সন্ত্রাসবাদ-সংক্রান্ত মামলায় ছেলের দণ্ডকে কেন্দ্র করে যুক্তরাজ্যের গ্রেটার ম্যানচেস্টারের বারি কাউন্সিলে রাজনৈতিক বিতর্ক তীব্র আকার ধারণ করেছে। লেবার দলের হাউজিং সার্ভিসেসবিষয়ক ক্যাবিনেট সদস্য ও ব্রিটিশ-বাংলাদেশি কাউন্সিলর আয়েশা আরিফের তাৎক্ষণিক পদত্যাগ দাবি করেছে বিরোধী দল রিফর্ম ইউকে। একই সঙ্গে ঘটনাটি নিয়ে তদন্তেরও দাবি জানানো হয়েছে।
রিফর্ম ইউকের কাউন্সিলর শাদমান জামান বলেন, তিনি আয়েশা আরিফকে তার ছেলের অপরাধের জন্য দায়ী করছেন না। তবে আদালতে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, পরিবারের সদস্যরা ছেলের উগ্রপন্থায় জড়িয়ে পড়ার বিষয়টি জানলেও সেটি প্রিভেন্ট কর্মসূচি, সন্ত্রাসবাদবিরোধী পুলিশ বা সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা সংস্থাকে অবহিত করেননি। একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির ক্ষেত্রে এমন সিদ্ধান্ত জনস্বার্থ ও সুরক্ষা ব্যবস্থার দৃষ্টিকোণ থেকে গুরুতর প্রশ্নের জন্ম দেয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।
ম্যানচেস্টার ক্রাউন কোর্টে ২০ বছর বয়সী মুহাম্মদ জাকির আরিফকে তিন বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি কারাভোগ শেষে আরও এক বছর লাইসেন্সের আওতায় থাকতে হবে এবং তার বিরুদ্ধে পাঁচ বছরের সিরিয়াস ক্রাইম প্রিভেনশন অর্ডার জারি করা হয়েছে।
আদালতে তিনি সন্ত্রাসবাদ আইন ২০০০-এর ৫৮ ধারায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে সহায়ক উপকরণ রাখার চারটি অভিযোগ এবং কারাগার আইন ১৯৫২ অনুযায়ী কারাগারের নিরাপত্তা লঙ্ঘনের তিনটি অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন।
আদালতে উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, তার কাছ থেকে অগ্নিসংযোগ, দাবানল সৃষ্টি এবং সন্ত্রাসী হামলার কৌশলসংক্রান্ত বিভিন্ন নথি উদ্ধার করা হয়। তদন্তকারীরা ২০২৩ সালের কিছু হোয়াটসঅ্যাপ বার্তাও উদ্ধার করেন, যেখানে তিনি বিদেশে গিয়ে সন্ত্রাসী হামলা চালানোর ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন বলে আদালতে জানানো হয়।
আদালতে আরও বলা হয়, আয়েশা আরিফ এবং তার মেয়ে ব্যক্তিগতভাবে জাকির আরিফকে এ পথ থেকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করেছিলেন এবং তাকে একজন দায়িত্বশীল ছেলে হিসেবে থাকার আহ্বান জানিয়েছিলেন। তবে বিষয়টি প্রিভেন্ট, সন্ত্রাসবাদবিরোধী পুলিশ বা অন্য কোনো আইনগত সুরক্ষা সংস্থাকে জানানো হয়নি।
শুনানিতে আরও উঠে আসে, ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে জাকির আরিফ একটি পৃথক মামলায় কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন। ওই সময় জিজ্ঞাসাবাদের সময় তিনি উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় সন্ত্রাসবাদবিরোধী পুলিশের এক গোয়েন্দার ওপর হামলা চালিয়ে শ্বাসরোধের চেষ্টা করেন। একই মামলায় তার বিরুদ্ধে ছুরি বহন এবং ডাকাতির অভিযোগও ছিল।
পরে কারাগারে থাকা অবস্থায় তার কক্ষ থেকে দুটি অবৈধ মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়, যেগুলো ব্যবহার করে তিনি কারাগারের বাইরে থাকা ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন বলেও আদালতে জানানো হয়।
রায় ঘোষণার সময় বিচারক বলেন, আসামির মধ্যে পুনর্বাসনের কোনো আগ্রহ দেখা যায়নি। তিনি মন্তব্য করেন, অল্প বয়স এবং দ্রুত দোষ স্বীকার করায় সাজা কমানো হয়েছে। অন্যথায় তাকে ছয় বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হতে পারত।
এদিকে বিরোধী কাউন্সিলররা বারি কাউন্সিলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিতভাবে একটি স্বাধীন তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তাদের দাবি, মামলার কোনো পর্যায়ে কাউন্সিলের অর্থ, সম্পদ বা সুযোগ-সুবিধা ব্যবহার করা হয়েছে কি না, তা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা উচিত।
তবে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, আদালত কাউন্সিলর আয়েশা আরিফের বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি অভিযোগ আনেনি এবং তাকে ছেলের অপরাধের সঙ্গে জড়িত বলেও কোনো মন্তব্য করেনি। বর্তমানে তার বিরুদ্ধে পদত্যাগের দাবি এবং স্বাধীন তদন্তের আহ্বান সম্পূর্ণ রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক জবাবদিহির প্রশ্নকে কেন্দ্র করেই উত্থাপিত হয়েছে।
সূত্রঃ জিবি নিউজ
এম.কে

