13 C
London
September 28, 2026
TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

যুক্তরাজ্যে এসাইলাম সিকারদের পুনর্বাসন কর্মসূচি চালুঃ ফিলিস্তিনিদের জন্য বাড়ছে সুযোগ

যুক্তরাজ্যে শরণার্থীদের জন্য নতুন কয়েকটি নিরাপদ ও বৈধ পথ চালুর ঘোষণা দিতে যাচ্ছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ। সরকারের পরিকল্পনায় রয়েছে ইউকে রিসেটেলমেন্ট স্কিম পুনরায় চালু করা এবং কমিউনিটি ও বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক নতুন স্পনসরশিপ ব্যবস্থা।

নতুন ব্যবস্থার আওতায় জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআর এবং ইন্টারন্যাশনাল রিফিউজি অ্যাসিস্ট্যান্স প্রজেক্ট (আইআরএপি) পুনর্বাসনের উপযুক্ত শরণার্থীদের যুক্তরাজ্যে আসার জন্য সুপারিশ করতে পারবে। সরকারের পরিকল্পনায় বিশেষভাবে ঝুঁকিতে থাকা শরণার্থীদের নিরাপদ ও বৈধ পথে যুক্তরাজ্যে আনার বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে।

সরকারের প্রকাশিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, নতুন ব্যবস্থায় শুরুতে আগমনের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম থাকবে। তবে পরবর্তী সময়ে অনিয়মিত অভিবাসন কমলে নিরাপদ ও বৈধ পথের আওতা বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। এসব রুটের ক্ষেত্রে বার্ষিক সংখ্যা সীমিত বা নির্ধারিত থাকবে।

এই পরিকল্পনায় আফগান নারী ও মেয়েদের পাশাপাশি ফিলিস্তিনি শরণার্থীদেরও অন্তর্ভুক্ত করার কথা বলা হয়েছে। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, নতুন রিসেটেলমেন্ট ব্যবস্থায় গ্রহণ করা শরণার্থীদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ এই দুই গোষ্ঠী থেকে আসতে পারে।

এ ছাড়া কমিউনিটি স্পনসরশিপ রুট চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। এর আওতায় অনুমোদিত কমিউনিটি সংগঠন ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠান শরণার্থীদের স্পনসর করতে পারবে। স্পনসরদের থাকার ব্যবস্থা, স্থানীয় সমাজের সঙ্গে একীভূত হতে সহায়তা এবং কাজ খুঁজে পেতে সহযোগিতা করার দায়িত্ব থাকবে।

বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর জন্যও আলাদা স্টুডেন্ট স্পনসরশিপ রুট চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো যোগ্য শরণার্থীদের পড়াশোনার জন্য স্পনসর করতে পারবে। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, এসব নতুন ব্যবস্থার জন্য সংগঠনগুলোর আবেদন ২০২৬ সালের মাঝামাঝি থেকে শুরু হওয়ার কথা এবং প্রথম শরণার্থীদের ২০২৭ সালের মাঝামাঝি সময়ে যুক্তরাজ্যে আসার প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

এ ছাড়া ভবিষ্যতে কর্মসংস্থানভিত্তিক শরণার্থী রুট চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে। এর আওতায় নিয়োগদাতারা যোগ্য শরণার্থীদের কাজের জন্য স্পনসর করতে পারবেন।

শরণার্থীদের বাছাই ও যুক্তরাজ্যে প্রবেশের ক্ষেত্রে সরকারের নিয়ন্ত্রণ বজায় থাকবে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, স্পনসর হিসেবে কাজ করতে চাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোকে অনুমোদন ও যাচাইয়ের প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে। যুক্তরাজ্যে ভ্রমণের আগে শরণার্থীদের পরিচয়, বায়োমেট্রিক তথ্য, অপরাধমূলক ইতিহাস এবং স্বাস্থ্যসংক্রান্ত যাচাইও করা হবে।

নতুন ব্যবস্থার আওতায় আসা ব্যক্তিদের জন্য পাঁচ বছরের স্থায়ী বসবাসের পথ রাখার পরিকল্পনার কথাও জানানো হয়েছে। সরকার বলছে, নিরাপদ ও বৈধ পথে আসার সুযোগ তৈরি করার পাশাপাশি ছোট নৌকায় করে ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দেওয়ার মতো অনিয়মিত যাত্রা নিরুৎসাহিত করাও এই নীতির অন্যতম উদ্দেশ্য।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নতুন কমিউনিটি স্পনসরশিপ মডেলটি কানাডার দীর্ঘদিনের ব্যবস্থার অভিজ্ঞতা থেকে অনুপ্রাণিত। ব্রিটিশ সরকারের হিসাবে, কানাডার কমিউনিটি স্পনসরশিপ কর্মসূচির মাধ্যমে ১৯৭৯ সাল থেকে প্রায় চার লাখ শরণার্থী পুনর্বাসিত হয়েছেন।

যুক্তরাজ্য সরকারের বৃহত্তর অভিবাসন ও আশ্রয় ব্যবস্থার সংস্কারের অংশ হিসেবেই নতুন নিরাপদ ও বৈধ পথগুলো চালুর পরিকল্পনা করা হয়েছে। সরকারের ভাষ্য, একদিকে যুদ্ধ ও নিপীড়ন থেকে পালিয়ে আসা প্রকৃত শরণার্থীদের জন্য বৈধ পথ রাখা হবে, অন্যদিকে সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ জোরদার এবং আশ্রয় ব্যবস্থার অপব্যবহার কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।

সাম্প্রতিক সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জুনে শেষ হওয়া ১২ মাসে যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন নিরাপদ ও বৈধ মানবিক পথে মোট ১ লাখ ২৪ হাজার ৯৩০টি থাকার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তবে এর বড় অংশ ছিল যুক্তরাজ্যে আগে থেকেই থাকা ব্যক্তিদের অবস্থান বাড়ানোর অনুমতি; নতুন শরণার্থী পুনর্বাসন এর তুলনায় আলাদা একটি অংশ।

নতুন রুটগুলো চালু হলে যুক্তরাজ্যে শরণার্থীদের পুনর্বাসনের ক্ষেত্রে কমিউনিটি, বিশ্ববিদ্যালয় ও ভবিষ্যতে নিয়োগদাতাদের সরাসরি সম্পৃক্ততার সুযোগ বাড়বে। তবে কতজন এবং কোন কোন দেশ বা অঞ্চলের শরণার্থী প্রতিটি রুটে সুযোগ পাবেন, সে বিষয়ে সব বিস্তারিত যোগ্যতার শর্ত এখনো প্রকাশ করা হয়নি।

সূত্রঃ যুক্তরাজ্য সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়\ ইউকে. গভ

এম.কে

আরো পড়ুন

লন্ডনের হাসপাতালে অ্যান্টিবায়োটিকের ভুলের কারণে শিক্ষার্থীর মৃত্যু

যুক্তরাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রীর পদত্যাগের সম্ভাবনা, আরো সঙ্কটে কিয়ার স্টারমার

যুক্তরাজ্যের বাজেটে বৈদেশিক সাহায্য কমায় মৃত্যুর ঝুঁকিতে হাজারো মানুষ

নিউজ ডেস্ক