যুক্তরাজ্যে ২০২৫ সালে আশ্রয়প্রার্থীর সংখ্যা আগের বছরের তুলনায় ৪ শতাংশ কমেছে। তবে একই সময়ে ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দিয়ে ছোট নৌকায় আগমন বেড়েছে ১৩ শতাংশ। সর্বশেষ সরকারি পরিসংখ্যানে এমন চিত্র উঠে এসেছে।
হোম অফিসের তথ্য অনুযায়ী, ডিসেম্বর পর্যন্ত এক বছরে ১ লাখ ৬২৫ জন আশ্রয়ের আবেদন করেছেন। এদের মধ্যে ৪১ শতাংশ ছোট নৌকায় করে দেশে প্রবেশ করেছেন। ছোট নৌকায় আগমনের সংখ্যা বেড়ে ৪১ হাজার ২৬২ জনে দাঁড়ালেও, এটি ২০২২ সালের সর্বোচ্চ ৪৫ হাজার ৭৭৪ জনের তুলনায় এখনো কম।
পরিসংখ্যান বলছে, অন্যান্য অবৈধ রুটে আগমন উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। লরি, শিপিং কনটেইনার বা বৈধ কাগজপত্র ছাড়া প্রবেশপথে হাজির হওয়া ব্যক্তিদের সংখ্যা ২০ শতাংশ কমে ১১ হাজার ১৯০ জনে নেমেছে। একই সঙ্গে কাজ, পড়াশোনা বা ভিজিট ভিসায় পূর্বে যুক্তরাজ্যে প্রবেশ করে পরে আশ্রয়ের আবেদন করেছেন—এমন আবেদনকারীর সংখ্যা ২০২৫ সালে প্রায় ৩৯ হাজারে স্থিতিশীল রয়েছে, যা ২০২১ সালের পর থেকে ধারাবাহিকভাবে বাড়ছিল।
ছোট নৌকায় আগতদের মধ্যে ইরিত্রিয়া (১৯%), আফগানিস্তান (১২%), ইরান (১১%), সুদান (১১%) এবং সোমালিয়া (৯%) নাগরিকের হার সবচেয়ে বেশি। উষ্ণ আবহাওয়ার কারণে সাম্প্রতিক দিনগুলোতে চ্যানেল পারাপারের চেষ্টা বেড়েছে। সপ্তাহের শুরুতে এক দিনে ৭৪ জন আগমন করেন। কেন্টের রামসগেটে বর্ডার ফোর্স ও আরএনএলআই লাইফবোটের মাধ্যমে বহু নারী ও শিশুসহ যাত্রীদের উদ্ধার করতে দেখা গেছে। একদিনেই ৬০৫ জন ছোট নৌকায় যুক্তরাজ্যে পৌঁছান।
আবাসন ব্যবস্থায়ও পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। হোটেলে থাকা আশ্রয়প্রার্থীর সংখ্যা ১৯ শতাংশ কমে ৩০ হাজার ৬৫৭ জনে দাঁড়িয়েছে। গত এক বছরে ৭২ হাজারের বেশি মানুষকে দীর্ঘমেয়াদি আবাসনে স্থানান্তর করা হয়েছে, যার মধ্যে বহুবাসিন্দা বাড়ি অন্তর্ভুক্ত। সরকার ২০২৯ সালের মধ্যে সব আশ্রয় হোটেল বন্ধ করে বড় সাইট, যেমন সামরিক স্থাপনা ব্যবহারের পরিকল্পনা আগেই ঘোষণা করেছে।
শিক্ষা ও কর্মভিত্তিক ভিসার ক্ষেত্রেও পরিবর্তন এসেছে। স্পনসরকৃত স্টাডি ভিসা ৩ শতাংশ বেড়ে ৪ লাখ ২৬ হাজার ৪৭১ জনে দাঁড়ালেও, ২০২৩ সালের সর্বোচ্চ সংখ্যার তুলনায় এখনো ৩৫ শতাংশ কম। ভারতীয়, চীনা ও পাকিস্তানি শিক্ষার্থীরা এ ক্ষেত্রে শীর্ষে। শিক্ষার্থীদের নির্ভরশীলদের জন্য ইস্যু করা ভিসা ১০ শতাংশ কমে ১৯ হাজার ৬৪৭-এ নেমেছে, যা সাম্প্রতিক নীতিগত কড়াকড়ির প্রভাব হিসেবে দেখা হচ্ছে।
কাজসংক্রান্ত ভিসায় প্রবেশাধিকার পাওয়া ব্যক্তির সংখ্যা আবেদনকারী ও নির্ভরশীল মিলিয়ে ২ লাখ ৬১ হাজার ১১২ জন, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৩০ শতাংশ কম। অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে সরকারের কড়াকড়ি নীতির প্রভাব এখানে প্রতিফলিত হয়েছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।
আশ্রয় আবেদনের জটও কমেছে। বর্তমানে সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় থাকা আবেদনকারীর সংখ্যা ৬৪ হাজার ৪২৬ জন, যা ২০২০ সালের পর সর্বনিম্ন। গত বছরে ১ লাখ ৮ হাজার আবেদন নিষ্পত্তি করা হয়েছে—এর মধ্যে ৪২ শতাংশকে শরণার্থী বা সুরক্ষা মর্যাদা দেওয়া হয়েছে এবং ৫৮ শতাংশ আবেদন প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। প্রত্যাখ্যাতদের আপিলের সুযোগ রয়েছে।
ডিসেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত বছরে ৯ হাজার ৯১৪ জনকে জোরপূর্বক ফেরত পাঠানো হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় ২১ শতাংশ বেশি। স্বরাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, আশ্রয়সংক্রান্ত প্রত্যাবাসন, বিদেশি অপরাধীদের অপসারণ এবং ছোট নৌকায় আগতদের ফেরত পাঠানোর কর্মসূচি এ বৃদ্ধির পেছনে ভূমিকা রেখেছে। গত পাঁচ বছরে জোরপূর্বক ফেরত পাঠানোদের মধ্যে আলবেনীয় নাগরিকরাই ধারাবাহিকভাবে সবচেয়ে বেশি ছিল।
সূত্রঃ বিবিসি
এম.কে

