জিপিএসের নির্দেশনা অনুসরণ করতে গিয়ে গুরুতর বিপদে পড়ে অ্যামাজনের একটি ডেলিভারি ভ্যান। ইংল্যান্ডের এসেক্স উপকূলে অত্যন্ত বিপজ্জনক কাদাচর এলাকায় ভ্যানটি আটকে গেলে উদ্ধার অভিযানে নামে এইচএম কোস্টগার্ড।
এইচএম কোস্টগার্ড সাউথএন্ড রোববার সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানায়, আগের রাতে ঘটনাটি ঘটে। ভ্যানটি ভুলবশত ‘দ্য ব্রুমওয়ে’ (দ্য ব্রুমওয়ে) নামের একটি পথে প্রবেশ করে। প্রায় ৬০০ বছরের পুরনো এই পথটির দৈর্ঘ্য প্রায় ৬ মাইল বা ৯ দশমিক ৬ কিলোমিটার, যা মূলত কাদাচরের ওপর দিয়ে বিস্তৃত এবং যানবাহন চলাচলের জন্য উপযুক্ত নয়।
কোস্টগার্ড জানায়, চালক জিপিএস অনুসরণ করে এসেক্সের পূর্ব উপকূলের কাছে অবস্থিত ফোলনেস আইল্যান্ড-এ পৌঁছাতে চাচ্ছিলেন। দ্বীপটি যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মালিকানাধীন এবং এটি পরিচালনা করে বৈশ্বিক প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান কিনেটিক। সেখানে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি গোলন্দাজ প্রশিক্ষণক্ষেত্র রয়েছে।
নির্দেশনা অনুযায়ী, ফোলনেস আইল্যান্ডে যাওয়ার বৈধ পথ হলো কিনেটিকের নিরাপত্তা অফিসের পাশের গেট দিয়ে প্রবেশ করা। কিন্তু ভুল রুটের কারণে চালক সরাসরি ব্রুমওয়েতে ঢুকে পড়েন, যেখানে নরম কাদা ও দ্রুতগতির জোয়ারের কারণে যানবাহন সহজেই আটকে যায়।
কোস্টগার্ড তাদের সতর্কবার্তায় জানায়, ব্রুমওয়ে কোনো মোটরচালিত বা বৈদ্যুতিক যানবাহনের জন্য নয়। এই পথে চলতে হলে কাদাচর সম্পর্কে বিশেষ জ্ঞানসম্পন্ন পথপ্রদর্শক প্রয়োজন। এলাকাটি অত্যন্ত বিপজ্জনক এবং এটি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রিত সম্পত্তির অংশ। গোলন্দাজ প্রশিক্ষণ বন্ধ থাকলে এবং গেট খোলা থাকলেই কেবল সীমিত সময়ের জন্য প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়।
কিনেটিকের ওয়েবসাইটে স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে, ব্রুমওয়ের পুরো পথ মোটরচালিত বা ইলেকট্রিক যানবাহনে অতিক্রম করা বেআইনি। কাদাচরে কোনো গাড়ি আটকে গেলে সেটি উদ্ধারের দায় প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বা কিনেটিক নেবে না—সম্পূর্ণ দায় গাড়ির মালিকের।
সৌভাগ্যক্রমে, চালক নিরাপদে ভ্যান থেকে বের হয়ে অ্যামাজনকে বিষয়টি জানান। পরে একজন স্থানীয় কৃষকের সহায়তায় গাড়িটি উদ্ধার করা হয়। কোস্টগার্ড জানায়, আরোহীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পর উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। তাদের প্রধান উদ্বেগ ছিল যাত্রীদের নিরাপত্তা এবং সম্ভাব্য পরিবেশ দূষণের ঝুঁকি।
‘থেমস এস্টুয়ারি ম্যান’ (থেমস এস্টুয়ারি ম্যান) নামে একটি তথ্যভিত্তিক ওয়েবসাইটের মতে, ব্রুমওয়ে ব্রিটেনের সবচেয়ে প্রাণঘাতী পথ হিসেবে পরিচিত।
ঐতিহাসিক গির্জার নথি অনুযায়ী, শতাব্দীর পর শতাব্দীতে এই পথে প্রায় একশ মানুষ ডুবে মারা গেছেন বলে ধারণা করা হয়। এখানে অত্যন্ত নরম কাদার অংশ রয়েছে এবং মূল পথ থেকে সরে গেলে অবিস্ফোরিত বোমা বা গোলাবারুদের মুখোমুখি হওয়ার ঝুঁকিও থাকে। জোয়ার দ্রুত আসে এবং সবসময় একই দিক থেকে আসে না—যা পরিস্থিতিকে আরও বিপজ্জনক করে তোলে।
অ্যামাজনের এক মুখপাত্র জানান, চালক সম্পূর্ণ নিরাপদ আছেন এবং ভ্যানটি সফলভাবে উদ্ধার করা হয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনাটি কীভাবে ঘটেছে, তা খতিয়ে দেখতে কোম্পানির পক্ষ থেকে তদন্ত শুরু হয়েছে।
সূত্রঃ সিএনএন
এম.কে

