TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

যুক্তরাজ্যে আশ্রয়প্রার্থীদের অবৈধ ডেলিভারি চাকুরি নিয়ে বিতর্ক

যুক্তরাজ্যে পৌঁছানোর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই আশ্রয়প্রার্থীরা Deliveroo ও Just Eat-এর ভাড়া করা অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে অবৈধভাবে কাজ করছে—দ্য সান পত্রিকার এমন এক প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আগামী সপ্তাহে খাদ্য ডেলিভারি কোম্পানিগুলোর সঙ্গে বৈঠকে বসছে সরকার।

আইন অনুযায়ী, যুক্তরাজ্যে আশ্রয়প্রার্থীরা প্রথম ১২ মাস বা আবেদন অনুমোদনের আগ পর্যন্ত কোনো ধরনের কাজ করতে পারেন না। কিন্তু দ্য সানের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, সরকারি আশ্রয় হোটেলে থাকা অনেক অভিবাসী প্রতি সপ্তাহে এসব অ্যাপে কাজ করে £১,০০০ পাউন্ড পর্যন্ত আয় করছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, সোশ্যাল মিডিয়ায় ডজন ডজন ফোরাম রয়েছে, যেখানে বৈধ রাইডাররা তাদের অ্যাকাউন্ট £৪০ পাউন্ডে সপ্তাহে সাব-লেট করছে।

ডাউনিং স্ট্রিটের এক মুখপাত্র বলেন, “এই বেআইনি কর্মপন্থা সৎ ব্যবসাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে, স্থানীয় শ্রমমূল্য কমিয়ে দেয়। যার দরুন সরকার এর বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেবে।”

Deliveroo জানিয়েছে, তারা তাদের প্ল্যাটফর্মের অপব্যবহারে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করে এবং যেসব অ্যাকাউন্ট আইনি বাধ্যবাধকতা পূরণ করে না, সেগুলো বাতিল করে দেয়া হবে।

Just Eat জানায়, তারা বিকল্প রাইডার ব্যবহারের ক্ষেত্রে রাইট-টু-ওয়ার্ক যাচাই বাধ্যতামূলক করেছে এবং ফেসিয়াল রিকগনিশনের মতো উন্নত প্রযুক্তি চালু করেছে।

Uber Eats বলেছে, তারা হোম অফিসের সঙ্গে যৌথভাবে নতুন সনাক্তকরণ ব্যবস্থা চালু করেছে, যার মাধ্যমে অবৈধভাবে কাজ করা অ্যাকাউন্টগুলো সনাক্ত করে সরিয়ে ফেলা হচ্ছে।

কনজারভেটিভ দলের শ্যাডো স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ক্রিস ফিলিপ অভিযোগ করেছেন, ইভেট কুপারের হোম অফিস পরিচালিত আশ্রয়প্রার্থীদের হোটেলে অবস্থান করে এই অবৈধ কাজ করে যাচ্ছে আশ্রয়প্রার্থীরা।

তথ্যমতে জানা যায়, সরকারের পক্ষ হতে বৈঠকে উপস্থিত থাকবেন বর্ডার সিকিউরিটি মন্ত্রী ডেম অ্যাঞ্জেলা ঈগল, যিনি বিষয়টি নিয়ে ডেলিভারি কোম্পানিগুলোর কাছে ব্যাখ্যা চাইবেন।

এদিকে, যুক্তরাজ্যের স্বতন্ত্র অভিবাসন পরিদর্শক ডেভিড বোল্ট বলেছেন, ২০২৯ সালের মধ্যে আশ্রয়প্রার্থীদের হোটেল ব্যবস্থার অবসান ঘটানোর সরকারি পরিকল্পনা “বাস্তবায়নযোগ্য নয়।”

তিনি জানান, আশ্রয় আবেদন প্রত্যাখ্যানের পর আপিলের সংখ্যা বেড়েছে এবং হাউজিং সংকটের কারণে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা খুব কঠিন হবে।

ডাউনিং স্ট্রিট জানিয়েছে, তারা এরই মধ্যে হোটেলের সংখ্যা ৪০০ থেকে ২১০-তে নামিয়ে এনেছে এবং সংসদের বর্তমান মেয়াদ শেষের আগেই হোটেল ব্যবস্থার অবসানে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

বোল্ট আরও বলেন, চ্যানেল পাড়ি দিয়ে যুক্তরাজ্যে আসা অভিবাসীদের ঠেকাতে পাচারকারীদের নয়, বরং যুক্তরাজ্যের অবৈধ কাজের সুযোগগুলোর বিরুদ্ধে অভিযান চালাতে হবে।

সূত্রঃ বিবিসি

এম.কে
২৭ জুন ২০২৫

আরো পড়ুন

বাংলাদেশে নতুন বা‌ণিজ্য দূত নিয়োগ ক‌রল যুক্তরাজ্য

নিরাপত্তা উদ্বেগে উত্তাল ব্রিটেনঃ অপরাধে জড়িত বিদেশিদের বহিষ্কারের আহ্বান জোরালো

যুক্তরাজ্যে হাসপাতালের রেকর্ড রুমে পানিতে ভিজে কয়েক’শো রুগীর নথিপত্র নষ্ট