TV3 BANGLA
আন্তর্জাতিক

ইউরোপ-রাশিয়ায় যুদ্ধ হবে ‘খুবই স্বল্পস্থায়ী’: লাভরভের হুঁশিয়ারি

রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ বলেছেন, ইউরোপ রাশিয়ার ওপর হামলা চালালে দুই পক্ষের মধ্যে যুদ্ধ ‘খুবই স্বল্পস্থায়ী’ হবে। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেছেন, পশ্চিমা দেশগুলোকে আক্রমণ করার কোনো আগ্রহ রাশিয়ার নেই। তবে রাশিয়া আক্রান্ত হলে মস্কো পাল্টা জবাব দেবে।

বুধবার ইয়েকাতেরিনবার্গে ইন্টারন্যাশনাল ইয়ুথ ফেস্টিভ্যালে দেওয়া বক্তব্যে লাভরভ এসব মন্তব্য করেন। তার বক্তব্য এমন এক সময়ে এলো, যখন রাশিয়া ও ইউরোপের মধ্যে নিরাপত্তা ও সামরিক উত্তেজনা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

লাভরভ বলেন, রাশিয়া বারবার স্পষ্ট করেছে যে পশ্চিমা দেশগুলোতে হামলা চালানোর কোনো পরিকল্পনা তাদের নেই। তবে ইউরোপ যদি রাশিয়ার বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নেয়, তাহলে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন হবে এবং যুদ্ধ দ্রুত শেষ হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, পশ্চিমা দেশগুলো অনেক আগেই রাশিয়াকে নিয়ন্ত্রণে রাখার নীতি গ্রহণ করেছে। এ প্রসঙ্গে তিনি রাশিয়ার সীমান্তের দিকে ন্যাটোর সম্প্রসারণের বিষয়টি উল্লেখ করেন। ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযানের কারণ ব্যাখ্যা করতে মস্কো দীর্ঘদিন ধরে ন্যাটোর সম্প্রসারণের বিষয়টি তুলে ধরে আসছে।

লাভরভের বক্তব্যের আগে পোল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী রাদোস্লাভ সিকোরস্কি বলেছিলেন, রাশিয়া হামলা চালালে পোল্যান্ড দ্রুত রাশিয়াকে পরাজিত করতে পারবে। তিনি পোল্যান্ডের বিমানশক্তির সক্ষমতার কথা উল্লেখ করে রাশিয়ার তুলনায় দেশটির বিমানশক্তিকে অত্যন্ত শক্তিশালী বলে দাবি করেন।

এদিকে ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লায়েন ইউরোপের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদারের প্রস্তাব দিয়েছেন। তিনি একটি ইউরোপীয় সিকিউরিটি কাউন্সিল গঠনের পাশাপাশি হাইব্রিড হামলা মোকাবিলায় একটি জরুরি নিরাপত্তা প্রটোকল তৈরির কথা বলেছেন।

ফন ডার লায়েনের প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য দেশগুলোর পাশাপাশি ব্রিটেন, কানাডা, নরওয়ে ও ইউক্রেনের মতো অংশীদারদের যুক্ত করার কথা বলা হয়েছে। তার মতে, কোনো একটি সদস্য রাষ্ট্র হাইব্রিড হামলার শিকার হলে সমন্বিতভাবে প্রতিক্রিয়া জানাতে এই ব্যবস্থা ব্যবহার করা যেতে পারে।

ইউরোপে সম্ভাব্য হাইব্রিড হামলার বিষয়টিও সাম্প্রতিক সময়ে আলোচনায় এসেছে। নাশকতা, অগ্নিসংযোগ ও ড্রোন অনুপ্রবেশের মতো ঘটনাকে ইউরোপীয় কর্মকর্তারা নিরাপত্তার জন্য বাড়তে থাকা হুমকি হিসেবে দেখছেন।

এর মধ্যেই রাশিয়া ও ইউরোপীয় দেশগুলোর মধ্যে সামরিক উত্তেজনার আরও কিছু ঘটনা সামনে এসেছে। ডেনমার্ক অভিযোগ করেছে, একটি রুশ যুদ্ধজাহাজ কোনো ধরনের সতর্কতা ছাড়াই তাদের একটি সামরিক হেলিকপ্টারের দিকে ফ্লেয়ার ছুড়েছে। মস্কো পাল্টা দাবি করেছে, ডেনমার্কের বিমানগুলো রুশ নৌবহরের কাছে বিপজ্জনকভাবে উড্ডয়ন ও কৌশল প্রদর্শন করছিল।

এদিকে গত মাসে সিআইএ পরিচালক জন র‍্যাটক্লিফ মস্কো সফর করেন। সিবিএস নিউজ ও দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল-এর উদ্ধৃত সূত্রের বরাত দিয়ে দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট জানিয়েছে, ন্যাটোর বিরুদ্ধে রাশিয়ার সম্ভাব্য হামলা নিয়ে সতর্ক করতে ওই সফর করা হয়েছিল। তবে রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ এ ধরনের খবরকে ‘ভয় দেখানোর গল্প’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন।

পেসকভের দাবি, রাশিয়া ইউরোপীয় দেশগুলোর কাছ থেকে ‘অত্যন্ত আগ্রাসী নীতির’ মুখোমুখি হচ্ছে। মস্কো এর আগে ইউরোপ ও ন্যাটোর সামরিক কর্মকাণ্ড নিয়ে একাধিকবার উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

এর আগে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনও ইউরোপের সঙ্গে সম্ভাব্য সংঘাত নিয়ে সতর্কতামূলক বক্তব্য দিয়েছেন। চলতি মাসের শুরুতে যুক্তরাজ্যের ইউক্রেন-সমর্থনের প্রসঙ্গেও তিনি সতর্কবার্তা দেন। যুক্তরাজ্য রাশিয়ার সম্ভাব্য সামরিক লক্ষ্যবস্তু কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে পুতিন বিষয়টিকে ‘সামরিক গোপনীয়তা’ হিসেবে উল্লেখ করেন।

পুতিন আরও বলেন, ইউক্রেনের যেকোনো সামরিক স্থাপনা রাশিয়ার বৈধ লক্ষ্যবস্তু—সেটি ব্রিটিশ হোক বা অন্য কোনো দেশের।

রাশিয়া ও ইউরোপের মধ্যে সামরিক উত্তেজনার এই প্রেক্ষাপটে লাভরভের সর্বশেষ বক্তব্য নতুন করে সংঘাতের সম্ভাবনা ও ইউরোপের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক আলোচনাকে সামনে এনেছে। তবে লাভরভ একই বক্তব্যে রাশিয়ার পক্ষ থেকে পশ্চিমা দেশগুলোতে হামলার কোনো আগ্রহ নেই বলেও পুনর্ব্যক্ত করেছেন।

সূত্রঃ দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট, রয়টার্স

এম.কে

আরো পড়ুন

ভারত থেকে গাজা নির্মূলের ডাক দিয়েছিলেন বাবা, নাবিক ছেলের প্রাণ গেল মার্কিন হামলায়

ড্রপ সাইট নিউজের এক্সক্লুসিভ রিপোর্টঃ আজই ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা, লক্ষ্য সরকার পতন

ফিলিস্তিনিদের হত্যার আহ্বান বেন-গভিরেরঃ জার্মানিতে নিন্দার ঝড়