15.3 C
London
September 8, 2026
TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

লেবার সরকারের ট্যাক্সনীতির কারণে যুক্তরাজ্য ছাড়ছেন ধনকুবেররা

গত বছর যুক্তরাজ্যে প্রায় ৩৩০ মিলিয়ন পাউন্ড কর দেওয়া হেজ ফান্ড ব্যবসায়ী ক্রিস রোকোস যুক্তরাজ্য ছেড়ে গ্রিসে যাওয়ার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন। রোকোস ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্টের প্রতিষ্ঠাতা এই ধনকুবের তার কর-বাসস্থান গ্রিসে স্থানান্তর করছেন এবং দেশটির রাজধানী এথেন্সে একটি অফিস খোলার পরিকল্পনা করেছেন বলে জানিয়েছে এলবিসি।

রোকোসের আনুমানিক সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৩ বিলিয়ন পাউন্ড। তিনি যুক্তরাজ্যের তৃতীয় সর্বোচ্চ করদাতা হিসেবে পরিচিত। গত বছর তার দেওয়া প্রায় ৩৩০ মিলিয়ন পাউন্ড করের পরিমাণ ১৫ হাজার সদ্য যোগ দেওয়া সামাজিক সেবা কর্মীর অর্থনৈতিক অবদানের সমপরিমাণ বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ব্লুমবার্গের প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে এলবিসি জানিয়েছে, রোকোস যুক্তরাজ্য থেকে সরে গিয়ে ইউরোপে নিজের অবস্থান তৈরি করছেন। তার প্রতিষ্ঠিত রোকোস ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্টের প্রায় ২২ বিলিয়ন ডলারের ম্যাক্রো হেজ ফান্ড রয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রোকোসের যুক্তরাজ্য ছাড়ার সম্ভাব্য কারণগুলোর মধ্যে নন-ডমিসাইল করব্যবস্থা, উত্তরাধিকার কর এবং বেসরকারি স্কুলের ফি নিয়ে উদ্বেগের বিষয়গুলো রয়েছে।

রোকোস গত বছর নিজের প্রতিষ্ঠান থেকে প্রায় ৪৭৭ মিলিয়ন পাউন্ড অর্থ নিয়েছেন বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সময়ে তার হেজ ফান্ড বৈশ্বিক বাজারের অস্থিরতার মধ্যেও ভালো পারফরম্যান্স করেছে।

চলতি বছর রোকোস কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়কে ১৯০ মিলিয়ন পাউন্ড অনুদান দেওয়ার ঘোষণা দেন। বিশ্ববিদ্যালয়টির জন্য এটি বড় অঙ্কের অনুদান হিসেবে আলোচিত হয়েছে।

এদিকে, লেবার সরকারের সময়ে যুক্তরাজ্য থেকে ধনী ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের বিদেশে চলে যাওয়ার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে। রোকোসের আগে শিপিং ব্যবসায়ী জন ফ্রেডরিকসেন এবং ইস্পাত ব্যবসায়ী লক্ষ্মী মিত্তালসহ আরও কয়েকজন ধনী ব্যক্তির যুক্তরাজ্যের বাইরে যাওয়ার বিষয়টি সামনে এসেছে।

তবে যুক্তরাজ্য থেকে বিপুলসংখ্যক কোটিপতি চলে যাচ্ছেন—এমন দাবির পরিসংখ্যান নিয়েও বিতর্ক রয়েছে। হেনলি প্রাইভেট ওয়েলথ মাইগ্রেশন আগে বড় ধরনের ‘ওয়েলথ ফ্লাইট’-এর কথা বললেও পরে তাদের পূর্ববর্তী মূল্যায়ন সংশোধন করে পরিস্থিতিকে ‘মডেস্ট’ বা সীমিত হিসেবে উল্লেখ করেছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, হেনলির আগের গবেষণায় বিশ্বজুড়ে ১ লাখ ৪২ হাজার কোটিপতি দেশ পরিবর্তন করেছেন বলে দাবি করা হয়েছিল। পরবর্তীতে ওই প্রতিবেদনের তথ্য সংগ্রহ ও পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। প্রতিষ্ঠানটি পরে জানায়, তথ্য পর্যাপ্ত না হওয়া পর্যন্ত তারা দেশ পরিবর্তনকারী ধনী ব্যক্তিদের সুনির্দিষ্ট সংখ্যা প্রকাশ করবে না।

অন্যদিকে, প্যাট্রিয়টিক মিলিয়নিয়ার্স ইউকে নামে পরিচিত ব্রিটিশ ধনীদের একটি সংগঠন জানিয়েছে, তারা আরও বেশি কর দিতে প্রস্তুত এবং যুক্তরাজ্যেই থাকার পরিকল্পনা করছে।

রোকোসের গ্রিসে যাওয়ার সিদ্ধান্ত এমন সময়ে সামনে এলো, যখন যুক্তরাজ্যে ধনী ব্যক্তিদের করব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে আলোচনা চলছে এবং আগামী বাজেটকে সামনে রেখে উচ্চ সম্পদশালী ব্যক্তিদের ওপর করের প্রভাব নিয়েও বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে।

সূত্রঃ এল বি সি

এম.কে

আরো পড়ুন

ব্রিটেনের সাধারণ নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা

“যুক্তরাজ্যকে ইইউর প্রতিদ্বন্দ্বী হলে চলবে না”

যুক্তরাজ্যে প্যালেস্টাইন অ্যাকশন সমর্থনে আবার গ্রেপ্তার শুরু করবে মেট্রোপলিটন পুলিশ

নিউজ ডেস্ক