17.5 C
London
September 10, 2026
TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

ব্রিটিশ নাগরিকত্বে রেকর্ড ফিঃ প্রশাসনিক খরচের পাঁচ গুণেরও বেশি নিচ্ছে হোম অফিস

ব্রিটিশ নাগরিকত্বের জন্য আবেদনকারীদের কাছ থেকে আবেদন প্রক্রিয়াকরণের প্রকৃত প্রশাসনিক খরচের পাঁচ গুণেরও বেশি অর্থ নেওয়া হচ্ছে বলে নতুন এক বিশ্লেষণে উঠে এসেছে। হোম অফিসের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, নাগরিকত্বের আবেদন প্রক্রিয়াকরণে আনুমানিক খরচ ৩২৪ পাউন্ড হলেও আবেদনকারীদের কাছ থেকে নেওয়া হচ্ছে ১ হাজার ৭০৯ পাউন্ড। 
ইনস্টিটিউট ফর পাবলিক পলিসি রিসার্চের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ৬ শতাংশ ফি বৃদ্ধির পর ব্রিটিশ নাগরিকত্বের স্বাভাবিকীকরণ আবেদনের ফি দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৭০৯ পাউন্ড। এর সঙ্গে সফল আবেদনকারীদের নাগরিকত্ব গ্রহণের অনুষ্ঠানের জন্য আরও ১৩০ পাউন্ড দিতে হয়। ফলে নাগরিকত্ব পাওয়ার ক্ষেত্রে মোট খরচ দাঁড়ায় ১ হাজার ৮৩৯ পাউন্ড।
প্রায় সব আবেদনকারীর জন্য নাগরিকত্ব গ্রহণের অনুষ্ঠান বাধ্যতামূলক। নাগরিকত্বের আবেদন সফল হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর তিন মাসের মধ্যে এই অনুষ্ঠানের জন্য বুকিং করতে হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অন্যান্য জি-৭ দেশের তুলনায় ব্রিটেনে নাগরিকত্বের আবেদন ফি উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। ব্রিটেনে ১ হাজার ৭০৯ পাউন্ডের এই ফি যুক্তরাষ্ট্রের ৫৬২ পাউন্ডের তুলনায় তিন গুণেরও বেশি এবং জি-৭ দেশগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ।
নাগরিকত্বের আবেদনের আগেও অনেক অভিবাসীকে কয়েক হাজার পাউন্ড ভিসা ফি দিতে হয়। এর পাশাপাশি তাদের প্রত্যেককে বছরে ১ হাজার ৩৫ পাউন্ড করে বাধ্যতামূলক ইমিগ্রেশন হেলথ চার্জ দিতে হয়। ফলে ব্রিটিশ নাগরিকত্বের চূড়ান্ত আবেদন পর্যায়ে পৌঁছানোর আগেই অনেক দীর্ঘমেয়াদি অভিবাসীর উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ ব্যয় হয়ে যায়।
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের শরণার্থী ও অভিবাসন অধিকারবিষয়ক নীতিনির্ধারণী প্রধান স্টিভ ভালদেজ-সিমন্ডস বলেন, ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন সরকার উচ্চ ফি নির্ধারণের মাধ্যমে যুক্তরাজ্যের অভিবাসন ব্যবস্থার খরচ করদাতাদের পরিবর্তে অভিবাসীদের ওপর স্থানান্তর করেছে। তার বক্তব্য অনুযায়ী, এই ব্যবস্থার ভুল ও বিলম্বের খরচও এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে।
রিফিউজি কাউন্সিলের বৈদেশিক বিষয়বিষয়ক পরিচালক ইমরান হুসেইন বলেন, অতীতে নাগরিকত্বকে ব্রিটিশ সমাজে সফলভাবে একীভূত হওয়ার একটি প্রতীক হিসেবে উৎসাহিত করা হতো। কিন্তু ক্রমবর্ধমান আর্থিক বাধা বিশেষ করে শরণার্থীদের জন্য নাগরিকত্বের পথ কঠিন করে তুলতে পারে।
ইনস্টিটিউট ফর পাবলিক পলিসি রিসার্চের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উচ্চ নাগরিকত্ব ফি দীর্ঘদিন ধরে ব্রিটেনে বসবাসকারী অনেক মানুষের নাগরিকত্ব অর্জনের সুযোগ সীমিত করতে পারে। এর ফলে ব্রিটেনে দীর্ঘদিন ধরে জীবন গড়ে তোলা কিছু মানুষ পূর্ণ রাজনৈতিক ও নাগরিক অংশগ্রহণের বাইরে থেকে যেতে পারেন।
থিংকট্যাংকটি নাগরিকত্বের ফি প্রশাসনিক খরচের কাছাকাছি পর্যায়ে নামিয়ে আনার সুপারিশ করেছে। পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি বাসিন্দাদের জন্য নাগরিকত্বের আরও স্পষ্ট পথ তৈরির আহ্বান জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে লাইফ ইন দ্য ইউকে পরীক্ষার পরিবর্তে নতুন নাগরিকত্ব কোর্স ও পরীক্ষা চালুরও সুপারিশ করা হয়েছে। এতে কমিউনিটি জীবন, যুক্তরাজ্যের প্রতিষ্ঠান এবং অভিন্ন মূল্যবোধের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
প্রতিবেদনের লেখক মার্লি মরিস বলেন, দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাজ্যে বসবাসকারী মানুষদের ব্রিটিশ সমাজের পূর্ণ অংশ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করতে হলে নাগরিকত্ব পাওয়ার জন্য একটি স্পষ্ট ও সাশ্রয়ী পথ থাকা প্রয়োজন।
সাবেক লেবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী ডেভিড ব্লাঙ্কেটও নাগরিকত্ব ও গণতন্ত্রকে স্কুলের পাঠ্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি অনুমোদিত ভিসা বা পুনর্বাসন ব্যবস্থার আওতায় থাকা ব্যক্তিদের মধ্যে যারা ইংরেজি ভাষার কোর্স সম্পন্ন করবেন এবং কমিউনিটির প্রতি দায়িত্বশীলতার প্রমাণ দেবেন, তাদের জন্য আগাম অনির্দিষ্টকালের বসবাসের অনুমতি দেওয়ার প্রস্তাব করেছেন।
এদিকে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী শাবানা মাহমুদের অভিবাসন ও স্থায়ী বসবাসসংক্রান্ত পরিকল্পনাও আলোচনায় রয়েছে। চলতি বছরের বসন্তে তিনি অনেক অভিবাসীর স্থায়ী মর্যাদা পাওয়ার অপেক্ষার সময় বর্তমান পাঁচ বছর থেকে বাড়িয়ে ১০ বছর করার পরিকল্পনা ঘোষণা করেছিলেন। তবে লেবার দলের পেছনের সারির এমপিদের বিদ্রোহের হুমকি এবং অ্যান্ডি বার্নহ্যাম প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর এই প্রস্তাব কিছুটা শিথিল করার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে বলে দ্য গার্ডিয়ান জানিয়েছে।
অন্যদিকে, হোম অফিস নাগরিকত্ব ও অভিবাসন ফি থেকে মুনাফা করার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। তাদের বক্তব্য, প্রক্রিয়াকরণের খরচের চেয়ে বেশি ফি থেকে পাওয়া অর্থ অভিবাসন ব্যবস্থার অন্যান্য কার্যক্রম পরিচালনায় ব্যবহার করা হয়।
হোম অফিসের এক মুখপাত্র বলেন, যারা যুক্তরাজ্যে এসে জাতীয় জীবনে অবদান রাখেন, তাদের স্বাগত জানানো হয়। তবে ব্রিটিশ নাগরিকত্ব একটি বিশেষ অধিকার এবং অভিবাসন ও সীমান্ত ব্যবস্থার সুবিধা গ্রহণকারীদের ওই ব্যবস্থার পরিচালন ব্যয়ে অবদান রাখা উচিত, যাতে করদাতাদের ওপর চাপ কমানো যায়।
সূত্রঃ দ্য গার্ডিয়ান
এম.কে

আরো পড়ুন

যুক্তরাজ্যে আসছে ভাড়াটিয়া অধিকার বিল

নিউজ ডেস্ক

আকস্মিক সফরে যুক্তরাজ্যে জেলেনস্কি

ভিসা বিলম্বের কারণে ব্রিটিশদের ভারত ভ্রমণ ব্যাহত