TV3 BANGLA
আন্তর্জাতিকবাংলাদেশ

মোদি-পেজেশকিয়ান বৈঠকের পর ভারতকে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার হুঁশিয়ারি

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের বৈঠকের পর নয়াদিল্লি-তেহরানের মধ্যে সম্ভাব্য বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা শুরু হলেও এমন কোনো চুক্তির সম্ভাবনা দেখছেন না বলে জানিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। একই সঙ্গে ইরানের ওপর আরোপিত মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এড়াতে কোনো দেশ তেহরানকে সহায়তা করলে ওই দেশের বিরুদ্ধেও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হতে পারে বলে কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এনডিটিভি জানায়, দ্য ব্রায়ান কিলমিড শো-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রুবিও ভারত ও ইরানের মধ্যে নতুন কোনো বাণিজ্য চুক্তির সম্ভাবনা নাকচ করেন। তার ভাষ্য, বিশ্বের প্রতিটি দেশই নিজেদের পররাষ্ট্রনীতি অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেয়। ইরানের সঙ্গে ভারতের যোগাযোগ রয়েছে, একইভাবে ওয়াশিংটনেরও তেহরানের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে।

তবে ইরানের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা নীতির বিষয়টি স্পষ্ট করে দেন রুবিও। তিনি বলেন, কোনো দেশেরই উচিত হবে না ইরানকে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দেওয়া।

রুবিও সতর্ক করে বলেন, কোনো দেশ যদি ইরানকে অর্থ উপার্জনের সুযোগ তৈরি করে দেয় কিংবা সন্ত্রাসবাদে অর্থায়নের পথ সহজ করে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র ওই দেশের বিরুদ্ধেও নিষেধাজ্ঞা প্রয়োগ করতে বাধ্য হবে। অর্থাৎ ইরানের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক রাখার ক্ষেত্রে ওয়াশিংটনের নিষেধাজ্ঞা নীতিকে পাশ কাটানোর চেষ্টা করলে ভারতসহ যেকোনো দেশই মার্কিন ব্যবস্থার মুখোমুখি হতে পারে—এমন বার্তাই দিয়েছেন তিনি।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আগের সতর্কবার্তারও প্রতিফলন দেখা যায়। ট্রাম্প প্রশাসন দীর্ঘদিন ধরে ইরানের অর্থনৈতিক সক্ষমতা সীমিত করা এবং দেশটির পারমাণবিক কর্মসূচির ওপর চাপ বাড়ানোর নীতি অনুসরণ করছে।

রুবিও বলেন, ট্রাম্প প্রশাসনের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হলো ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখা। এ লক্ষ্য অর্জনে ওয়াশিংটন মূলত অর্থনৈতিক চাপ ও নিষেধাজ্ঞাকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে। তবে পরিস্থিতির প্রয়োজন হলে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার অধিকারও যুক্তরাষ্ট্র সংরক্ষণ করছে বলে জানান তিনি।

এদিকে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা আরও তীব্র হওয়ার ইঙ্গিতও দিয়েছেন রুবিও। তার বক্তব্যে সাম্প্রতিক মার্কিন সামরিক হামলা এবং ভবিষ্যতে আরও হামলার সম্ভাবনার বিষয়টি উঠে আসে।

এর পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব মহসিন রেজাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে যুক্তরাষ্ট্রকে কঠোর হুঁশিয়ারি দেন। তিনি দাবি করেন, ইরানের নতুন কৌশল ওয়াশিংটনের ভিত্তিকে চূর্ণ করে দেওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে।

সব মিলিয়ে মোদি-পেজেশকিয়ান বৈঠকের পর ভারত-ইরান সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে যে কূটনৈতিক আলোচনা তৈরি হয়েছে, তাতে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। নয়াদিল্লি যদি তেহরানের সঙ্গে বাণিজ্যিক বা অর্থনৈতিক সম্পর্ক বাড়ানোর উদ্যোগ নেয়, তবে সেটি যেন মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে ইরানকে সুবিধা দেওয়ার পর্যায়ে না যায়—ওয়াশিংটনের সাম্প্রতিক বার্তায় মূলত সেই সতর্কতাই উঠে এসেছে।

সূত্রঃ এনডিটিভি

এম.কে

আরো পড়ুন

বিটকয়েনে বিলিয়ন ডলারের ধরা খেয়েছে ট্রাম্প পরিবার

জাপানের পর্যটন খাতে ২০ শতাংশ কর্মী সংকট

যুদ্ধবিরতি আলোচনার মাঝেই উত্তেজনা চরমেঃ ইরানে সর্বাত্মক হামলার সতর্কবার্তা ট্র‍্যাম্পের