ব্রিটেনে পদাবনতি এবং লাইফ সাপোর্ট প্রশিক্ষণ কোর্সে অকৃতকার্য হওয়ার তথ্য গোপন করার অভিযোগে এক চিকিৎসককে মেডিকেল রেজিস্টার থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। ট্রাইব্যুনালের অনুসন্ধানে তার বিরুদ্ধে অসততা এবং পেশাগত দক্ষতার ঘাটতির অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে বলে জানিয়েছে ডেইলি মেইল।
চিকিৎসক ডা. সুরাইয়া নাজিব ২০২১ সালের জুন থেকে ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ব্ল্যাকপুল টিচিং হসপিটালসে অস্থায়ী কনসালট্যান্ট হিসেবে কাজ করেন। সেখানে তার কাজের সক্ষমতা ও আচরণ নিয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের উদ্বেগ তৈরি হয়। পরে তাকে কনসালট্যান্ট পদ থেকে রেজিস্ট্রার পদে সরিয়ে দেওয়া হয়।
তবে পরবর্তী সময়ে নরফোকের কিংস লিনে কুইন এলিজাবেথ হসপিটালে কাজের জন্য আবেদন করার সময় ডা. নাজিব তার পদাবনতির বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে জানাননি বলে ট্রাইব্যুনালের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। ২০২৩ সালের মার্চ থেকে ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তিনি ওই হাসপাতালে কাজ করেন।
এর মধ্যেই কুইন এলিজাবেথ হসপিটালে চাকরির সাক্ষাৎকারের মাত্র দুই দিন আগে তিনি অ্যাডভান্সড কার্ডিওভাসকুলার লাইফ সাপোর্ট কোর্সে ফেল করেন। ট্রাইব্যুনাল বলেছে, এই তথ্যও তিনি নতুন কর্মস্থলের ব্যবস্থাপনার কাছে প্রকাশ করেননি।
মেডিকেল প্র্যাকটিশনার্স ট্রাইব্যুনালের প্রতিবেদনে তার এই অসততাকে ‘ধারাবাহিক’ এবং ‘পূর্বপরিকল্পিত’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
এছাড়া ২০২৪ সালের আগস্টে জেনারেল মেডিকেল কাউন্সিলের একটি পারফরম্যান্স মূল্যায়নে তার পেশাগত সক্ষমতা নিয়ে গুরুতর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। সেখানে রোগীর অবস্থা মূল্যায়ন এবং ক্লিনিক্যাল ব্যবস্থাপনাকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। রোগীদের সঙ্গে তার সম্পর্ক এবং সহকর্মীদের সঙ্গে কাজ করার সক্ষমতা নিয়েও উদ্বেগের কথা বলা হয়।
ট্রাইব্যুনালের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, একটি গুরুতর অসুস্থ রোগীর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ক্লিনিক্যাল লক্ষণ শনাক্ত করতে ব্যর্থ হন ডা. নাজিব এবং জরুরি মূল্যায়নের প্রক্রিয়াও অনুসরণ করেননি। এতে রোগীর জীবন ঝুঁকিতে পড়তে পারত বলে ট্রাইব্যুনাল উল্লেখ করেছে।
২০২২ সালে ব্ল্যাকপুল হাসপাতালে এক বৈঠকে তার কাজের বিভিন্ন উদাহরণ তুলে ধরে কর্তৃপক্ষ। এর মধ্যে একটি ঘটনায় পিঠে ব্যথার অভিযোগ করা এক রোগীর জন্য তিনি সম্পূর্ণ মেরুদণ্ডের এমআরআই করানোর কথা বলেছিলেন। ওই রোগী তখন জীবনের শেষ পর্যায়ে ছিলেন এবং হসপিসে স্থানান্তরের প্রস্তুতি চলছিল।
আরেক ঘটনায় ফুসফুসে রক্ত জমাট বাঁধার আশঙ্কা থাকা এক গর্ভবতী নারীকে নিয়ে ডা. নাজিব সাইনাসের সমস্যা খতিয়ে দেখেন এবং সাইনাসের এক্স-রে করার কথা বলেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাকে বলেছিল, অনেক সময় তিনি এমন পরীক্ষা চাইছেন, যেগুলো রোগীর প্রয়োজন নেই।
ট্রাইব্যুনাল সিদ্ধান্তে জানিয়েছে, ডা. নাজিব রোগীর নিরাপত্তার জন্য উচ্চ ঝুঁকি তৈরি করতে পারেন। তার অসদাচরণ এবং পেশাগত দক্ষতার ঘাটতির কারণে চিকিৎসা পেশায় কাজ করার উপযুক্ততা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও সিদ্ধান্তে উল্লেখ করা হয়।
প্যানেলের মতে, নিজের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে ডা. নাজিবের মধ্যে উল্লেখযোগ্য আত্মসমালোচনার প্রমাণ পাওয়া যায়নি এবং তার পেশাগত ঘাটতি দূর করার কোনো প্রমাণও তিনি দেননি। ফলে একই ধরনের ভুল আবার ঘটার ঝুঁকি রয়েছে বলে ট্রাইব্যুনাল মনে করেছে।
এই পরিস্থিতিতে তাকে মেডিকেল রেজিস্টারে রাখলে জনসুরক্ষার জন্য উচ্চ ঝুঁকি তৈরি হবে এবং রোগীর নিরাপত্তা গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছে তাকে চিকিৎসকদের নিবন্ধন থেকে বাদ দেওয়া হয়।
ডা. সুরাইয়া নাজিব ১৯৮৫ সালে পাকিস্তানে চিকিৎসক হিসেবে যোগ্যতা অর্জন করেন। ট্রাইব্যুনালের শুনানিতে তিনি উপস্থিত ছিলেন না এবং তার পক্ষে কোনো প্রতিনিধিও ছিলেন না।
সূত্রঃ ডেইলি মেইল
এমকে

