TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

ব্রিটেনজুড়ে রুশ নাশকতার আশঙ্কাঃ ৩টির বেশি কেবল কাটা পড়লে ‘সম্পূর্ণ অচলাবস্থা’!

ব্রিটেনের গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রতলীয় যোগাযোগ কেবল বা সাবসি কেবলে রাশিয়ার সমন্বিত হামলা হলে দেশটির ব্যাংকিং ব্যবস্থা থেকে শুরু করে লন্ডনের আর্থিক কেন্দ্র পর্যন্ত বড় ধরনের সংকটে পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছেন সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী টোবিয়াস এলউড।

টোবিয়াস এলউডের দাবি, সম্ভাব্য উচ্চমাত্রার নাশকতার প্রস্তুতি হিসেবে মস্কো ব্রিটেন ও ইউরোপজুড়ে গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রতলীয় অবকাঠামোর অবস্থান ও কার্যক্রম সক্রিয়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। তার মতে, এসব অবকাঠামোর ওপর হামলা হলে এর প্রভাব শুধু উপকূলীয় কেবল ল্যান্ডিং স্টেশনগুলোর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং পুরো দেশের স্বাভাবিক কার্যক্রমে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটতে পারে।

তিনি সতর্ক করে বলেন, সমুদ্রতলীয় যোগাযোগ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হলে ব্যাংকিং ব্যবস্থা এবং লন্ডনের ‘সিটি’ বা ‘সিটি অব লন্ডন’ তাৎক্ষণিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। বিকল্প রুটে থাকা ব্যাকআপ সক্ষমতা দ্রুত অতিরিক্ত চাপের মুখে পড়বে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

এলউডের বক্তব্য অনুযায়ী, একই সময়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ কেবল কেটে দেওয়া হলে যুক্তরাজ্যে বড় ধরনের মেরামত জট তৈরি হতে পারে। তার ভাষায়, তিনটির বেশি কেবল একই সময়ে বিচ্ছিন্ন হলে ‘সম্পূর্ণ অচলাবস্থা’ তৈরি হতে পারে।

এর পেছনে অন্যতম কারণ হিসেবে ব্রিটেনের সীমিত কেবল মেরামত সক্ষমতার কথা তুলে ধরেছেন তিনি। তার দাবি, ক্ষতিগ্রস্ত সমুদ্রতলীয় কেবল মেরামতের জন্য ব্রিটেনের কাছে মাত্র তিনটি বাণিজ্যিক মেরামতকারী জাহাজ রয়েছে। এসব জাহাজকে কাজ করার সময় প্রতিটির জন্য নৌবাহিনীর নিরাপত্তা পাহারা প্রয়োজন হয়।

টোবিয়াস এলউড বলেন, “একই সময়ে তিনটির বেশি কেবল কেটে দেওয়া হলে সম্পূর্ণ জট তৈরি হবে। রাশিয়া এসব বিষয় জানে।”

তার মতে, রাশিয়ার সম্ভাব্য কৌশলের একটি উদ্দেশ্য হতে পারে ব্রিটিশ নাগরিকদের দৈনন্দিন জীবনে ধারাবাহিকভাবে এমন মাত্রায় বিঘ্ন সৃষ্টি করা, যাতে বিদেশে সহায়তা দেওয়া নিয়ে জনমনে বিরূপ প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়।

এলউড বলেন, মস্কোর মূল লক্ষ্য হতে পারে ব্রিটিশ জনগণকে এমন অবস্থানে নিয়ে যাওয়া, যেখানে তারা মনে করবে ইউক্রেনকে সমর্থন করা আর মূল্যবান নয়।

ব্রিটেনের উপকূলীয় বেশ কয়েকটি শহর ও এলাকা সমুদ্রতলীয় কেবল নেটওয়ার্কের গুরুত্বপূর্ণ ল্যান্ডিং পয়েন্ট হিসেবে কাজ করে। এর মধ্যে কর্নওয়ালের বুড এবং সাফোকের লোওয়েস্টফট উল্লেখযোগ্য।

এছাড়া হলিহেড, নিউক্যাসল, পোর্টসমাউথ, ব্রডস্টেয়ার্স এবং অক্সউইচ বে দিয়েও গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রতলীয় যোগাযোগ সংযোগ ব্রিটেনের উপকূলে এসে পৌঁছেছে।

সমুদ্রের নিচে থাকা এসব কেবল আন্তর্জাতিক ইন্টারনেট যোগাযোগ, তথ্য আদান-প্রদান এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ডিজিটাল পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত। ফলে কোনো গুরুত্বপূর্ণ কেবল ক্ষতিগ্রস্ত হলে বিকল্প রুটের ওপর চাপ বাড়তে পারে।

এলউড আরও বলেছেন, ব্রিটেনের প্রতিরক্ষা প্রস্তুতিতে প্রচলিত সামরিক সংঘাতের পাশাপাশি জাতীয় অবকাঠামোর সুরক্ষাকেও গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে তিনি সাইবার ব্যবস্থা ও জ্বালানি সরবরাহ সুরক্ষিত রাখতে ফিনল্যান্ডের জাতীয় সেবা ও জাতীয় স্থিতিস্থাপকতার মডেলের দিকে নজর দেওয়ার কথা বলেছেন।

তার সতর্কতার মূল বিষয় হলো, সমুদ্রতলীয় কেবলগুলোর ওপর একযোগে একাধিক হামলা হলে শুধু টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থাই নয়, আর্থিক পরিষেবা, বাণিজ্যিক কার্যক্রম এবং দেশের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর ওপরও চাপ তৈরি হতে পারে।

সূত্রঃ ডেইলি এক্সপ্রেস

এম.কে

আরো পড়ুন

অ্যাপল যুক্তরাজ্য সরকারের অনুরোধে ডেটা সুরক্ষা টুল সরিয়ে নিল

যুক্তরাজ্যে এমপি হলেন ২২ বছরের স্যাম কার্লিং

আত্মীয়দের সপ্তাহে ১০০ পাউন্ড দানে শামীমা বেগমের জীবনযাপন, চলমান আইনি লড়াই অব্যাহত