যুক্তরাজ্যের সংবাদমাধ্যম ডেইলি মিররের এক প্রতিবেদনে আনা ক্রিস্টিনা নামের এক নারীর মৃত্যুর কাছাকাছি অভিজ্ঞতার কথা উঠে এসেছে। তার অভিযোগ, স্বামী তার খাবারে বিষ মিশিয়ে তাকে হত্যার চেষ্টা করেছিলেন। ওই ঘটনার পর তিনি সাময়িকভাবে অবশ হয়ে পড়েন এবং নিজের জীবন নিয়ে আশঙ্কায় ছিলেন। তবে সেই অভিজ্ঞতার পর মৃত্যু নিয়ে তার ভয় অনেকটাই কেটে গেছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
আনা ক্রিস্টিনা জানান, ঘটনার পর সুস্থ হয়ে ওঠার সময় তিনি বুঝতে পারছিলেন না তার শরীরে কী ঘটেছিল। প্রথমে তার আশঙ্কা হয়েছিল, তিনি হয়তো হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন অথবা স্ট্রোক করেছিলেন। কিন্তু ইসিজি ও মস্তিষ্কের স্ক্যান পরীক্ষায় এমন সমস্যার প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
পরে তার আইনজীবীর পরামর্শে চুলের ফরেনসিক পরীক্ষা করানো হয়। আনার দাবি, পরীক্ষাগারের প্রতিবেদনে তার শরীরে সিসা, পারদ ও সেলেনিয়ামসহ কয়েকটি ধাতুর উচ্চমাত্রার উপস্থিতির ইঙ্গিত পাওয়া যায়। তার ধারণা, এসব উপাদান ইঁদুর মারার বিষের সঙ্গে সম্পর্কিত। তিনি অভিযোগ করেন, স্বামী তার রাতের খাবারের ভাতে বিষ মিশিয়েছিলেন, যাতে তিনি মিসরে যেতে না পারেন।
‘এনডিই জার্নি’ নামের একটি ইউটিউব চ্যানেলে নিজের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে আনা বলেন, মৃত্যুর কাছাকাছি অবস্থায় তিনি তার প্রয়াত মা, বাবা ও বোন নাদিয়াকে দেখেছেন বলে মনে করেন। তার মা ওই ঘটনার প্রায় এক বছর আগে মারা যান। আর আনার বয়স যখন ২২ বছর, তখন তার বাবা গাড়ি দুর্ঘটনায় নিহত হন। তার বোন নাদিয়া ৩৫ বছর বয়সে আত্মহত্যা করেছিলেন।
আনার ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্বজনদের মানুষের স্বাভাবিক অবয়বে নয়, বরং উজ্জ্বল আলোর অবয়বে দেখেছিলেন। প্রথমে তার মাকে দেখতে পান, যিনি তাকে স্বাগত জানানোর জন্য অপেক্ষা করছিলেন। আনা বলেন, মায়ের মুখের কোনো বৈশিষ্ট্য দেখতে না পেলেও তিনি সঙ্গে সঙ্গেই বুঝতে পেরেছিলেন, ওই আলোকময় অবয়বটি তার মায়ের।
এরপর বোন নাদিয়াকে দেখেছেন বলেও দাবি করেন আনা। তিনি বলেন, বোনের মৃত্যুর পর থেকে তার মনে প্রশ্ন ছিল, নাদিয়া কোথায় আছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, নাদিয়া ছিলেন সুন্দর মনের মানুষ, কিন্তু গভীর বিষণ্নতার মধ্য দিয়ে যাওয়ার পর নিজের জীবন শেষ করে দেন।
আনা আরও জানান, ওই অভিজ্ঞতার সময় তিনি তার বাবাকেও দেখতে পান। ২২ বছর বয়সে বাবাকে হারানোর শোক তিনি কখনো পুরোপুরি কাটিয়ে উঠতে পারেননি। বাবাকে আবার দেখার অভিজ্ঞতা তার জন্য গভীর আনন্দ ও মানসিক প্রশান্তি নিয়ে আসে বলে জানান তিনি।
আনা ক্রিস্টিনার দাবি, মৃত্যুর কাছাকাছি ওই অভিজ্ঞতার পর তিনি আর আগের মতো মৃত্যুকে ভয় পান না। তার মতে, জীবনে সুখ-দুঃখ ও নানা উত্থান-পতন থাকলেও তিনি মৃত্যুর পরের জগতে শান্তি, আনন্দ ও ভালোবাসার অনুভূতি পেয়েছেন।
তিনি বলেন, ওই সময় তার মনে হয়নি যে তিনি মারা গেছেন। তার কাছে মনে হয়েছিল, কোনো কিছুর শেষ বা শুরু নেই; তিনি কেবল এগিয়ে যাচ্ছিলেন। নিজের জীবনের প্রতিটি ছোট বিষয়েও স্রষ্টার উপস্থিতি উপলব্ধি করার অভিজ্ঞতাকে তিনি আশীর্বাদ হিসেবে বর্ণনা করেন। তার বিশ্বাস, মানুষ একা নয় এবং মৃত্যুর সময়ও একা থাকে না।
সূত্রঃ ডেইলি মিরর
এমকে

