TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

ব্রেক্সিটের পর নতুন সংকটঃ রেসিডেন্সি বাতিলের চিঠি পাচ্ছেন ইইউ নাগরিকরা

ব্রেক্সিটের পর যুক্তরাজ্যে বৈধভাবে বসবাসের জন্য ইইউ সেটেলমেন্ট স্কিম (EUSS)-এর আওতায় প্রি-সেটেল্ড স্ট্যাটাস পাওয়া কিছু ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) নাগরিককে এবার নতুন করে অনিশ্চয়তার মুখে ফেলেছে যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় (হোম অফিস)। ইতোমধ্যে অন্তত ১০০ জনকে চিঠি দিয়ে জানানো হয়েছে, তাদের দেওয়া প্রি-সেটেল্ড স্ট্যাটাস ‘ভুলবশত’ (in error) প্রদান করা হয়েছিল। ফলে তাদের স্থায়ী সেটেল্ড স্ট্যাটাস পাওয়ার পথ জটিল হয়ে পড়েছে এবং অনেকের যুক্তরাজ্যে থাকার অধিকারও প্রশ্নের মুখে পড়েছে।

এ ঘটনায় যুক্তরাজ্য ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে করা ব্রেক্সিট উইথড্রয়াল অ্যাগ্রিমেন্ট লঙ্ঘন করছে কি না, তা নিয়েও নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। নাগরিক অধিকারবিষয়ক সংগঠনগুলো বলছে, হোম অফিসের এই পদক্ষেপে শত শত, এমনকি হাজারো মানুষ একই ধরনের সংকটে পড়তে পারেন।

প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, যেসব ব্যক্তি ব্রেক্সিট কার্যকর হওয়ার আগে পাঁচ বছরের কম সময় যুক্তরাজ্যে বসবাস করেছিলেন, তাদের প্রায় ১৩ লাখ মানুষকে প্রি-সেটেল্ড স্ট্যাটাস দেওয়া হয়েছিল। পাঁচ বছর পূর্ণ হওয়ার পর তারা সাধারণত সেটেল্ড স্ট্যাটাসের জন্য আবেদন করেন। কিন্তু হোম অফিস এখন কিছু আবেদন পুনরায় পর্যালোচনা করে দাবি করছে, শুরুতেই কিছু স্ট্যাটাস প্রয়োজনীয় প্রমাণ ছাড়াই দেওয়া হয়েছিল।

এমনই একজন পর্তুগিজ বংশোদ্ভূত নারী, যিনি যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিস (এনএইচএস)-এ কর্মরত এবং একই সঙ্গে পিএইচডি গবেষণা করছেন। পরিচয় গোপন রাখতে প্রতিবেদনে তার নাম গ্যাব্রিয়েলা উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি জানান, হোম অফিসের চিঠি পাওয়ার পর তার জীবন পুরোপুরি অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে গেছে।

গ্যাব্রিয়েলা বলেন, তিনি চাকরি হারানোর আশঙ্কায় রয়েছেন। একই সঙ্গে বর্তমান বাসা ভাড়া রাখা, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট পরিচালনা এবং এনএইচএসের বিভিন্ন কর্মচুক্তি বজায় রাখাও কঠিন হয়ে যেতে পারে। তার ভাষায়, এই পরিস্থিতি তাকে চরম মানসিক চাপে ফেলেছে।

হোম অফিসের পাঠানো পাঁচ পৃষ্ঠার চিঠিতে বলা হয়েছে, আবেদন করার সময় তিনি ২০২০ সালের ৩১ ডিসেম্বরের আগে ‘প্রাসঙ্গিক ইইএ (EEA) নাগরিক’ হওয়ার প্রয়োজনীয় প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেননি। তাই তাকে দেওয়া প্রি-সেটেল্ড স্ট্যাটাস ভুলবশত প্রদান করা হয়েছিল বলে এখন মনে করা হচ্ছে।

তবে গ্যাব্রিয়েলা এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি বলেন, তার বাবা পর্তুগিজ নাগরিক এবং জন্মসূত্রেই তিনি ইইউ নাগরিক। আবেদন করার সময় তিনি কোনো তথ্য গোপন করেননি এবং তার নাগরিকত্বের বিষয়টি হোম অফিসকে স্পষ্টভাবে জানিয়েছিলেন।

অভিবাসী অধিকারবিষয়ক সংগঠন the3million জানিয়েছে, তথ্য অধিকার আইনের আওতায় পাওয়া তথ্য অনুযায়ী শুধু চলতি বছরের মার্চ মাসেই অন্তত ৯৫ জন এমন চিঠি পেয়েছেন। সংগঠনটির ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী মনিক হকিন্স বলেন, মানুষ হোম অফিসের দেওয়া সিদ্ধান্তের ওপর বিশ্বাস রেখে যুক্তরাজ্যে চাকরি করেছেন, পরিবার গড়েছেন এবং সন্তানদের স্কুলে ভর্তি করেছেন। পাঁচ বছর পর সেই সিদ্ধান্তকেই ভুল বলা অত্যন্ত অন্যায্য এবং মানবিক দিক থেকেও উদ্বেগজনক।

তিনি আরও বলেন, প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তের সংখ্যা শত শত কিংবা হাজারেও পৌঁছাতে পারে এবং সরকারের উচিত এই নীতি পুনর্বিবেচনা করা।

এদিকে ইন্ডিপেনডেন্ট মনিটরিং অথরিটি (IMA), যা ব্রেক্সিট-পরবর্তী নাগরিক অধিকার বাস্তবায়ন পর্যবেক্ষণ করে, জানিয়েছে যে হোম অফিসের এই নীতি ইইউ-যুক্তরাজ্য উইথড্রয়াল অ্যাগ্রিমেন্টের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ হতে পারে। বিষয়টি নিয়ে তারা সরকারের কাছে আনুষ্ঠানিক উদ্বেগ জানিয়েছে।

অন্যদিকে হোম অফিস জানিয়েছে, ব্যক্তিগত মামলার বিষয়ে তারা সাধারণত মন্তব্য করে না। তবে যাদের স্ট্যাটাস ভুলবশত দেওয়া হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে, তারা প্রি-সেটেল্ড স্ট্যাটাসের মেয়াদ শেষ হওয়া পর্যন্ত যুক্তরাজ্যে থাকতে পারবেন। এ সময়ের মধ্যে তারা অন্য কোনো অভিবাসন রুটে আবেদন করতে পারবেন অথবা সেটেল্ড স্ট্যাটাসের আবেদন করে প্রত্যাখ্যাত হলে আইনি আপিলের সুযোগও পাবেন।

বিশ্লেষকদের মতে, ব্রেক্সিট-পরবর্তী অভিবাসন ব্যবস্থায় এটি নতুন একটি বড় অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। বিশেষ করে দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাজ্যে বসবাস, চাকরি ও পরিবার গড়ে তোলা ইইউ নাগরিকদের জন্য হোম অফিসের এই পদক্ষেপ ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করতে পারে।

সূত্রঃ দ্য গার্ডিয়ান

এম.কে

আরো পড়ুন

যুক্তরাজ্যে হাসপাতালের অ্যাপয়েন্টমেন্ট অন্তত তিন সপ্তাহ আগেই জানাবে এনএইচএস

যুক্তরাজ্যে স্কিলড ওয়ার্কার রুটে অনিয়মঃ কর্মীকে কাজ না দেওয়ায় ক্ষতিপূরণের নির্দেশ

যুক্তরাজ্যে বাড়ি ও ভাড়ার বৃদ্ধি: তরুণ প্রজন্মের স্বপ্ন হুমকির মুখে

নিউজ ডেস্ক