6.9 C
London
February 5, 2026
TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

‘বেআইনি হত্যাযজ্ঞে’ সহায়তা নয় — মার্কিন মাদকবিরোধী অভিযানে থেকে সরে গেল যুক্তরাজ্য

যুক্তরাজ্য যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ক্যারিবীয় অঞ্চলে সন্দেহভাজন মাদকবাহী নৌযান নিয়ে গোয়েন্দা তথ্য ভাগাভাগি স্থগিত করেছে। কারণ, যুক্তরাষ্ট্র ওই তথ্য ব্যবহার করে যেসব প্রাণঘাতী হামলা চালাচ্ছে, সেগুলোকে আন্তর্জাতিক আইনবিরোধী বলে মনে করছে লন্ডন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছে সিএনএনের একাধিক সূত্র।

দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্র একসঙ্গে কাজ করে আসছে ক্যারিবীয় অঞ্চলে মাদক পাচার ঠেকাতে। যুক্তরাজ্য তার নিয়ন্ত্রিত দ্বীপাঞ্চলগুলো থেকে তথ্য সরবরাহ করত, যাতে মার্কিন কোস্টগার্ড পাচারকারী জাহাজ আটক ও তল্লাশি করতে পারে। কিন্তু সেপ্টেম্বর থেকে যুক্তরাষ্ট্র নৌ-হামলা শুরু করলে ব্রিটেন আশঙ্কা করে—তাদের দেওয়া তথ্য হয়তো এখন প্রাণঘাতী অভিযানে ব্যবহৃত হচ্ছে।

সিএনএনের তথ্যমতে, মার্কিন সামরিক হামলায় এখন পর্যন্ত ৭৬ জন নিহত হয়েছে। জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রধান ফোলকার টার্ক এই হামলাগুলোকে আন্তর্জাতিক আইনবিরোধী ও “বিচারবহির্ভূত হত্যা” হিসেবে বর্ণনা করেছেন। যুক্তরাজ্যও জাতিসংঘের এই মূল্যায়নের সঙ্গে একমত। গত মাসখানেক আগে থেকেই ব্রিটিশ গোয়েন্দা সহযোগিতা স্থগিত আছে বলে জানানো হয়েছে।

ব্রিটিশ দূতাবাস ও হোয়াইট হাউস বিষয়টি নিয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। তবে পেন্টাগনের এক কর্মকর্তা সিএনএনকে বলেছেন, “গোয়েন্দা সংক্রান্ত বিষয়ে মন্তব্য করা আমাদের নীতি নয়।”

এর আগে মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করত আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও কোস্টগার্ড, যেখানে পাচারকারীদের অপরাধী হিসেবে গ্রেপ্তার করা হতো। কিন্তু ট্রাম্প প্রশাসন যুক্তি দিয়েছে—এরা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য “তাৎক্ষণিক হুমকি”, তাই সামরিকভাবে “শত্রু যোদ্ধা” হিসেবে মোকাবিলা করা যায়। এই যুক্তিতে হামলাকে বৈধতা দিতে বিচার বিভাগের একটি গোপন আইনি মতামতও রয়েছে।

তবে আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, “ল অফ আর্মড কনফ্লিক্ট” অনুযায়ী এই ধরনের বেসামরিক পাচারকারীদের হত্যা আইনসিদ্ধ নয়। অনেক ক্ষেত্রে দেখা গেছে, হামলার সময় নৌযানগুলো হয় স্থির ছিল বা ঘুরে যাচ্ছিল—যা ‘তাৎক্ষণিক হুমকি’র যুক্তিকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।

মার্কিন সামরিক অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোর মধ্যেও বিভাজন দেখা দিয়েছে। কানাডা জানিয়েছে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের কোস্টগার্ডের সঙ্গে যৌথভাবে পরিচালিত “অপারেশন ক্যারিবিয়ান” চালিয়ে যাবে, তবে তাদের সরবরাহ করা তথ্য যেন কোনো প্রাণঘাতী হামলায় ব্যবহার না হয় — তা স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে।

কানাডার প্রতিরক্ষা দপ্তরের এক মুখপাত্র দেশটির গণমাধ্যমকে বলেছেন, “অপারেশন ক্যারিবিয়ান সম্পূর্ণভাবে মার্কিন সামরিক হামলা থেকে আলাদা ও স্বতন্ত্র কার্যক্রম।”

সূত্রঃ সিএনএন

এম.কে

আরো পড়ুন

অষ্টম সন্তানের বাবা হলেন বরিস জনসন

নৌকা ফেরাও, শরনার্থী আইন আসছে ব্রিটেনে

লকডাউনে পার্টির ঘটনায় বরিস জনসন ও রিশি সুনাককে জরিমানা