আগামী নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টি কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ হারালে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে তৃতীয়বারের মতো অভিশংসনের মুখে পড়তে হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি নিজেই। দক্ষিণ ক্যারোলাইনায় নির্বাচনি প্রচারণায় সমর্থকদের উদ্দেশে ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছেন, ডেমোক্র্যাটরা কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নিলে তার সরকারের অর্জনগুলো বাতিল হয়ে যেতে পারে এবং তার শেষ দুই বছরের শাসন কঠিন হয়ে উঠবে।
মার্টল বিচে এক সমাবেশে ৮০ বছর বয়সী ট্রাম্প বলেন, ‘আমাকে অভিশংসিত করা হবে। তারা আমাকে অভিশংসিত করবে। কেন করবে, সে সম্পর্কে তাদের কোনো ধারণাই নেই।’ মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের জয়ের গুরুত্ব বোঝাতে গিয়ে তিনি সমর্থকদের ভোট দেওয়ার জন্য জোরালো আহ্বান জানান।
যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে ট্রাম্পই একমাত্র প্রেসিডেন্ট, যাকে দুইবার অভিশংসিত করা হয়েছে। তবে কোনোবারই তাকে পদ থেকে সরানো সম্ভব হয়নি। তার দ্বিতীয় মেয়াদেও কয়েকজন ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতা তাকে তৃতীয়বার অভিশংসনের উদ্যোগ নিয়েছেন। যদিও এসব উদ্যোগ এখন পর্যন্ত বড় কোনো অগ্রগতি অর্জন করেনি।
ট্রাম্পের আশঙ্কার পেছনে রয়েছে সম্ভাব্য কংগ্রেসীয় ক্ষমতার পরিবর্তন। বিভিন্ন পূর্বাভাসে প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটরা ফিরে পেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কিছু জরিপে সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নিয়েও ডেমোক্র্যাটদের সামান্য এগিয়ে থাকতে দেখা যাচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে ট্রাম্পের আইন প্রণয়ন ও প্রশাসনিক কর্মসূচি বাস্তবায়ন কঠিন হয়ে পড়তে পারে।
তবে ট্রাম্পকে অভিশংসন করা নিয়ে ডেমোক্র্যাটদের মধ্যেও একমত নেই। দলের কিছু নেতা মনে করছেন, এমন পদক্ষেপ ভোটারদের বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে। অন্যরা আশঙ্কা করছেন, অভিশংসন নিয়ে রাজনৈতিক লড়াই শুরু হলে দ্রব্যমূল্য কমানো ও অর্থনৈতিক সমস্যার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো জনআলোচনা থেকে আড়ালে চলে যেতে পারে।
সমাবেশে ট্রাম্প অর্থনীতি ও করনীতিকেও মধ্যবর্তী নির্বাচনের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত করেন। তিনি দাবি করেন, রিপাবলিকানরা নির্বাচনে হারলে সীমান্তনীতি, করছাড় এবং তার প্রশাসনের নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগ বাতিল হয়ে যেতে পারে।
ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা যদি হেরে যাই, তাহলে আপনারা সীমান্ত হারাবেন, আপনারা করছাড় হারাবেন, আমরা যা কিছু করেছি, সবকিছু হারাবেন।’ তিনি আরও দাবি করেন, তার প্রশাসন ইতিহাসের সবচেয়ে বড় করছাড় দিয়েছে এবং বকশিশ, প্রবীণদের সামাজিক নিরাপত্তা ভাতা ও অতিরিক্ত কর্মঘণ্টার মজুরির ওপর কর না থাকার সুবিধাও বিরোধীরা বাতিল করতে পারে।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, রিপাবলিকানরা পরাজিত হলে মানুষের কর বাড়তে পারে, আয় কমতে পারে এবং কর্মসংস্থানের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোও অন্যত্র চলে যাওয়ার ঝুঁকিতে পড়বে বলে তিনি সতর্ক করেন।
দক্ষিণ ক্যারোলাইনায় ট্রাম্পের সফরের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্দেশ্য ছিল রিপাবলিকান প্রার্থী ডারলাইন গ্রাহামের পক্ষে প্রচারণা চালানো। লিন্ডসে গ্রাহামের মৃত্যুর পর জুলাইয়ে তার বোন ডারলাইনকে ওই সিনেট আসনে নিয়োগ দেওয়া হয়। এখন তিনি আসনটি ধরে রাখতে নির্বাচনে লড়ছেন। তবে দলীয় প্রাথমিক নির্বাচনে সরাসরি জয় না পাওয়ায় তাকে দ্বিতীয় দফার নির্বাচনের মুখোমুখি হতে হচ্ছে।
ডারলাইন গ্রাহামের নির্বাচনি লড়াই ট্রাম্পের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, রিপাবলিকান দলের ওপর নিজের রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে দক্ষিণ ক্যারোলাইনাসহ গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গরাজ্যগুলোর দলীয় প্রার্থীদের জয় নিশ্চিত করা তার জন্য প্রয়োজনীয় হয়ে উঠেছে।
তবে সাম্প্রতিক দলীয় প্রাথমিক নির্বাচনের ফল ট্রাম্পের জন্য পুরোপুরি স্বস্তিদায়ক নয়। রিপাবলিকানদের প্রাথমিক নির্বাচনে তার সমর্থিত তিন প্রার্থী পরাজিত হয়েছেন। ফলে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা ও তার সমর্থকদের ভোটকেন্দ্রে নিয়ে আসার সক্ষমতা নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠছে।
সমর্থকদের ভোটে উৎসাহিত করতে ট্রাম্প তাদের বলেন, যেন তারা ধরে নেন যে তিনি নিজেই ব্যালটে প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন। তার ভাষায়, ট্রাম্প যখন ব্যালটে থাকেন তখন তার সমর্থকেরা ব্যাপকভাবে ভোট দেন, কিন্তু তিনি ব্যালটে না থাকলে তার সমর্থকদের একটি অংশ ভোট দিতে আসেন না।
ট্রাম্প বলেন, ‘দয়া করে ধরে নিন যে আমি ব্যালটে আছি। শুধু আসুন এবং ভোট দিন।’
মধ্যবর্তী নির্বাচন সাধারণত ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্টের জনপ্রিয়তা যাচাইয়ের গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক পরীক্ষা হিসেবে বিবেচিত হয়। ফলে আগামী নভেম্বরের ভোট শুধু কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নির্ধারণ করবে না, ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের বাকি দুই বছরের রাজনৈতিক শক্তি ও আইন প্রণয়নের সক্ষমতার ওপরও বড় প্রভাব ফেলতে পারে। ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, তিনি এই নির্বাচনে রিপাবলিকানদের পরাজয়কে নিজের প্রেসিডেন্ট হিসেবে ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক লড়াইয়ের জন্য বড় হুমকি হিসেবে দেখছেন।
সূত্রঃ এপি
এম.কে

