TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

যুক্তরাজ্যে আশ্রয়প্রার্থীদের হোটেলবাস অর্ধেকেঃ ২০২৯ সালের মধ্যে হোটেল বন্ধের লক্ষ্য

যুক্তরাজ্যে আশ্রয়প্রার্থীদের অস্থায়ী আবাসন হিসেবে ব্যবহৃত হোটেলের ওপর নির্ভরতা দ্রুত কমছে। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জুনের শেষে দেশটির হোটেলগুলোতে অবস্থান করছিলেন ১৬ হাজার ২১ জন আশ্রয়প্রার্থী। এক বছর আগে এই সংখ্যা ছিল ৩২ হাজার ৪১ জন। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে হোটেলে থাকা আশ্রয়প্রার্থীর সংখ্যা প্রায় ৫০ শতাংশ কমেছে।

২০২২ সালে হোটেলে থাকা আশ্রয়প্রার্থীর সংখ্যা প্রকাশ শুরু হওয়ার পর এটি সর্বনিম্ন পর্যায়। এর আগে ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরের শেষে হোটেলগুলোতে আশ্রয়প্রার্থীর সংখ্যা সর্বোচ্চ ৫৬ হাজার ১৮ জনে পৌঁছেছিল। ফলে সর্বোচ্চ পর্যায়ের তুলনায় বর্তমানে হোটেলনির্ভর আশ্রয়প্রার্থীর সংখ্যা প্রায় ৭১ শতাংশ কমে এসেছে।

সরকারের লক্ষ্য শুধু সংখ্যা কমানো নয়; বর্তমান সংসদীয় মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই আশ্রয়প্রার্থীদের আবাসনের জন্য হোটেল ব্যবহার পুরোপুরি বন্ধ করার পরিকল্পনা রয়েছে। অর্থাৎ ২০২৯ সালের মধ্যে এই ব্যবস্থা শেষ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে সরকার।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী শাবানা মাহমুদ সর্বশেষ পরিসংখ্যানকে সরকারের অভিবাসন নীতির অগ্রগতির প্রমাণ হিসেবে তুলে ধরেছেন। তার দাবি, দায়িত্ব নেওয়ার দুই বছরের কিছু বেশি সময়ের মধ্যে আশ্রয় আবেদনের জট কমেছে, হোটেলে থাকা মানুষের সংখ্যা কমেছে, অবৈধভাবে কাজ করার অভিযোগে গ্রেপ্তার বেড়েছে এবং বহিষ্কার ও প্রত্যাবাসনের সংখ্যাও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

শাবানা মাহমুদের ভাষায়, ছোট নৌকায় ইংলিশ চ্যানেল পেরিয়ে যুক্তরাজ্যে আসার সংখ্যাও কমছে। তবে সরকার পরিস্থিতিতে আত্মতুষ্ট নয়। অবৈধ ও ঝুঁকিপূর্ণ পথে যুক্তরাজ্যে আসার প্রবণতা কমাতে ফ্রান্সের উপকূলসহ বিদেশে আইন প্রয়োগকারী তৎপরতা জোরদার এবং নতুন আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

আশ্রয়প্রার্থীদের হোটেলনির্ভরতা কমানোর অংশ হিসেবে আগস্টের শুরুতে আরও ১৩টি হোটেল বন্ধ করা হয়েছে। এর ফলে আশ্রয়প্রার্থীদের আবাসন হিসেবে ব্যবহৃত হোটেলের মোট সংখ্যা ১৬০টির নিচে নেমে এসেছে। কনজারভেটিভ সরকারের সময় এই সংখ্যা প্রায় ৪০০-তে পৌঁছেছিল।

সরকার এখন হোটেলের পরিবর্তে তুলনামূলকভাবে কম খরচের ও সাধারণ আবাসনকেন্দ্র ব্যবহারের দিকে যাচ্ছে। এর মধ্যে সাবেক সামরিক ব্যারাকসহ বড় আকারের বিকল্প স্থাপনাও রয়েছে। নতুন ১৩টি হোটেল বন্ধের ফলে করদাতাদের প্রায় ৫১ মিলিয়ন পাউন্ড সাশ্রয় হবে বলে জানানো হয়েছে।

তবে হোটেলের সংখ্যা কমলেও আশ্রয় ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিতর্ক পুরোপুরি শেষ হয়নি। বিশেষ করে আশ্রয়প্রার্থীদের বিকল্প আবাসনের মান, দীর্ঘদিন ধরে আবাসনে থাকা এবং শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে বিভিন্ন মহলে উদ্বেগ রয়েছে। চলতি সপ্তাহেই একটি সংসদীয় প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পরিচালিত আশ্রয়প্রার্থীদের হোটেল থেকে নিখোঁজ হওয়া ৪৭২ শিশুর মধ্যে ৪৩২ জনকে খুঁজে পাওয়া গেলেও ৪০ জন এখনো নিখোঁজ।

হোটেলনির্ভরতা কমার পাশাপাশি আশ্রয় ব্যবস্থায় সরকারি ব্যয়ও কমেছে। ২০২৫–২৬ অর্থবছরে আশ্রয় ব্যবস্থাপনায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ব্যয় ছিল ৪ দশমিক ৩৬ বিলিয়ন পাউন্ড, যা আগের অর্থবছরের ৪ দশমিক ৭৬ বিলিয়ন পাউন্ডের তুলনায় প্রায় ৮ শতাংশ কম।

তবে যুক্তরাজ্যের আশ্রয় ব্যবস্থার সামগ্রিক ব্যয় এখনো অত্যন্ত বড়। সংসদীয় হিসাব অনুযায়ী, ২০২৪–২৫ অর্থবছরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও বিচার মন্ত্রণালয় মিলিয়ে আশ্রয় ব্যবস্থায় প্রায় ৪ দশমিক ৯ বিলিয়ন পাউন্ড ব্যয় হয়েছিল। এর মধ্যে শুধু আশ্রয়প্রার্থীদের আবাসনেই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ব্যয় ছিল প্রায় ২ দশমিক ৭ বিলিয়ন পাউন্ড।

হোটেল ব্যবহার কমিয়ে অপেক্ষাকৃত কম খরচের আবাসনে স্থানান্তর করার মাধ্যমে সরকার একদিকে করদাতাদের ওপর চাপ কমাতে চাইছে, অন্যদিকে দীর্ঘদিনের আশ্রয় ব্যবস্থাপনার জটও কমানোর চেষ্টা করছে।

সূত্রঃ মিরর

এম.কে

আরো পড়ুন

মারা গেলেন প্রিন্স ফিলিপ

অনলাইন ডেস্ক

স্কিলড ওয়ার্কার ভিসা বিধি, দেশ থেকে বহিষ্কার এবং ফি বৃদ্ধিঃ ইমিগ্রেশন হোয়াইট পেপারে কী রয়েছে

লন্ডনে টিউব ধর্মঘট শুরু, ব্যাপক ভোগান্তিতে লাখো যাত্রী