ব্রিটেনে ১৯৫০ সালের এপ্রিলের আগে জন্ম নেওয়া বহু নারীর রাষ্ট্রীয় পেনশন নিয়ে জটিলতার বিষয়টি তুলে ধরেছেন দেশটির পেনশন বিশেষজ্ঞ ও সাবেক পেনশনমন্ত্রী স্যার স্টিভ ওয়েব। তার অভিযোগ, হোম রেসপনসিবিলিটিজ প্রোটেকশন (এইচআরপি) সংক্রান্ত তথ্য অনলাইনে না দেখানোর কারণে অনেক নারী তাদের পেনশনের হিসাব সম্পর্কে বিভ্রান্তিতে পড়তে পারেন। বিষয়টিকে তিনি ‘অত্যন্ত হতাশাজনক’ বলে উল্লেখ করেছেন।
ডেইলি মিররের ১১ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সত্তরের কোঠায় বয়সী এক নারী তার রাষ্ট্রীয় পেনশন নির্ধারণের হিসাব নিয়ে স্যার স্টিভ ওয়েবের কাছে অভিযোগ করেন। ওই নারী ১৯৭০-এর দশকে বিবাহিত নারীদের জন্য চালু থাকা বিশেষ ব্যবস্থায় জাতীয় বিমার কম হারে অর্থ জমা দিতেন। এই ব্যবস্থায় নারীরা কম হারে জাতীয় বিমা পরিশোধের সুযোগ পেলেও নিজেদের নামে রাষ্ট্রীয় পেনশন গড়ে তোলার সুবিধা সীমিত ছিল। স্বামী পেনশন পাওয়ার যোগ্য হলে তারা স্বামীর পেনশনের ৬০ শতাংশ হারে বিবাহিত নারীর পেনশন পেতে পারতেন।
ব্রিটিশ সরকারের নিয়ম অনুযায়ী, ১৯৭৭ সালের এপ্রিল পর্যন্ত বিবাহিত নারীরা জাতীয় বিমার কম হারে অর্থ জমা দেওয়ার এই পদ্ধতি বেছে নিতে পারতেন। ১৯৭৮ সালে এই সুবিধা বন্ধ হয়ে গেলেও আগে থেকেই এই ব্যবস্থায় থাকা প্রায় ৪০ লাখ নারীকে নির্দিষ্ট শর্তে আগের হারে অর্থ জমা দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়।
তবে এই ব্যবস্থায় থাকা কোনো নারী পরবর্তী সময়ে দুই বছরের বিরতি দিয়ে আবার কাজে ফিরলে তাকে জাতীয় বিমার পূর্ণ হারে অর্থ জমা দিতে হতো। স্যার স্টিভ ওয়েবের পর্যালোচনা করা নারীর ক্ষেত্রেও প্রায় একই ঘটনা ঘটেছিল। তিনি ১৯৭০-এর দশকে সন্তান নেওয়ার কারণে কাজ থেকে বিরতি নেন এবং ১৯৮০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে আবার কাজে ফেরেন।
বিতর্কের মূল বিষয় হলো, সন্তান লালন-পালন বা অসুস্থ ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তির দেখাশোনার কারণে কর্মজীবন থেকে বিরত থাকা ব্যক্তিদের রাষ্ট্রীয় পেনশন সুরক্ষায় এইচআরপি ব্যবস্থা চালু করা হয়েছিল। নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করলে ১৯৭৮ সালের ৬ এপ্রিল থেকে ২০১০ সালের ৫ এপ্রিল পর্যন্ত এই সুবিধা পাওয়ার সুযোগ ছিল। ২০১০ সালে এইচআরপির পরিবর্তে জাতীয় বিমার ক্রেডিট ব্যবস্থা চালু হয়।
স্যার স্টিভ ওয়েব বলেন, কম হারে জাতীয় বিমা জমা দেওয়া নারীদের শুরুতে এইচআরপি দেওয়া হতো না, কারণ তারা কার্যত প্রচলিত পেনশন ব্যবস্থার বাইরে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। তবে ওই সুবিধার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর তারা শর্ত পূরণ করলে এইচআরপি পাওয়ার যোগ্য হতে পারতেন।
তিনি জানান, সংশ্লিষ্ট নারীর ক্ষেত্রে চার বছরের এইচআরপি সুবিধা হিসাবের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত ছিল। কিন্তু তা অনলাইন রেকর্ডে দেখা যাচ্ছিল না। তার মতে, এই তথ্য অনলাইনে প্রদর্শন না করার পেছনে কিছু কারিগরি কারণ থাকলেও সেগুলো সন্তোষজনক নয়। বিশেষ করে ২০১০ সালের এপ্রিলের আগে যারা পেনশন পাওয়ার বয়সে পৌঁছেছেন, তাদের ক্ষেত্রে এমন সমস্যা দেখা দিতে পারে।
ব্রিটিশ রাজস্ব ও শুল্ক বিভাগ (এইচএমআরসি) জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট নারীর জাতীয় বিমার রেকর্ড সঠিক রয়েছে এবং তার ক্ষেত্রে এইচআরপি যথাযথভাবে হিসাব করা হয়েছে।
সরকারের পরামর্শ অনুযায়ী, কেউ যদি মনে করেন তার জাতীয় বিমার রেকর্ডে এইচআরপি সুবিধা বাদ পড়েছে, তাহলে এইচএমআরসির সঙ্গে যোগাযোগ করা উচিত। বিশেষ করে অতীতে সন্তানের জন্য চাইল্ড বেনিফিট পাওয়ার সময় জাতীয় বিমার নম্বরের সঙ্গে সেই দাবির তথ্য যুক্ত না থাকলে রেকর্ডে সমস্যা দেখা দিতে পারে। এর ফলে কারও রাষ্ট্রীয় পেনশন কম নির্ধারিত হওয়ার আশঙ্কা থাকতে পারে।
সূত্রঃ মিরর
এমকে

