17.7 C
London
March 5, 2026
TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

যুক্তরাজ্যে অবৈধ অভিবাসীদের দেশে ফেরাতে সর্বোচ্চ ৪০ হাজার পাউন্ড দেওয়ার পরিকল্পনা

যুক্তরাজ্যে অবৈধভাবে বসবাসকারী পরিবারগুলোকে স্বেচ্ছায় নিজ দেশে ফিরে যেতে উৎসাহিত করতে নতুন একটি পাইলট কর্মসূচি চালু করতে যাচ্ছে ব্রিটিশ সরকার। পরিকল্পনা অনুযায়ী, যারা সরকারের সঙ্গে সহযোগিতা করবে এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে দেশ ছাড়তে সম্মত হবে, তাদের প্রত্যেককে সর্বোচ্চ ১০ হাজার পাউন্ড পর্যন্ত আর্থিক সহায়তা দেওয়া হতে পারে। সরকারের দাবি, এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে আশ্রয়প্রার্থী ব্যবস্থাপনার বিপুল ব্যয় কমানো সম্ভব হবে।

হোম অফিস জানিয়েছে, পরীক্ষামূলকভাবে প্রায় ১৫০টি পরিবার—যাদের মধ্যে শিশুরাও রয়েছে—এই কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্ত হবে। যদি পাইলট প্রকল্প সফল হয়, তাহলে এটি বড় পরিসরে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। কর্মকর্তাদের হিসাব অনুযায়ী, সে ক্ষেত্রে বছরে প্রায় ২০ মিলিয়ন পাউন্ড পর্যন্ত ব্যয় সাশ্রয় হতে পারে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী শাবানা মাহমুদ সম্প্রতি ডেনমার্কের রাজধানী কোপেনহেগেন সফরকালে দেশটির অভিবাসন নীতি পর্যবেক্ষণ করেন। সেখান থেকে অনুপ্রাণিত হয়েই এই নতুন পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি। ডেনমার্কে দ্রুত দেশত্যাগে সম্মত পরিবারগুলোকে প্রায় ৩০ হাজার পাউন্ড পর্যন্ত দেওয়া হয় এবং সেই কৌশলের ফলে দেশটিতে বহিষ্কারের অপেক্ষায় থাকা মানুষের সংখ্যা প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে বলে দাবি করা হয়েছে।
বর্তমানে যুক্তরাজ্যে স্বেচ্ছায় দেশত্যাগে রাজি হওয়া ব্যক্তিদের প্রায় ৩ হাজার পাউন্ড দেওয়া হয়। তবে শাবানা মাহমুদ মনে করেন, এই অর্থ বাড়ালে আরও বেশি মানুষ দ্রুত দেশ ছাড়তে আগ্রহী হবে। নতুন পরিকল্পনায় নির্বাচিত পরিবারগুলোকে সাত দিনের মধ্যে প্রস্তাব গ্রহণ করতে হবে এবং সরকার যে দেশকে নিরাপদ হিসেবে নির্ধারণ করবে সেখানে ফিরে যেতে হবে।
হোম অফিসের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাজ্যে থাকার অধিকার না থাকা অনেক পরিবারকে হোটেলে রাখার কারণে বিপুল অর্থ ব্যয় হচ্ছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে একটি পরিবারকে আবাসন ও অন্যান্য সহায়তা দিতে বছরে প্রায় ১ লাখ ৫৮ হাজার পাউন্ড পর্যন্ত খরচ হচ্ছে। সরকারের মতে, নতুন উদ্যোগের মাধ্যমে এই ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব হবে।
এদিকে সরকার ঘোষণা দিয়েছে, যারা আশ্রয় ব্যবস্থার অপব্যবহার করবে তাদের জন্য আর্থিক সহায়তা ও আবাসনের সুবিধা সীমিত করা হবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ইউরোপীয় ইউনিয়নের কিছু আইনি বিধান বাতিল করে এমন ব্যক্তিদের আশ্রয় সহায়তা বন্ধ করা হতে পারে যারা নিজেরাই নিজেদের খরচ বহন করতে সক্ষম, আইন ভঙ্গ করে বা অবৈধভাবে কাজ করে।
তবে সরকার স্পষ্ট করেছে, ছোট নৌকায় করে অবৈধভাবে যুক্তরাজ্যে প্রবেশ করা সব অভিবাসী স্বয়ংক্রিয়ভাবে সহায়তা হারাবে না। বরং যাদের প্রকৃত প্রয়োজন রয়েছে এবং যারা আইন মেনে চলে, তাদের জন্যই সহায়তা সংরক্ষিত থাকবে।
সাম্প্রতিক সময়ে আশ্রয় নীতিতেও বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, শরণার্থী মর্যাদা আর স্থায়ী হবে না; বরং তা সাময়িকভাবে দেওয়া হবে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী প্রতি ৩০ মাস অন্তর আশ্রয়প্রার্থীদের অবস্থান পুনর্বিবেচনা করবেন। এই সময়ের মধ্যে যদি তাদের নিজ দেশ নিরাপদ বলে বিবেচিত হয়, তাহলে সংশ্লিষ্ট পরিবারগুলোকে দেশে ফিরে যেতে বলা হবে।
সরকারি হিসাব অনুযায়ী, গত বছর আশ্রয় সহায়তা খাতে প্রায় ৪ বিলিয়ন পাউন্ড ব্যয় হয়েছে। গত ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রায় ১ লাখ ৭ হাজার মানুষ আশ্রয় সহায়তা পাচ্ছিলেন, যার মধ্যে প্রায় ৩০ হাজারের বেশি মানুষ প্রায় ২০০টি আশ্রয় হোটেলে অবস্থান করছিলেন।
নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী, যারা দেশ ছাড়তে অস্বীকার করবে বা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় বাধা সৃষ্টি করবে তারা এই কর্মসূচির সুবিধা পাবে না এবং তাদের জন্য সরকারি সহায়তাও বন্ধ হতে পারে।
প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ার স্টারমার জানিয়েছেন, বর্তমান পার্লামেন্টের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই আশ্রয়প্রার্থীদের জন্য হোটেল ব্যবহারের ব্যবস্থা পুরোপুরি বন্ধ করার লক্ষ্য রয়েছে সরকারের। মন্ত্রীদের দাবি, ইতোমধ্যে হোটেলের সংখ্যা প্রায় এক-পঞ্চমাংশ কমানো হয়েছে এবং গত বছরে মোট আশ্রয় সহায়তা ব্যয় প্রায় ১৫ শতাংশ কমেছে।
শাবানা মাহমুদ তার আসন্ন ভাষণে বলবেন, এই সংস্কারগুলো লেবার পার্টির নীতির সঙ্গেই সামঞ্জস্যপূর্ণ। তার মতে, সীমান্তে শৃঙ্খলা ও নিয়ন্ত্রণ ফিরিয়ে আনা লেবারের মূল্যবোধের বিরোধী নয়, বরং সেটিরই বাস্তব প্রতিফলন। তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্রের প্রতি জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধার করতে হলে দৃশ্যমান সমস্যাগুলোর কার্যকর সমাধান নিশ্চিত করা জরুরি।
সূত্রঃ এলবিসি
এম.কে

আরো পড়ুন

তিন দিনে ১৩০০ অভিবাসনপ্রত্যাশীর যুক্তরাজ্যের উদ্দেশ্যে যাত্রা

অনলাইন ডেস্ক

যুক্তরাজ্যে হঠাৎ করেই জরুরী পরিস্থিতিতে প্রস্তুত থাকার জন্য জনগণের প্রতি আহ্বান

তীব্র গরমে ইংল্যান্ডের দরিদ্র ও সংখ্যালঘুরা বসবাস করছে অতিরিক্ত উত্তপ্ত ঘরে