TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

যুক্তরাজ্যে অবৈধ প্রবেশে নাগরিকত্ব নয়—হোম অফিস নীতির বৈধতা যাচাই হবে আদালতে

২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে হোম অফিস জারি করা ব্রিটিশ নাগরিকত্ব সংক্রান্ত ‘গুড ক্যারেক্টার’ নির্দেশিকার বিরুদ্ধে পূর্ণাঙ্গ বিচারিক পর্যালোচনার অনুমতি দিয়েছে যুক্তরাজ্যের হাইকোর্ট। উইলসন সলিসিটরস জানিয়েছে, আগামী ৯ থেকে ১১ জুন ২০২৬ পর্যন্ত তিন দিনব্যাপী এই শুনানি অনুষ্ঠিত হবে ডিভিশনাল কোর্টে, যা জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ মামলার বিচার করে থাকে।

 

শুনানি শেষে কয়েক মাসের মধ্যে লিখিত রায় প্রকাশের সম্ভাবনা রয়েছে।

মামলাটিতে চারজন প্রধান দাবিদার রয়েছেন, যারা সবাই স্বীকৃত শরণার্থী এবং যুক্তরাজ্যে ইন্ডেফিনিট লিভ টু রিমেইন (ILR) প্রাপ্ত। একই নীতির আওতায় প্রত্যাখ্যাত বা ক্ষতিগ্রস্ত অন্যান্য আবেদনকারীদের মামলাও আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে, লিড মামলার রায়ের ওপর নির্ভর করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। আদালত আরও নির্দেশ দিয়েছে, যারা এই নীতির কারণে নাগরিকত্ব থেকে বঞ্চিত হয়েছেন, তারা লিড মামলার রায় ঘোষণার তিন মাসের মধ্যে বিচারিক পর্যালোচনার আবেদন করার সুযোগ পাবেন।

আইনি চ্যালেঞ্জের কেন্দ্রে রয়েছে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে সংশোধিত ‘গুড ক্যারেক্টার: কেসওয়ার্কার গাইডেন্স’। নতুন নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, কেউ অবৈধভাবে যুক্তরাজ্যে প্রবেশ করলে—সে ঘটনা যত পুরোনোই হোক—সাধারণত তার ব্রিটিশ নাগরিকত্ব আবেদন প্রত্যাখ্যান করা হবে। এর আগে নীতিমালায় এমন বিধান ছিল যে, আবেদনকারী ILR পাওয়ার পর দীর্ঘ সময় ধরে সুনাগরিক হিসেবে বসবাস করলে অতীতের কিছু অভিবাসন লঙ্ঘন উপেক্ষা করা যেতে পারত।

উইলসন সলিসিটরসের দাখিল করা আবেদনে বলা হয়েছে, সংশোধিত নীতিটি আইনের ভুল ব্যাখ্যার ওপর দাঁড়িয়ে আছে। বিশেষ করে শরণার্থীদের ক্ষেত্রে রিফিউজি কনভেনশনের বিধান—যেখানে নির্যাতন থেকে পালিয়ে আসা মানুষের অবৈধ প্রবেশকে অপরাধ হিসেবে না দেখার কথা বলা হয়েছে—তা যথাযথভাবে প্রয়োগ করা হয়নি। একই সঙ্গে নীতিমালায় ইউরোপীয় মানবাধিকার কনভেনশনের অধীনে আবেদনকারীর ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবনের অধিকারের ওপর প্রত্যাখ্যানের প্রভাব যথেষ্টভাবে বিবেচনার বাধ্যবাধকতা নেই বলে দাবি করা হয়েছে।

আইনি যুক্তিতে আরও বলা হয়, এই নীতি কার্যত বৈষম্যমূলক এবং যুক্তরাজ্যের নাগরিকত্ব আইনের মূল উদ্দেশ্যের পরিপন্থী। দীর্ঘদিন বৈধভাবে বসবাস করা, কর প্রদান করা এবং সমাজে একীভূত হয়ে ওঠা শরণার্থীদের নাগরিকত্ব থেকে বঞ্চিত করা যুক্তিসঙ্গত নয়—এমন দাবি তোলা হয়েছে। উইলসনসের মতে, নীতিটি প্রশাসনিক আইনের দৃষ্টিতেও অযৌক্তিক ও বেআইনি।

অন্যদিকে হোম সেক্রেটারি এই অভিযোগগুলো অস্বীকার করেছেন। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ‘গুড ক্যারেক্টার’ মূল্যায়নে সিদ্ধান্ত গ্রহণকারীদের পর্যাপ্ত বিবেচনাধিকার রয়েছে এবং প্রতিটি আবেদন ব্যক্তিগত পরিস্থিতি বিবেচনা করেই দেখা হয়। সরকারের দাবি, নাগরিকত্ব প্রত্যাখ্যান করা রিফিউজি কনভেনশনের আর্টিকেল ৩১ অনুযায়ী কোনো “শাস্তি” হিসেবে গণ্য হয় না।

এদিকে এই নীতির বিরুদ্ধে আইনি লড়াইয়ে ইতোমধ্যে কিছু সাফল্যের নজিরও রয়েছে। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো থেকে আসা এক শরণার্থী আদালতে চ্যালেঞ্জ করে নাগরিকত্ব আদায় করতে সক্ষম হন। সংশোধিত ‘গুড ক্যারেক্টার’ নীতির আওতায় এটিকে প্রথম সফল আইনি চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হয়।

আগামী জুনের শুনানিকে ঘিরে শরণার্থী অধিকারকর্মী ও অভিবাসন আইন বিশেষজ্ঞদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। এই মামলার রায় ভবিষ্যতে হাজারো শরণার্থীর ব্রিটিশ নাগরিকত্ব পাওয়ার পথ সহজ করবে নাকি আরও কঠোর করবে—সে প্রশ্নের উত্তর মিলবে হাইকোর্টের সিদ্ধান্তে।

সূত্রঃ ইআইএনঅর্গইউকে

এম.কে

আরো পড়ুন

ইংল্যান্ডে গৃহহীনতার প্রকৃত চিত্র সরকারি হিসাবের চেয়ে ভয়াবহ — ক্রাইসিসের প্রতিবেদন

ক্রিসমাসের আগেই ফিরছে লন্ডনের ওভারগ্রাউন্ড নাইট সার্ভিস

বড়দিনের ছুটিতে ব্রিটিশদের মানতে হবে ৫ নতুন নিয়ম

অনলাইন ডেস্ক