23.4 C
London
August 17, 2026
TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

যুক্তরাজ্যে আইএলআর নিয়ে নতুন ঝড়ঃ উইন্ডরাশ প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের অভিযোগে চাপে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

যুক্তরাজ্যে অনির্দিষ্টকালের বসবাসের অনুমতি (আইএলআর) পাওয়ার নিয়ম কঠোর করার সরকারি পরিকল্পনা নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদের প্রস্তাবিত ‘আর্নড সেটেলমেন্ট’ নীতিকে কেন্দ্র করে লেবার দলের বিদ্রোহী এমপিদের পাশাপাশি উইন্ডরাশ-সংশ্লিষ্ট একটি অধিকারবিষয়ক দাতব্য সংস্থাও অভিযোগ করেছে, এই পরিকল্পনা ২০১৮ সালের উইন্ডরাশ কেলেঙ্কারির পর দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ সরকারি প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের ঝুঁকি তৈরি করছে।

সরকারের প্রস্তাব অনুযায়ী, অধিকাংশ অভিবাসীর জন্য আইএলআর পাওয়ার স্বাভাবিক যোগ্যতার সময়সীমা পাঁচ বছর থেকে বাড়িয়ে ১০ বছর করা হবে। শুধু নতুন আবেদনকারী নয়, ইতোমধ্যে যুক্তরাজ্যে অবস্থানরত এবং এখনো আইএলআর না পাওয়া অনেক অভিবাসীকেও নতুন ব্যবস্থার আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। এই প্রস্তাব প্রকাশের পর থেকেই লেবার পার্টির একাংশের এমপিরা এর বিরোধিতা করে আসছেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ এর আগে যুক্তি দিয়েছিলেন, যুক্তরাজ্যে স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি কোনো স্বয়ংক্রিয় অধিকার নয়; বরং এটি এমন একটি বিশেষ সুবিধা, যা অবদান, আইন মেনে চলা, ভাষাগত দক্ষতা এবং সমাজে সম্পৃক্ততার মাধ্যমে অর্জন করতে হবে। সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, এই সংস্কারের উদ্দেশ্য হলো অভিবাসন ব্যবস্থাকে আরও নিয়ন্ত্রিত করা এবং যারা দেশের জন্য বেশি অবদান রাখবেন, তাদের জন্য ভিন্ন সুযোগ রাখা।

তবে ওয়ার্ক রাইটস সেন্টার অভিযোগ করেছে, এত বড় নীতিগত পরিবর্তনের আগে জনগণের সামনে এর সম্ভাব্য প্রভাবের মূল্যায়ন প্রকাশ করা উচিত ছিল। সংস্থাটির দাবি, উইন্ডরাশ কেলেঙ্কারির পর সরকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল যে ভবিষ্যতের বড় অভিবাসন নীতিগত পরিবর্তনের ক্ষেত্রে কঠোর প্রভাব মূল্যায়ন জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে, যাতে জনগণ তথ্যভিত্তিক মতামত দেওয়ার সুযোগ পান। কিন্তু আইএলআর পরিবর্তনের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাবের ক্ষেত্রে সেই মূল্যায়ন জনপরামর্শ শুরুর আগেই প্রকাশ করা হয়নি, যা স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার ঘাটতি তৈরি করেছে।

সংস্থাটির প্রধান নির্বাহী ডোরা-অলিভিয়া ভিকল বলেন, বিরোধী দলে থাকাকালে লেবার পার্টি উইন্ডরাশ পর্যালোচনার সুপারিশগুলো জোরালোভাবে সমর্থন করেছিল, অথচ ক্ষমতায় এসে সেই অবস্থান থেকে সরে এসেছে। তার মতে, বৈধভাবে যুক্তরাজ্যে এসে অর্থনীতি ও সমাজে অবদান রাখা প্রায় ২০ লাখ মানুষের ভবিষ্যৎ এই পরিবর্তনের কারণে অনিশ্চয়তার মুখে পড়তে পারে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, মন্ত্রীরা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর প্রভাব মূল্যায়ন প্রকাশ করলে জনপরামর্শের উদ্দেশ্যই ক্ষুণ্ন হবে।

আগামী মাসে পার্লামেন্টে ওয়ার্ক রাইটস সেন্টারের আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে উইন্ডরাশ কেলেঙ্কারি থেকে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিরা এবং স্বাস্থ্য ও পরিচর্যা খাতের কর্মীরা নতুন আইএলআর পরিকল্পনার সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে বক্তব্য দেবেন। সেখানে লেবার দলের কয়েকজন এমপিরও অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে, যা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে বিষয়টি দলীয় রাজনীতির ভেতরেও গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠেছে।

এদিকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আইএলআর সংস্কার নিয়ে দুই লাখের বেশি মতামত পাওয়ার পর আগামীতে চূড়ান্ত নীতি ঘোষণা করা হবে। তখনই পূর্ণাঙ্গ প্রভাব মূল্যায়ন প্রকাশ করা হবে বলে সরকার আশ্বাস দিয়েছে। তবে সমালোচকদের মতে, প্রভাব মূল্যায়ন জনপরামর্শের আগে প্রকাশ না করায় উইন্ডরাশ-পরবর্তী সংস্কারের মূল চেতনাই প্রশ্নের মুখে পড়েছে।

সূত্রঃ দ্য লন্ডন ইকোনমিক্স

এম.কে

আরো পড়ুন

ফ্রান্স-ব্রিটেনে মানবপাচার: ১১ বছরের দণ্ড এক পাচারকারীর

যুক্তরাজ্যে অর্ধেক জনগণ পেনশন সঞ্চয় করছে না, নতুন সংকটে যুক্তরাজ্য

যুক্তরাজ্যে কোকেন আমদানিকারী গ্যাং সদস্যদের ১৬৭ বছরের কারাদণ্ড

অনলাইন ডেস্ক