বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে ভারতের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ বাণিজ্যিক সম্পর্ক বজায় রাখলেও দুই দেশের বাণিজ্যে ভারসাম্যহীনতা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা রয়েছে। বাংলাদেশের আমদানির একটি বড় অংশ ঐতিহাসিকভাবে ভারত থেকে এলেও সাম্প্রতিক সময়ে বাণিজ্যিক সম্পর্ককে আরও বহুমুখী করার দিকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
শেয়ারনিউজ২৪-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ এখন কোনো একটি দেশের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমিয়ে চীন, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে বাণিজ্যিক যোগাযোগ বাড়ানোর চেষ্টা করছে। এর ফলে আমদানির উৎস যেমন বিস্তৃত হতে পারে, একই সঙ্গে বাংলাদেশি পণ্যের জন্য নতুন রপ্তানি বাজার তৈরির সুযোগও বাড়তে পারে।
বাণিজ্যিক সম্পর্কের এই বৈচিত্র্যকরণ ভারতের ঐতিহ্যগত বাজার-প্রভাবের জন্য নতুন বাস্তবতা তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে ভারতীয় পণ্যের বিকল্প হিসেবে অন্য দেশ থেকে পণ্য আমদানির সুযোগ বাড়লে বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের হাতে সরবরাহকারী নির্বাচনের ক্ষেত্রে আরও বেশি বিকল্প থাকবে।
তবে ভারত বাংলাদেশের জন্য শুধু একটি আমদানি উৎস নয়। দুই দেশের মধ্যে স্থলবন্দর, সীমান্তবাণিজ্য, পরিবহন ব্যবস্থা এবং আঞ্চলিক সরবরাহব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ রয়েছে। ফলে বাংলাদেশের বাণিজ্য বহুমুখীকরণের উদ্যোগকে কেবল ভারতবিরোধী অবস্থান হিসেবে না দেখে অর্থনৈতিক ঝুঁকি কমানো এবং বাণিজ্যিক সক্ষমতা বাড়ানোর প্রচেষ্টা হিসেবেও দেখা হচ্ছে।
প্রতিবেদনটিতে ভারতের কিছু রাজনৈতিক বক্তব্য ও গণমাধ্যমে বাংলাদেশের অতিরিক্ত ভারতনির্ভরতার যে ধারণা তুলে ধরা হয়, সেটিও আলোচনায় এসেছে। প্রতিবেদনের ভাষ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের সাম্প্রতিক বাণিজ্যিক উদ্যোগে একক কোনো দেশের ওপর নির্ভর না করে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।
বাণিজ্যিক সম্পর্ক যত বেশি বহুমুখী হবে, কোনো একটি দেশের সরবরাহ ব্যবস্থা, রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত কিংবা বাজার পরিস্থিতির কারণে বাংলাদেশের ওপর সম্ভাব্য ঝুঁকিও ততটা কমানো সম্ভব হতে পারে। একই সঙ্গে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে দর-কষাকষির সক্ষমতা বাড়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে।
বিশেষ করে চীন ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গে বাণিজ্য সম্প্রসারণের বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে। এসব দেশের সঙ্গে বাণিজ্য বাড়লে বাংলাদেশ নতুন সরবরাহকারী, বিনিয়োগকারী এবং রপ্তানি বাজারের সুযোগ পেতে পারে। তবে নতুন বাজারে প্রবেশের ক্ষেত্রে পণ্যের মান, উৎপাদন সক্ষমতা, প্রতিযোগিতামূলক মূল্য, পরিবহন ও লজিস্টিকস এবং বাণিজ্য চুক্তির সুবিধা নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ।
শুধু একটি দেশের ওপর নির্ভরতা কমানোই বাণিজ্য বহুমুখীকরণের শেষ লক্ষ্য নয়। নতুন অংশীদারদের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বাস্তব সুবিধা তৈরি করছে কি না, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। একই সঙ্গে বিদ্যমান অংশীদারদের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক বজায় রেখে নতুন বাজার ও সরবরাহব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রয়োজন রয়েছে।
বাংলাদেশের বৈদেশিক বাণিজ্য ও কূটনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে একাধিক দেশের সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ অংশীদারিত্ব তৈরির প্রবণতা ভবিষ্যতে আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। ভারতের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক বজায় রেখেও চীন, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য ও অন্যান্য অঞ্চলের সঙ্গে অর্থনৈতিক যোগাযোগ বাড়ানোর উদ্যোগ বাংলাদেশের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করতে পারে।
এ প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের বাণিজ্যনীতির মূল লক্ষ্য হিসেবে একক কোনো দেশের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ অর্থনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তোলার বিষয়টি সামনে আসছে। এর ফলে ভবিষ্যতে বাংলাদেশের সরবরাহব্যবস্থা, রপ্তানি বাজার এবং আঞ্চলিক বাণিজ্যিক অবস্থানে পরিবর্তন আসতে পারে।
সূত্রঃ শেয়ারনিউজ-২৪
এম.কে

