15.3 C
London
August 22, 2026
TV3 BANGLA
আন্তর্জাতিক

ভারতের জাতীয় সংগীত ‘বন্দে মাতরম’-এর স্তবক সবার ধর্মীয় বিশ্বাসের সঙ্গে মানানসই নয়ঃ শর্মিলা ঠাকুর

ভারতের জাতীয় গান ‘বন্দে মাতরম’ নিয়ে চলমান বিতর্কে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছেন বলিউডের বর্ষীয়ান অভিনেত্রী শর্মিলা ঠাকুর। তার মতে, ভারতের মতো বহু ধর্মের মানুষের দেশে গানটির প্রথম দুই স্তবকই যথেষ্ট। কারণ, পরের কিছু স্তবকের ভাষা এক স্রষ্টায় বিশ্বাসী মানুষের ধর্মীয় বিশ্বাসের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে।

বৃহস্পতিবার সংবাদ সংস্থা আইএএনএসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে শর্মিলা ঠাকুর বলেন, ভারতে বিভিন্ন ধর্মের মানুষ বসবাস করেন এবং তাদের অনেকেই এক ও অদ্বিতীয় স্রষ্টায় বিশ্বাস করেন। তাই জাতীয় পর্যায়ে কোনো গান বা প্রতীক ব্যবহারের ক্ষেত্রে দেশের সব মানুষের ধর্মীয় অনুভূতির বিষয়টি বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, ‘বন্দে মাতরম’-এর পরবর্তী কয়েকটি স্তবকে হিন্দু ধর্মের বিভিন্ন দেবদেবীর উল্লেখ রয়েছে। ফলে এক স্রষ্টায় বিশ্বাসী মানুষের জন্য ‘বন্দে কালী’ বা ‘বন্দে দুর্গা’র মতো বাক্য উচ্চারণ করা অস্বস্তিকর হতে পারে। তার মতে, দেশের সব ধর্মের মানুষের কাছে গানটি গ্রহণযোগ্য রাখতে প্রথম দুই স্তবক পরিবেশন করাই তুলনামূলকভাবে বেশি উপযুক্ত।

শর্মিলা ঠাকুরের এই বক্তব্য এমন এক সময়ে সামনে এলো, যখন ভারতে ‘বন্দে মাতরম’ পরিবেশন ও এর ঐতিহাসিক-রাজনৈতিক ব্যাখ্যা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক চলছে। বিশেষ করে কংগ্রেস ও বিজেপির মধ্যে গানটির কোন অংশ পরিবেশন করা উচিত, তা নিয়ে মতপার্থক্য দেখা দিয়েছে।

কংগ্রেসের অবস্থান হলো, জাতীয় গান হিসেবে ‘বন্দে মাতরম’-এর প্রথম দুই স্তবক পরিবেশন করা যেতে পারে। অন্যদিকে বিজেপির নেতারা কংগ্রেসের এই অবস্থানের সমালোচনা করছেন। ভারতের স্বাধীনতা দিবস উদযাপনের পর গানটির পরিবেশন এবং এর ঐতিহাসিক ব্যাখ্যা নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে।

শর্মিলা ঠাকুরের বক্তব্যের মূল বিষয়টি হলো—জাতীয় পরিচয়ের প্রতীক হিসেবে ব্যবহৃত কোনো গান দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের আবেগের পাশাপাশি সংখ্যালঘু ও ভিন্ন ধর্মীয় বিশ্বাসের মানুষের অনুভূতিকেও বিবেচনায় নেওয়া উচিত। তার মতে, একটি জাতীয় গানের গ্রহণযোগ্যতা শুধু ঐতিহাসিক গুরুত্বের ওপর নয়, দেশের সব মানুষের কাছে সেটি কতটা স্বস্তিদায়ক ও গ্রহণযোগ্য—সেটির ওপরও নির্ভর করে।

তার মন্তব্যে সরাসরি কোনো ধর্মকে আক্রমণ করা হয়নি; বরং ধর্মীয় বৈচিত্র্যের বাস্তবতা সামনে রেখে জাতীয় গানটির কোন অংশ সবার জন্য গ্রহণযোগ্য হতে পারে, সেই প্রশ্ন তোলা হয়েছে। বিশেষ করে একেশ্বরবাদী ধর্মীয় বিশ্বাসের সঙ্গে দেবদেবীর উল্লেখ থাকা অংশগুলোর সামঞ্জস্য নিয়ে তিনি নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন।

‘বন্দে মাতরম’ ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের ইতিহাসের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত এবং দেশটির জাতীয় সংগীত হিসেবে এর বিশেষ মর্যাদা রয়েছে। একই সঙ্গে গানটির কিছু অংশের ধর্মীয় ভাষা নিয়ে বিভিন্ন সময়ে বিতর্কও হয়েছে। ফলে শর্মিলা ঠাকুরের সাম্প্রতিক মন্তব্য সেই পুরোনো বিতর্ককে নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে।

বিশেষজ্ঞ ও রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের কাছে এখন বড় প্রশ্ন হলো—ভারতের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের মধ্যে জাতীয় প্রতীকগুলোর ব্যবহার কতটা সর্বজনীন হওয়া উচিত। শর্মিলা ঠাকুরের বক্তব্য সেই প্রশ্নকেই আবার আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে।

সূত্রঃ জি নিউজ/ সিটি এয়ার নিউজ

এম.কে

আরো পড়ুন

ইসরায়েলের পর সবচেয়ে বেশি ইহুদি ইরানে, তাদের নিয়ে ভাবছে না নেতানিয়াহ

মহান আল্লাহর প্রশংসা, ইরানের পুরোনো নেতারা আর বেচে নেইঃ ট্রাম্প

ট্রাম্পের শপথের আগে, বিদেশি শিক্ষার্থীদের দ্রুত, ফিরে আসার আহ্বান