত্র জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নতুন নির্দেশনার ফলে বিদেশ ভ্রমণের জন্য অনুমোদিত ডিলার বা এডি ব্যাংকগুলো একজন প্রাপ্তবয়স্ক বাংলাদেশি নাগরিককে এক বছরে সর্বোচ্চ ১৮ হাজার ডলার বা সমপরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা ছাড় করতে পারবে।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, বাংলাদেশি নাগরিকদের বিদেশ ভ্রমণসংক্রান্ত বৈদেশিক মুদ্রার ‘প্রকৃত চাহিদা’ পূরণ এবং আন্তর্জাতিক ভ্রমণের পরিবর্তিত প্রয়োজন বিবেচনায় নিয়ে বার্ষিক ব্যয়সীমা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তবে ভ্রমণ ব্যয়ের মোট সীমা ১৮ হাজার ডলারে উন্নীত হলেও নগদ বৈদেশিক মুদ্রা সঙ্গে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে আগের নিয়মই বহাল থাকছে। অর্থাৎ, একজন ভ্রমণকারী সর্বোচ্চ ৫ হাজার মার্কিন ডলার নোট আকারে নিতে পারবেন।
বাকি অর্থ ভ্রমণসংক্রান্ত বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবহারের অনুমোদিত অন্যান্য পদ্ধতিতে ব্যয় করা যাবে। ফলে নতুন সিদ্ধান্তে ভ্রমণকারীদের মোট বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবহারের সুযোগ বাড়লেও হাতে নগদ ডলার বহনের সীমায় কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি।
১২ বছরের কম বয়সী শিশুদের ক্ষেত্রেও আগের নিয়ম বহাল রাখা হয়েছে। তারা প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য নির্ধারিত ভ্রমণসীমার ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবহারের সুযোগ পাবে। নতুন সীমা অনুযায়ী, ১২ বছরের কম বয়সী একজন শিশু এক পঞ্জিকাবর্ষে সর্বোচ্চ ৯ হাজার ডলার বা সমপরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবহারের সুযোগ পাবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা নীতি বিভাগের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, ১২ বছরের বেশি বয়সীদের প্রাপ্তবয়স্ক হিসেবে বিবেচনা করে বছরে ১৮ হাজার ডলার পর্যন্ত ভ্রমণ কোটা দেওয়া হবে। এর চেয়ে কম বয়সীদের ‘মাইনর’ হিসেবে বিবেচনা করা হবে এবং তারা প্রাপ্তবয়স্কদের তুলনায় অর্ধেক সীমা ব্যবহার করতে পারবে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই সিদ্ধান্তের ফলে বিদেশ ভ্রমণকারী বাংলাদেশিদের বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবহারের সুযোগ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ল। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক ভ্রমণের ব্যয় বৃদ্ধি এবং বিদেশে ভ্রমণসংক্রান্ত বিভিন্ন খাতে বেশি অর্থের প্রয়োজনের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে এই সীমা পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে।
এর আগে একজন প্রাপ্তবয়স্ক বাংলাদেশি নাগরিকের বিদেশ ভ্রমণের জন্য বছরে সর্বোচ্চ ১২ হাজার ডলার পর্যন্ত বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবহারের সুযোগ ছিল। নতুন সিদ্ধান্তে সেই সীমা ৬ হাজার ডলার বাড়িয়ে ১৮ হাজার ডলার করা হয়েছে।
তবে নগদ ডলার বহনের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৫ হাজার ডলারের সীমা অপরিবর্তিত থাকায় ভ্রমণকারীদের পুরো ১৮ হাজার ডলার নোট আকারে সঙ্গে নেওয়ার সুযোগ থাকছে না।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, বিদেশ ভ্রমণের জন্য বৈদেশিক মুদ্রা ছাড়ের ক্ষেত্রে অনুমোদিত ডিলার ব্যাংকগুলো নির্ধারিত নিয়ম অনুসরণ করবে। ফলে ভ্রমণকারীদের বৈদেশিক মুদ্রা সংগ্রহের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের প্রক্রিয়া ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের নিয়ম মেনে চলতে হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের এই পদক্ষেপকে আন্তর্জাতিক ভ্রমণের পরিবর্তিত বাস্তবতা এবং বাংলাদেশি নাগরিকদের বৈদেশিক মুদ্রার চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সূত্রঃ বাংলাদেশ ব্যাংকের জারি করা পরিপত্র/সার্কুলার
এম.কে

