বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থায় সমস্যার কারণে ব্রিটেনজুড়ে প্রায় ২ হাজার ফ্লাইটের উড্ডয়ন ব্যাহত হয়েছে। এতে হাজার হাজার যাত্রীর ভ্রমণ পরিকল্পনা পরিবর্তন হয়েছে। ফ্লাইট বাতিল বা বিলম্ব হলে যাত্রীদের নির্দিষ্ট কিছু অধিকার রয়েছে, যার মধ্যে টিকিটের অর্থ ফেরত, বিকল্প ফ্লাইট এবং প্রয়োজন অনুযায়ী খাবার ও থাকার ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত।
ব্রিটেন ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের এয়ারলাইনস এবং ব্রিটেন বা ইউরোপীয় ইউনিয়নের কোনো বিমানবন্দর থেকে যাত্রা করা অন্যান্য এয়ারলাইনসের ক্ষেত্রে যাত্রীদের দেখভালের দায়িত্ব রয়েছে। ফ্লাইট বিলম্ব বা বাতিলের কারণ যাই হোক, নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে এয়ারলাইনসকে যাত্রীদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে হয়।
ফ্লাইট বাতিল হলে ব্রিটেনের আইনের আওতাভুক্ত এয়ারলাইনসকে যাত্রীকে দুটি বিকল্পের মধ্যে একটি বেছে নেওয়ার সুযোগ দিতে হবে। যাত্রী চাইলে টিকিটের অর্থ ফেরত নিতে পারবেন অথবা কোনো অতিরিক্ত খরচ ছাড়াই বিকল্প ফ্লাইটে যাত্রার ব্যবস্থা নিতে পারবেন।
টিকিটের যে অংশ ব্যবহার করা হয়নি, তার অর্থও ফেরত পাওয়ার অধিকার রয়েছে। যেমন, যাওয়া-আসার টিকিটের যাওয়ার ফ্লাইট বাতিল হলে পুরো ফিরতি টিকিটের অর্থ ফেরত পাওয়ার সুযোগ রয়েছে।
যাত্রী ভ্রমণ চালিয়ে যেতে চাইলে এয়ারলাইনসকে বিকল্প ফ্লাইটের ব্যবস্থা করতে হবে। অন্য কোনো এয়ারলাইনস যদি একই গন্তব্যে উল্লেখযোগ্যভাবে দ্রুত পৌঁছে দিতে পারে অথবা উপযুক্ত অন্য কোনো পরিবহন ব্যবস্থা পাওয়া যায়, তাহলে সেই বিকল্প পরিবহনেও যাত্রীর বুকিং করার অধিকার রয়েছে।
তবে ব্রিটেনে আসার ফ্লাইটটি যদি ব্রিটেন বা ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরের কোনো এয়ারলাইনস পরিচালনা করে, সেক্ষেত্রে বুকিংয়ের শর্ত ও নিয়ম পরীক্ষা করে দেখতে হবে।
ফ্লাইট বাতিলের কারণে কোনো যাত্রী বিমানবন্দর বা বিদেশে আটকে পড়লে এবং ফ্লাইটটি ব্রিটেনের আইনের আওতাভুক্ত হলে এয়ারলাইনসকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে হবে। এর মধ্যে যুক্তিসংগত পরিমাণ খাবার ও পানীয়, যোগাযোগের ব্যবস্থা, প্রয়োজনে বিনামূল্যে থাকার ব্যবস্থা এবং বিমানবন্দর ও থাকার জায়গার মধ্যে যাতায়াতের ব্যবস্থা রয়েছে।
এয়ারলাইনস প্রয়োজনীয় সহায়তার ব্যবস্থা করতে না পারলে যাত্রী নিজে খাবার, থাকার জায়গা বা পরিবহনের ব্যবস্থা করে পরে সেই খরচ ফেরত দাবি করতে পারবেন। সিভিল এভিয়েশন অথরিটি যাত্রীদের সব রসিদ সংরক্ষণ করার এবং প্রয়োজনের তুলনায় বেশি খরচ না করার পরামর্শ দিয়েছে।
স্বল্পপাল্লার ফ্লাইট দুই ঘণ্টার বেশি, মধ্যপাল্লার ফ্লাইট তিন ঘণ্টার বেশি এবং দীর্ঘপাল্লার ফ্লাইট চার ঘণ্টার বেশি বিলম্বিত হলেও বাতিল ফ্লাইটের মতো প্রয়োজনীয় সহায়তা পাওয়ার অধিকার রয়েছে যাত্রীর। আর ফ্লাইট পাঁচ ঘণ্টার বেশি বিলম্বিত হলে এবং যাত্রী আর ভ্রমণ করতে না চাইলে পুরো টিকিটের অর্থ ফেরত নেওয়া যাবে।
প্যাকেজ ভ্রমণের ক্ষেত্রে কোনো যাত্রী যদি এবিটিএর সদস্য প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ভ্রমণ বুক করেন এবং ফ্লাইট বাতিল হয়, তাহলে উপযুক্ত বিকল্প ফ্লাইট অথবা পুরো অর্থ ফেরতের ব্যবস্থা পাওয়ার অধিকার রয়েছে।
তবে সব ধরনের ফ্লাইট বাতিল বা বিলম্বের জন্য অতিরিক্ত আর্থিক ক্ষতিপূরণ পাওয়া যায় না। বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার সমস্যা, খারাপ আবহাওয়া, বিমানবন্দর কর্মীদের ধর্মঘট, সংঘাত বা অন্যান্য ‘অসাধারণ পরিস্থিতির’ কারণে ফ্লাইটে বিঘ্ন ঘটলে সাধারণত অতিরিক্ত ক্ষতিপূরণ প্রযোজ্য হয় না।
অন্যদিকে ফ্লাইট বাতিল বা বিলম্বের জন্য এয়ারলাইনস দায়ী হলে ব্রিটেনের আইনের অধীনে যাত্রী অতিরিক্ত ক্ষতিপূরণ পাওয়ার যোগ্য হতে পারেন। এই নিয়ম ব্রিটেনের কোনো বিমানবন্দর থেকে যাত্রা করা যেকোনো এয়ারলাইনসের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। একইভাবে ব্রিটেন বা ইউরোপীয় ইউনিয়নের কোনো এয়ারলাইনসের মাধ্যমে ব্রিটেনে পৌঁছানো এবং ব্রিটেনের কোনো এয়ারলাইনসের মাধ্যমে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিমানবন্দরে পৌঁছানোর ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট নিয়ম প্রযোজ্য।
ফ্লাইট ছাড়ার দুই সপ্তাহের কম সময় আগে বাতিল করা হলে এবং এয়ারলাইনসের দেওয়া বিকল্প ফ্লাইটের সময়সূচির ওপর ভিত্তি করে যাত্রী ক্ষতিপূরণ পাওয়ার যোগ্য হতে পারেন। ক্ষতিপূরণের পরিমাণ নির্ভর করে যাত্রার দূরত্বের ওপর।
১ হাজার ৫০০ কিলোমিটারের কম দূরত্বের ফ্লাইটে, যেমন গ্লাসগো থেকে আমস্টারডাম, যাত্রীপ্রতি সর্বোচ্চ ২২০ পাউন্ড পর্যন্ত ক্ষতিপূরণ পাওয়া যেতে পারে। ১ হাজার ৫০০ থেকে ৩ হাজার ৫০০ কিলোমিটার দূরত্বের ফ্লাইটে, যেমন ইস্ট মিডল্যান্ডস থেকে মারাকেশ, সর্বোচ্চ ৩৫০ পাউন্ড পর্যন্ত ক্ষতিপূরণ পাওয়া যেতে পারে। আর ৩ হাজার ৫০০ কিলোমিটারের বেশি দূরত্বের ফ্লাইটে, যেমন লন্ডন থেকে নিউইয়র্ক, সর্বোচ্চ ৫২০ পাউন্ড পর্যন্ত ক্ষতিপূরণ পাওয়া যেতে পারে।
ফ্লাইট বিলম্বের কারণে কাজে ফিরতে দেরি হলে এয়ারলাইনস সাধারণত যাত্রীর হারানো আয়ের অর্থ ফেরত দেয় না। ভ্রমণ বিমার ক্ষেত্রেও সাধারণত হারানো বেতনের অর্থ পাওয়ার সুযোগ থাকে না।
ফ্লাইট বিলম্বের কারণে কাজে ফিরতে দেরি হবে বলে মনে হলে কর্মীকে তার নিয়োগকর্তাকে বিষয়টি জানাতে হবে। অনুপস্থিতির সময় কীভাবে সামলানো হবে, তা নিয়োগকর্তার সঙ্গে আলোচনা করতে হবে। এর মধ্যে বার্ষিক ছুটি ব্যবহার অথবা বেতন ছাড়া ছুটি নেওয়ার ব্যবস্থা থাকতে পারে।
এ ধরনের পরিস্থিতিতে কর্মীকে অনুপস্থিত থাকার সময়ের বেতন দেওয়ার জন্য নিয়োগকর্তার কোনো আইনি বাধ্যবাধকতা নেই, যদি না চাকরির চুক্তিতে এ বিষয়ে কোনো শর্ত উল্লেখ থাকে।
সূত্রঃ বিবিসি
এম.কে

