26.8 C
London
August 17, 2026
TV3 BANGLA
আন্তর্জাতিক

‘ব্রিটিশদের পানির নিচে শ্বাস নিতে শেখান’—যুক্তরাজ্যকে ভয় দেখিয়ে রাশিয়ার নতুন যুদ্ধবার্তা

ইউক্রেন যুদ্ধে যুক্তরাজ্যের সামরিক সহায়তাকে কেন্দ্র করে নতুন করে তীব্র হুমকি ছুড়েছে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের প্রভাবশালী মুখ ও ক্রেমলিনপন্থী রাজনীতিকরা। তারা দাবি করেছেন, ব্রিটেনকে মাত্র তিন দিনের মধ্যে ধ্বংস করা সম্ভব এবং প্রয়োজন হলে ‘পোসেইডন’ নামের পানির নিচের পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার করে দেশটিকে তেজস্ক্রিয় জলোচ্ছ্বাসে ডুবিয়ে দেওয়া হবে।

রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের উপস্থাপক ভ্লাদিমির সলোভিয়ভ এক অনুষ্ঠানে বলেন, “ব্রিটিশদের তিন দিন সময় দিন পানির নিচে শ্বাস নিতে শেখার জন্য, তারপর পোসেইডন দিয়ে আঘাত করুন।” তার অভিযোগ, যুক্তরাজ্যের তৈরি ড্রোন এখন রাশিয়ার গভীরে হামলায় ব্যবহৃত হচ্ছে এবং এর জবাবে কঠোর প্রতিশোধ নেওয়া উচিত।

সলোভিয়ভ আরও দাবি করেন, শুধু যুক্তরাজ্য নয়, ইউক্রেনে অস্ত্র পাঠানো জাহাজ ডুবিয়ে দেওয়া এবং ইংল্যান্ডসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশের অস্ত্র কারখানায় হামলা চালানো উচিত। একই সঙ্গে তিনি মস্কোতে ব্রিটিশ দূতাবাস বন্ধ এবং রাশিয়ায় কর্মরত ব্রিটিশ সাংবাদিকদের বহিষ্কারেরও আহ্বান জানান।

ক্রেমলিনপন্থী ভাষ্যকার ভ্লাদিমির করনিলভ বলেন, ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম যখন গর্বের সঙ্গে লিখছে যে তাদের ড্রোন রাশিয়ার গভীরে আঘাত করছে, তখন রাশিয়াও একই ধরনের পদক্ষেপ নিতে পারে। তার ভাষায়, “ব্রিটেনের উদ্বিগ্ন হওয়া উচিত।”

রাশিয়ার কট্টরপন্থী সংসদ সদস্য আন্দ্রেই লুগোভয়ও যুক্তরাজ্যকে কড়া বার্তা দিয়েছেন। তার দাবি, রাশিয়ার ‘শ্যাডো ফ্লিট’ জাহাজ আটকানোর ঘটনায় পুতিনের পাল্টা হুঁশিয়ারির পর লন্ডন বুঝতে পেরেছে, আগের মতো সমুদ্রে তার প্রভাব আর নেই।

মস্কোর দাবি অনুযায়ী, ‘পোসেইডন’ একটি পানির নিচের পারমাণবিক ড্রোন, যা উপকূলীয় এলাকায় বিশাল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে তেজস্ক্রিয় জলোচ্ছ্বাস সৃষ্টি করতে সক্ষম। যদিও অস্ত্রটি এখনো যুদ্ধে ব্যবহার করা হয়নি, রাশিয়া বলছে এটি মোতায়েনের কাছাকাছি পর্যায়ে রয়েছে।

এই হুমকির মধ্যেই রাশিয়া তিন দিনের বৃহৎ পারমাণবিক মহড়া শুরু করেছে। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এতে প্রায় ৬৫ হাজার সেনা, প্রায় ৭ হাজার ৮০০ সামরিক সরঞ্জাম, দুই শতাধিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা, যুদ্ধবিমান, যুদ্ধজাহাজ, সাবমেরিন এবং বেলারুশে মোতায়েন পারমাণবিক সক্ষমতাসম্পন্ন ইউনিট অংশ নিচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এসব বক্তব্য মূলত রুশ রাষ্ট্রীয় প্রচারযন্ত্রের আক্রমণাত্মক বার্তা এবং এগুলোকে রাশিয়ার আনুষ্ঠানিক পারমাণবিক হামলার ঘোষণা হিসেবে দেখা যায় না। তবু ইউক্রেন যুদ্ধ, ব্রিটেনের সামরিক সহায়তা এবং চলমান পারমাণবিক মহড়ার প্রেক্ষাপটে ইউরোপজুড়ে নিরাপত্তা উদ্বেগ আরও বেড়েছে।

সূত্রঃ দ্য এক্সপ্রেস

এম.কে

আরো পড়ুন

নেতানিয়াহুর প্ররোচনায়ই যুদ্ধে জড়িয়েছেন ট্রাম্পঃ কমলা হ্যারিস

ইসরায়েলের গণহত্যায় সহায়তাকারী ৪৮ প্রতিষ্ঠান চিহ্নিতঃ জাতিসংঘ দূতের প্রতিবেদন

ছাঁটাই নয়, ১৫ হাজার নতুন কর্মী নিয়োগ দিবে আলিবাবা