ব্রিটেনের রাজনৈতিক অঙ্গনে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে, যেখানে দীর্ঘদিন ধরে প্রভাব বিস্তারকারী প্রধান দুই দলের দুর্বলতার সুযোগে দ্রুত উত্থান ঘটছে গ্রিন পার্টির। সাম্প্রতিক সময়ের জনমত জরিপে দেখা যাচ্ছে, দলটি এখন লেবার ও কনজার্ভেটিভ দলের সঙ্গে সমানে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে, বিশেষ করে তরুণ ভোটারদের মধ্যে তাদের জনপ্রিয়তা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
গ্রিন পার্টির নেতৃত্বে থাকা জ্যাক পোলনোস্কি দলের কৌশলগত অবস্থান পরিবর্তন করে পরিবেশের পাশাপাশি জীবনযাত্রার ব্যয়, অর্থনৈতিক বৈষম্য এবং ধনী শ্রেণির বিরুদ্ধে জনঅসন্তোষকে সামনে এনেছেন। এর ফলে সাধারণ জনগণের একটি বড় অংশের মধ্যে দলটির গ্রহণযোগ্যতা বাড়ছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, গত এক দশকে ব্রিটেনের প্রচলিত দুই প্রধান দলই ধারাবাহিকভাবে জনপ্রিয়তা হারিয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে নতুন রাজনৈতিক শক্তিগুলো সুযোগ পাচ্ছে। এর মধ্যে ডানপন্থী সংস্কারপন্থী শক্তির উত্থান যেমন লক্ষণীয়, তেমনি বামপন্থী পরিসরে গ্রিন পার্টি এখন প্রধান অবস্থান দখল করে নিয়েছে।
এর আগে বামপন্থী নতুন একটি রাজনৈতিক উদ্যোগ গড়ে উঠলেও তা দ্রুত ভেঙে পড়ে। ফলে বামপন্থী ভোটারদের বড় অংশ এখন গ্রিন পার্টির দিকে ঝুঁকছে। সর্বশেষ নির্বাচনে দলটি খুব কম আসন পেলেও, বর্তমান জনমত অনুযায়ী তারা ভবিষ্যতে উল্লেখযোগ্য আসন অর্জন করতে পারে।
ফেব্রুয়ারিতে ম্যানচেস্টারের একটি গুরুত্বপূর্ণ আসনে উপনির্বাচনে গ্রিন পার্টির জয় তাদের জনপ্রিয়তা আরও বাড়িয়ে দেয়। এই আসনটি আগে লেবার দলের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ছিল, ফলে এই ফলাফলকে বড় রাজনৈতিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা সতর্ক করছেন, এই উত্থান স্থায়ী হবে কিনা তা এখনো নিশ্চিত নয়। জাতীয় নির্বাচন হতে সময় বাকি রয়েছে এবং ডানপন্থী শক্তিগুলো এখনো শক্ত অবস্থানে রয়েছে, বিশেষ করে বয়স্ক ভোটারদের মধ্যে।
একই সঙ্গে লেবার দল নেতৃত্বে পরিবর্তন আনলে তাদের অবস্থানও পুনরুদ্ধার হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবুও বর্তমান পরিস্থিতি স্পষ্টভাবে দেখাচ্ছে, ব্রিটেনের রাজনীতিতে একটি নতুন সমীকরণ তৈরি হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, গ্রিন পার্টির এই উত্থান প্রমাণ করে যে, বর্তমান সময়ে ভোটাররা শুধু স্থিতিশীলতা নয়, বরং বাস্তব পরিবর্তন চায়। পরিবেশগত ইস্যুকে অর্থনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে যুক্ত করে দলটি যে কৌশল নিয়েছে, তা রাজনৈতিকভাবে কার্যকর প্রমাণিত হচ্ছে।
সব মিলিয়ে ব্রিটেনের রাজনীতি ধীরে ধীরে নতুন রূপ নিচ্ছে, যেখানে প্রচলিত দুই দলের প্রভাব কমে গিয়ে নতুন শক্তির উত্থান ভবিষ্যতের রাজনৈতিক চিত্রকে ভিন্নভাবে গড়ে তুলতে পারে।
সূত্রঃ দ্য নিউইয়র্ক টাইমস
এম.কে

