17.1 C
London
June 9, 2026
TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

মেয়ের জন্য অর্ডার করা ম্যাগাজিন পৌঁছাল ১৯ বছর পরঃ ব্রিটিশ ডাক বিভাগের ক্ষমা প্রার্থনা

যুক্তরাজ্যের চেশায়ার কাউন্টির চেস্টার শহরের বাসিন্দা পল এডওয়ার্ডসের জীবনে ঘটে গেল এক অবিশ্বাস্য ঘটনা। নবজাতক সন্তান লালন-পালন সম্পর্কিত পরামর্শ পাওয়ার আশায় ২০০৭ সালে তিনি যে ‘মাদার অ্যান্ড বেবি’ ম্যাগাজিনটি অর্ডার করেছিলেন, সেটি অবশেষে তার বাড়ির পোস্ট বক্সে এসে পৌঁছেছে ১৯ বছর পর।

ঘটনাটি এতটাই অদ্ভুত যে তা এখন পুরো ব্রিটেনে আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পল এডওয়ার্ডস বিষয়টি তুলে ধরার পর লাখো মানুষ বিস্ময় ও হাস্যরসের সঙ্গে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন।

৫২ বছর বয়সী পল এডওয়ার্ডস জানান, ২০০৭ সালে তিনি ওই ম্যাগাজিনটি অর্ডার করেছিলেন যখন তার মেয়ে ছিল মাত্র ১৮ মাস বয়সী এবং স্ত্রী তাদের দ্বিতীয় সন্তানের অপেক্ষায় ছিলেন। নতুন বাবা হিসেবে সন্তান লালন-পালনের নানা পরামর্শ, বিশেষ অফার এবং শিশুদের জন্য উপযোগী কার্যক্রম সম্পর্কে জানতে তিনি ম্যাগাজিনটির সদস্যতা গ্রহণ করেছিলেন।

কিন্তু সেই সময় ম্যাগাজিনটি আর তার হাতে পৌঁছায়নি। এত দীর্ঘ সময় পেরিয়ে যাওয়ার পর পরিবারটি বিষয়টিও ভুলে যায়। অবশেষে গত সপ্তাহে তার বাড়ির ডাকবাক্সে একটি ছেঁড়া ও কুঁচকানো প্লাস্টিকের মোড়কে সেটি এসে হাজির হয়।

ম্যাগাজিনটির সঙ্গে যুক্তরাজ্যের ডাকসেবা প্রতিষ্ঠান রয়্যাল মেইলের পক্ষ থেকে একটি ক্ষমা প্রার্থনার চিঠিও ছিল। চিঠিতে লেখা ছিল, “সৃষ্ট যেকোনো অসুবিধার জন্য আমরা আন্তরিকভাবে দুঃখিত।”

তবে পলের কাছে সবচেয়ে বিস্ময়কর ছিল এই ক্ষমা প্রার্থনার ভাষা। কারণ, যে শিশুদের লালন-পালনের পরামর্শ পাওয়ার জন্য তিনি ম্যাগাজিনটি অর্ডার করেছিলেন, তারা এখন আর শিশু নেই। তার মেয়ে ও ছেলে বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়ন করছে এবং পারিবারিক ঘরও ছেড়ে গেছে।

ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) ছবি পোস্ট করে পল লেখেন, “ভালো কাজ করেছে রয়্যাল মেইল। মাত্র ১৯ বছর লেগেছে ম্যাগাজিনটি পৌঁছাতে। অসুবিধা? আচ্ছা, বাচ্চারা তো ইতোমধ্যে বাড়ি ছেড়ে চলে গেছে!”

তার এই পোস্ট দ্রুত ভাইরাল হয়ে পড়ে। সংবাদমাধ্যমগুলোর তথ্য অনুযায়ী, পোস্টটি প্রায় ১৫ লাখের বেশি মানুষ দেখেছে এবং প্রায় ৬০ হাজারের কাছাকাছি মানুষ এতে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। অনেকেই নিজেদের বিলম্বিত ডাকসেবা পাওয়ার অভিজ্ঞতাও শেয়ার করেছেন।

বিবিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে পল বলেন, “অনেক নতুন বাবা-মায়ের মতো আমরাও সন্তান প্রতিপালনবিষয়ক পরামর্শ পাওয়ার জন্য বিভিন্ন সদস্যতা গ্রহণ করেছিলাম। পরে সবাই বুঝতে পারে, শেষ পর্যন্ত বিষয়গুলো নিজেদেরই শিখে নিতে হয়।”

তিনি আরও বলেন, “সত্যি বলতে, তখন হয়তো আমরা খেয়ালই করিনি যে ম্যাগাজিনটি কখনো পৌঁছায়নি। হঠাৎ করে এটি ডাকবাক্সে দেখে পুরো ঘটনাটিই আমাদের কাছে অবিশ্বাস্য মনে হয়েছে।”

রয়্যাল মেইল জানিয়েছে, তাদের ডাক বিতরণ কেন্দ্র ও বাছাইকরণ যন্ত্রগুলো নিয়মিত পরীক্ষা করা হয়। তাদের ধারণা, ম্যাগাজিনটি দীর্ঘদিন কোথাও আটকে থাকার পর সম্প্রতি কেউ আবার ডাক ব্যবস্থার মধ্যে ফিরিয়ে দিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, এটি অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনার সরাসরি ব্যর্থতা নাও হতে পারে।

তবে ঘটনাটি এমন এক সময়ে সামনে এলো, যখন যুক্তরাজ্যের ডাকসেবা প্রতিষ্ঠানটি সময়মতো চিঠি ও পার্সেল বিতরণে ব্যর্থতার অভিযোগে সমালোচনার মুখে রয়েছে। ডাক নিয়ন্ত্রক সংস্থা অফকম ইতোমধ্যে রয়্যাল মেইলের সেবার মান নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে। সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত বছরে প্রথম শ্রেণির প্রায় এক-চতুর্থাংশ ডাক নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পৌঁছায়নি। সময়মতো সেবা দিতে ব্যর্থ হওয়ায় ২০২৩ সালের পর থেকে প্রতিষ্ঠানটিকে কয়েক দফায় মোট ৩ কোটি ৭০ লাখ পাউন্ড জরিমানাও গুনতে হয়েছে।

অন্যদিকে, পল এডওয়ার্ডস জানিয়েছেন, অনেকে তাকে ২০০৭ সালের পুরোনো ম্যাগাজিনটি অনলাইনে বিক্রি করার পরামর্শ দিয়েছেন। তবে তিনি সেটি করতে আগ্রহী নন।

তার ভাষায়, “আমি এ ধরনের মানুষ নই। সম্ভবত এটি শেষ পর্যন্ত আবর্জনার ঝুড়িতেই যাবে।”

ডাকসেবার ইতিহাসে বিলম্বিত পার্সেলের ঘটনা নতুন নয়। তবে ১৯ বছর পর একটি শিশু পরিচর্যা বিষয়ক ম্যাগাজিন পৌঁছে যাওয়া এবং সেই সময়ের শিশুরা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হয়ে যাওয়ার ঘটনাটি নিঃসন্দেহে সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে ব্যতিক্রমী ডাক বিভ্রাটগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

সূত্রঃ দ্য গার্ডিয়ান

এম.কে

আরো পড়ুন

যুক্তরাজ্যে চোর আতঙ্কঃ সুপারমার্কেটে বার্গারেও লাগছে তালা

কৌশলে অগ্নিনিরাপত্তা এড়াচ্ছেন লন্ডনের বিল্ডাররা

অনলাইন ডেস্ক

আশ্রয়প্রার্থীরা ইউরোপে বাড়তি চাপ তৈরি করতে পারেঃ ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর সতর্কবার্তা