TV3 BANGLA
ফিচার

মীরা নায়ারের মা ও জোহরান মামদানির নানি প্রভীন নায়ারের মৃত্যু

ভারতের প্রখ্যাত চলচ্চিত্র নির্মাতা মীরা নায়ারের মা, বিশিষ্ট সমাজকর্মী ও মানবহিতৈষী প্রভীন নায়ার ৯৪ বছর বয়সে মারা গেছেন। শনিবার তার মৃত্যু হয়। দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকা প্রভীন নায়ার পথশিশুদের কল্যাণে কাজ করা দিল্লিভিত্তিক অলাভজনক প্রতিষ্ঠান সালাম বালক ট্রাস্ট-এর অন্যতম সহ-প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন। তার মৃত্যুতে সমাজসেবা ও সংস্কৃতি অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

প্রভীন নায়ার সমাজসেবায় যুক্ত ছিলেন বহু বছর ধরেই। ওড়িশায় অবস্থানকালে তিনি রেড ক্রস, ডিএভি পাবলিক স্কুল এবং ডেফ অ্যান্ড ডাম্ব অ্যাসোসিয়েশনের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্যক্রমে নেতৃত্ব দেন। তবে তার জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগের অনুপ্রেরণা আসে মেয়ে মীরা নায়ারের ১৯৮৮ সালের আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন চলচ্চিত্র ‘সালাম বম্বে!’ থেকে।

মুম্বাইয়ের পথশিশুদের জীবনসংগ্রাম নিয়ে নির্মিত চলচ্চিত্রটি কান চলচ্চিত্র উৎসবে ক্যামেরা দ’অর ও অডিয়েন্স অ্যাওয়ার্ড জয় করে এবং ১৯৮৯ সালে অস্কারের সেরা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র বিভাগে মনোনয়ন লাভ করে। ছবির বাস্তবধর্মী গল্প প্রভীন নায়ারকে গভীরভাবে নাড়া দেয় এবং তিনি পথশিশুদের জন্য স্থায়ীভাবে কাজ করার সিদ্ধান্ত নেন।

এরপর ১৯৮৮ সালে মীরা নায়ার, অঞ্জু চোপড়া ও সঞ্জয় কে. রায়ের সঙ্গে যৌথভাবে প্রতিষ্ঠা করেন সালাম বালক ট্রাস্ট। মাত্র ২৫ জন শিশু ও তিনজন কর্মী নিয়ে যাত্রা শুরু করা প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে ২৫টিরও বেশি আশ্রয়কেন্দ্র পরিচালনা করছে। ট্রাস্টের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠার পর থেকে ৮০ হাজারের বেশি শিশুর জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন এনেছে সংস্থাটি। অন্যদিকে সহ-প্রতিষ্ঠাতা সঞ্জয় কে. রায় জানান, দিল্লির বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্র ও আউটরিচ কার্যক্রমের মাধ্যমে ১ লাখ ৭০ হাজারেরও বেশি শিশুর কাছে পৌঁছানো সম্ভব হয়েছে।

প্রভীন নায়ারের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করে সঞ্জয় কে. রায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লেখেন, “একটি যুগের অবসান হলো। শিশুদের প্রতি তার ভালোবাসা, সহমর্মিতা এবং সমাজসেবার প্রতি অঙ্গীকার আমাদের পথ দেখিয়ে যাবে।”

ব্যক্তিগত জীবনেও প্রভীন নায়ার ছিলেন অনুপ্রেরণার প্রতীক। কান চলচ্চিত্র উৎসবে ‘সালাম বম্বে!’-এর প্রিমিয়ারে লাল গালিচায় হাঁটার সময় আলোকচিত্রীদের প্রশ্নের জবাবে তিনি মজা করে বলেছিলেন, “আমি পরিচালকের প্রযোজক।” তার এই রসবোধ আজও স্মরণ করেন অনেকেই।

প্রভীন নায়ারের প্রাণবন্ত ব্যক্তিত্ব তার নাতি, নিউইয়র্ক সিটির ভবিষ্যৎ মেয়র হিসেবে পরিচিত জোহরান মামদানিকেও অনুপ্রাণিত করেছিল। নিজের শিল্পী পরিচয় ‘মিস্টার কার্ডামম’ নামে তিনি ‘নানি’ শিরোনামের একটি র‍্যাপ গান তৈরি করেন, যা ছিল তার নানির প্রতি ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার নিবেদন। গানটি প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সাড়া ফেলে এবং প্রভীন নায়ারের ব্যক্তিত্ব নতুন প্রজন্মের কাছেও পরিচিত হয়ে ওঠে।

সমাজসেবা, মানবিকতা এবং শিশুদের প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসার মাধ্যমে প্রভীন নায়ার যে উত্তরাধিকার রেখে গেলেন, তা ভবিষ্যতেও অসহায় শিশুদের জীবন বদলে দেওয়ার অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।

সূত্রঃ দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস

এম.কে

আরো পড়ুন

৬জি এলে স্মার্টফোন চলে যাবে বাতিলের খাতায়: পেক্কা লুন্ডমার্ক

ব্রিক লেন কি বদলে ফেলছে এর আত্মপরিচয়?

২০ হাজার ইউরো মূল্যের নিও রোবট এখন ঘরের সব কাজ স্বয়ংক্রিয়ভাবে করতে পারবে