যুক্তরাজ্যের পাশাপাশি অন্য একটি দেশের নাগরিকত্বধারী (দ্বৈত নাগরিক) ব্যক্তিদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি নির্দেশনা পুনরায় সামনে এনেছে ব্রিটিশ সরকার। সরকারি নির্দেশিকায় স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, কোনো ব্রিটিশ দ্বৈত নাগরিক যদি তার দ্বিতীয় নাগরিকত্বের দেশে অবস্থান করেন, তাহলে সেখানে তিনি সাধারণভাবে যুক্তরাজ্য সরকারের কনস্যুলার বা কূটনৈতিক সহায়তা পাওয়ার অধিকারী হবেন না।
সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, একজন ব্যক্তি যখন এমন একটি দেশে অবস্থান করেন, যার নাগরিকত্বও তিনি ধারণ করেন, তখন সেই দেশ তাকে নিজেদের নাগরিক হিসেবেই বিবেচনা করে। ফলে ওই দেশে অবস্থানকালে যুক্তরাজ্যের দূতাবাস বা কনস্যুলেটের মাধ্যমে কনস্যুলার সুরক্ষা দেওয়ার সুযোগ অত্যন্ত সীমিত বা অনেক ক্ষেত্রে সম্ভব হয় না।
বিষয়টি ব্যাখ্যা করতে সরকারি নির্দেশিকায় একটি উদাহরণও তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি যদি একই সঙ্গে ব্রিটিশ ও ফরাসি নাগরিক হন, তাহলে তিনি ফ্রান্সে অবস্থানকালে ব্রিটিশ সরকারের কূটনৈতিক সহায়তা দাবি করতে পারবেন না। কারণ সে ক্ষেত্রে তাকে প্রথমে ফ্রান্সের নাগরিক হিসেবেই বিবেচনা করা হবে।
এই বিধান বিশেষ করে জরুরি পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। যেমন—কোনো ব্যক্তি চিকিৎসাজনিত সংকটে পড়লে, আইনি জটিলতার মুখোমুখি হলে অথবা তার পাসপোর্ট হারিয়ে গেলে বা চুরি হলে সাধারণভাবে নিজ দেশের দূতাবাসের সহায়তা নেওয়া হয়। কিন্তু দ্বৈত নাগরিকরা যদি তাদের দ্বিতীয় নাগরিকত্বের দেশেই অবস্থান করেন, তাহলে এসব ক্ষেত্রে ব্রিটিশ দূতাবাসের সহায়তা পাওয়ার সুযোগ সীমিত থাকতে পারে।
সরকারি নির্দেশিকায় ভ্রমণ সংক্রান্ত আরও কিছু বিষয়ও পরিষ্কার করা হয়েছে। যুক্তরাজ্যে প্রবেশের ক্ষেত্রে দ্বৈত নাগরিকরা বৈধ ব্রিটিশ বা আইরিশ পাসপোর্ট কিংবা সার্টিফিকেট অব এনটাইটেলমেন্ট ব্যবহার করতে পারেন। কিছু বিশেষ ক্ষেত্রে ১৯৮৯ সালের পর ইস্যু করা মেয়াদোত্তীর্ণ ব্রিটিশ পাসপোর্টও গ্রহণযোগ্য হতে পারে, যদি যাত্রীর কাছে এমন একটি দেশের বৈধ পাসপোর্ট থাকে, যার নাগরিকরা Electronic Travel Authorisation (ETA)-এর আওতাভুক্ত। তবে ব্রিটিশ ও আইরিশ দ্বৈত নাগরিকরা ETA-এর জন্য আবেদন করতে পারবেন না।
নির্দেশিকায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে, কেবলমাত্র কোনো ব্রিটিশ নাগরিককে বিয়ে করলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে ব্রিটিশ নাগরিকত্ব পাওয়া যায় না। বিদেশি স্বামী বা স্ত্রীকে নির্ধারিত নিয়মে পৃথকভাবে নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে হয়।
এছাড়া বিদেশে জন্ম নেওয়া সন্তানও স্বয়ংক্রিয়ভাবে ব্রিটিশ নাগরিকত্ব লাভ করে না। সন্তানের নাগরিকত্ব নির্ধারণে যুক্তরাজ্যের আইন এবং সংশ্লিষ্ট অন্য দেশের নাগরিকত্ব আইন—উভয়ই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
যুক্তরাজ্য সরকার আরও জানিয়েছে, ব্রিটিশ নাগরিকত্ব গ্রহণের সময় বিদ্যমান নাগরিকত্ব ত্যাগ করা বাধ্যতামূলক নয়। একইভাবে, কোনো ব্রিটিশ নাগরিক অন্য দেশের নাগরিকত্ব গ্রহণ করলেও তাকে ব্রিটিশ নাগরিকত্ব পরিত্যাগ করতে হয় না। তবে সব দেশ দ্বৈত নাগরিকত্ব স্বীকৃতি দেয় না। তাই অন্য দেশের নাগরিকত্ব গ্রহণের আগে সংশ্লিষ্ট দেশের আইন সম্পর্কে সে দেশের দূতাবাস বা কনস্যুলেট থেকে তথ্য জেনে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে ব্রিটিশ সরকার।
সরকারের এই নির্দেশনা দ্বৈত নাগরিকদের জন্য বিদেশ ভ্রমণ, নাগরিকত্ব এবং কনস্যুলার সুরক্ষা সম্পর্কিত বিষয়গুলো সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
সূত্রঃ লিজিট এনজি
এম.কে

