18.8 C
London
June 17, 2026
TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

“ব্রিটেনের সীমান্ত রক্ষায় ব্যর্থ স্টারমার”— অভিবাসন ইস্যুতে ট্রাম্প প্রশাসনের কড়া বার্তা

অবৈধ অভিবাসন ও সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ ইস্যুতে জাতিসংঘের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর অভিযোগ করেছে, জাতিসংঘের অভিবাসনবিষয়ক বৈশ্বিক নীতিমালা এবং সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলো ব্রিটেন থেকে অবৈধ অভিবাসীদের বহিষ্কার কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করছে।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর নেতৃত্বাধীন পররাষ্ট্র দপ্তর জাতিসংঘের অভিবাসনবিষয়ক বৈশ্বিক চুক্তির পর্যালোচনাকে সমর্থন দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। ওয়াশিংটনের ভাষ্য অনুযায়ী, এটি যুক্তরাজ্যের জাতীয় সার্বভৌমত্বের ওপর সরাসরি হস্তক্ষেপের শামিল।

অভিযোগে বলা হয়েছে, জাতিসংঘ–সংশ্লিষ্ট কিছু কর্মকর্তা এবং তাদের ঘনিষ্ঠ বেসরকারি সংগঠন বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রকদের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে, যাতে ছোট নৌকায় আসা অবৈধ অভিবাসীদের ফেরত পাঠানোর ফ্লাইটগুলো বাধাগ্রস্ত হয়।

এই অবস্থানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাজ্যের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিশেষ করে স্থানীয় নির্বাচনে বড় ধরনের ধাক্কা খাওয়ার পর ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন আরও জোরালো হয়েছে।

নাইজেল ফারাজের নেতৃত্বাধীন রিফর্ম ইউকের উত্থানের মধ্যে বহু লেবার এমপি প্রকাশ্যে স্টারমারের পদত্যাগ দাবি করছেন। সমালোচকদের অভিযোগ, মানবপাচারকারী চক্র ভেঙে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও তার সরকার অবৈধ অভিবাসন ঠেকাতে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নিতে পারেনি।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ছোট নৌকায় ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দিয়ে যুক্তরাজ্যে প্রবেশের প্রবণতা এখনো অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে বহিষ্কার কার্যক্রমও প্রত্যাশার তুলনায় খুবই সীমিত। এতে জনমনে ক্ষোভ বাড়ছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।

সমালোচকদের দাবি, স্টারমার সরকার ফ্রান্সের সঙ্গে অভিবাসন ঠেকাতে একাধিক চুক্তি করলেও বাস্তবে পরিস্থিতির তেমন উন্নতি হয়নি। বরং ইংলিশ চ্যানেল এখন অর্থনৈতিক অভিবাসীদের জন্য একটি সক্রিয় প্রবেশপথে পরিণত হয়েছে।

এদিকে ট্রাম্প প্রশাসনের জাতীয় নিরাপত্তা কৌশলে সতর্ক করা হয়েছে যে, অনিয়ন্ত্রিত গণঅভিবাসন চলতে থাকলে ইউরোপের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কাঠামো গভীর সংকটে পড়তে পারে। কিছু ন্যাটো সদস্য রাষ্ট্র ভবিষ্যতে “অ-ইউরোপীয় সংখ্যাগরিষ্ঠ” দেশে পরিণত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।

ট্রাম্পপন্থি নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, অনিয়ন্ত্রিত অভিবাসন ইউরোপে সন্ত্রাসবাদ ও সামাজিক বিভাজনের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

এই প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্র অভিবাসনবিষয়ক বৈশ্বিক চুক্তিকে প্রত্যাখ্যান করে বলেছে, এমন কোনো আন্তর্জাতিক কাঠামোকে তারা সমর্থন করবে না যা অবৈধভাবে প্রবেশকারীদের বৈধতা দেওয়ার পথ সহজ করে।

ওয়াশিংটনের মতে, সার্বভৌমত্ব কোনো আপসের বিষয় নয় এবং প্রতিটি দেশের নিজস্ব সীমান্ত রক্ষা ও অবৈধভাবে প্রবেশকারীদের বহিষ্কারের পূর্ণ অধিকার রয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই ইস্যু এখন শুধু অভিবাসন প্রশ্নে সীমাবদ্ধ নেই; এটি পশ্চিমা বিশ্বে জাতীয় সার্বভৌমত্ব, সীমান্ত নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা নিয়ে বড় ধরনের রাজনৈতিক বিতর্কে পরিণত হয়েছে।

সূত্রঃ জিবি নিউজ

এম.কে

আরো পড়ুন

যুক্তরাজ্যের অর্থনীতিতে জটিলতা বাড়ছে

যুক্তরাজ্যে ভিসাধারীদের জন্য ২০২৫ সালের মধ্যে ই-ভিসা সিস্টেম চালু করতে যাচ্ছে

লন্ডনে মৎস্য রপ্তানিকারকদের প্রতিবাদ

নিউজ ডেস্ক