লন্ডন স্টেডিয়াম পরিচালনায় প্রতি বছর প্রায় ১ কোটি ৯০ লাখ পাউন্ড ব্যয় হওয়ায় স্টেডিয়ামের নামকরণ স্বত্ব বা নেমিং রাইটস বিক্রির জন্য দ্রুত উদ্যোগ নিতে লন্ডনের মেয়র সাদিক খানকে আহ্বান জানিয়েছেন লন্ডন অ্যাসেম্বলির সদস্য বাসাম মাহফুজ।
পূর্ব লন্ডনের স্ট্র্যাটফোর্ডে অবস্থিত লন্ডন স্টেডিয়াম বর্তমানে প্রধানত ওয়েস্ট হ্যাম ইউনাইটেড ফুটবল ক্লাব-এর দীর্ঘমেয়াদি ভেন্যু হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। স্টেডিয়ামটি ২০১২ সালের অলিম্পিক ও প্যারালিম্পিক গেমসের জন্য নির্মাণ করা হয়েছিল। পরে এটিকে বহুমুখী স্থাপনায় রূপান্তর করা হয়।
২০১৩ সালে ওয়েস্ট হ্যাম ইউনাইটেডকে ৯৯ বছরের জন্য স্টেডিয়ামের দীর্ঘমেয়াদি কনসেশন দেওয়া হয়, যা ২০১৬ সাল থেকে কার্যকর। একই সময়ে ইউকে অ্যাথলেটিকস ৫০ বছরের একটি কনসেশন চুক্তি করে। স্টেডিয়ামটি ফুটবল ছাড়াও অ্যাথলেটিকস ও বড় কনসার্ট আয়োজনের জন্য ব্যবহৃত হয়।
তবে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনায় থাকা নেমিং রাইটসের কোনো চুক্তি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। বিষয়টি প্রথম সামনে আসে ২০১২ সালে। আগে ধারণা করা হয়েছিল, স্টেডিয়ামের নামকরণ স্বত্ব বিক্রি করা গেলে বছরে সর্বোচ্চ প্রায় ৪০ লাখ পাউন্ড আয় হতে পারে।
লন্ডন অ্যাসেম্বলি ইকোনমি, কালচার অ্যান্ড স্কিলস কমিটির চেয়ারম্যান বাসাম মাহফুজ সাদিক খানকে লেখা চিঠিতে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে একত্র করে নেমিং রাইটস চুক্তি সম্পন্ন করার উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
তার বক্তব্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট চুক্তির পর ১৩ বছর পার হয়ে গেলেও স্টেডিয়ামের বার্ষিক প্রায় ২ কোটি পাউন্ডের সরকারি ভর্তুকি বা আর্থিক চাপ কমানোর ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি। ওয়েস্ট হ্যাম ইউনাইটেডের মালিকানায় পরিবর্তনের বিষয়টিকেও তিনি নতুন করে আলোচনার সুযোগ হিসেবে দেখেছেন।
বাসাম মাহফুজ বলেছেন, স্টেডিয়ামের বড় বাণিজ্যিক সুযোগগুলো কাজে লাগানোর জন্য মেয়র সংশ্লিষ্ট অংশীদারদের একত্র করতে পারেন। তার মতে, এর মাধ্যমে স্টেডিয়াম থেকে অতিরিক্ত আয় এবং করদাতাদের ওপর আর্থিক চাপ কমানোর পথ তৈরি হতে পারে।
এদিকে নেমিং রাইটস নিয়ে ওয়েস্ট হ্যাম ইউনাইটেডের পক্ষ থেকেও আলোচনার আগ্রহের কথা জানানো হয়েছে। ক্লাবটির অন্তর্বর্তীকালীন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা করিম ভিরানি বলেছেন, স্টেডিয়াম ও ওয়েস্ট হ্যাম—উভয় পক্ষই নেমিং রাইটস থেকে সম্ভাব্য আয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। তিনি ক্লাবে যোগ দেওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে গঠনমূলক আলোচনা শুরু করেছেন বলেও জানিয়েছেন।
তবে লন্ডন লিগ্যাসি ডেভেলপমেন্ট করপোরেশন বা এলএলডিসি-এর সাম্প্রতিক বাজেট নথিতে বলা হয়েছে, অন্তত ২০২৮ সাল পর্যন্ত নেমিং রাইটস নিশ্চিত না হওয়ার উল্লেখযোগ্য ঝুঁকি রয়েছে। স্টেডিয়ামের নেমিং রাইটস চুক্তিতে লন্ডন স্টেডিয়াম এলএলপি, গ্রেটার লন্ডন অথরিটি বা জিএলএ এবং ওয়েস্ট হ্যাম ইউনাইটেড—তিন পক্ষের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট।
স্টেডিয়ামের মালিকানা ও পরিচালনার কাঠামোতেও পরিবর্তন এসেছে। ২০২৫ সালে মেয়রের সিদ্ধান্তের মাধ্যমে এলএলডিসি থেকে স্টেডিয়াম-সংক্রান্ত মালিকানার দায়িত্ব জিএলএর আওতাধীন প্রতিষ্ঠানের কাছে স্থানান্তরের ব্যবস্থা করা হয়। সরকারি নথিতে বলা হয়েছে, স্টেডিয়ামটি বহুমুখী ভেন্যু হিসেবে লন্ডনের অর্থনীতিতে অবদান রাখলেও এটি বার্ষিক লোকসানে পরিচালিত হচ্ছে।
এর মধ্যে ওয়েস্ট হ্যাম ইউনাইটেডের ইংলিশ ফুটবলের দ্বিতীয় স্তর চ্যাম্পিয়নশিপে অবনমন স্টেডিয়ামের আর্থিক চাপ আরও বাড়ানোর আশঙ্কা তৈরি করেছে। মাই লন্ডনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চুক্তির শর্ত এবং চ্যাম্পিয়নশিপে বেশি ম্যাচের কারণে আগামী বছর জিএলএর অতিরিক্ত প্রায় ১৮ লাখ পাউন্ড ব্যয় হতে পারে।
লন্ডন অ্যাসেম্বলির তথ্য অনুযায়ী, ওয়েস্ট হ্যাম বর্তমানে লন্ডন স্টেডিয়াম এলএলপিকে বছরে প্রায় ৪৬ লাখ পাউন্ড ভাড়া দেয়। একই সঙ্গে স্টেডিয়ামটি অ্যাথলেটিকস এবং বড় কনসার্টের জন্যও ব্যবহৃত হচ্ছে।
স্টেডিয়াম থেকে আয় বাড়ানোর জন্য নেমিং রাইটসের পাশাপাশি কনসার্ট আয়োজনের সময়সূচিতে আরও নমনীয়তার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। ফুটবল মৌসুমের সময়সূচির কারণে বছরের কিছু সময়ে কনসার্ট আয়োজনের সুযোগ সীমিত থাকে।
লন্ডনের মেয়রের দপ্তর জানিয়েছে, লন্ডন স্টেডিয়াম পূর্ব লন্ডনের অর্থনীতি, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। মেয়রের মুখপাত্রের বক্তব্য অনুযায়ী, স্টেডিয়াম-সংক্রান্ত কোনো বিশ্বাসযোগ্য প্রস্তাব এলে তা বিবেচনা করা হবে, তবে যেকোনো চুক্তিতে করদাতাদের অর্থের যথাযথ মূল্য, জনস্বার্থ এবং স্টেডিয়ামের অর্থনৈতিক, সামাজিক ও ক্রীড়া সুবিধা বিবেচনায় রাখতে হবে।
লন্ডন স্টেডিয়াম নিয়ে আর্থিক চাপের বিষয়টি এর আগেও লন্ডন অ্যাসেম্বলিতে উঠেছে। ২০২৬ সালের জুনে সাদিক খান জানিয়েছিলেন, ওয়েস্ট হ্যামের সঙ্গে করা চুক্তিতে আগের মেয়রের সময় বড় ধরনের ভুল হয়েছিল এবং চুক্তিটি পরিবর্তনের সুযোগ সীমিত। একই আলোচনায় স্টেডিয়ামের নেমিং রাইটস থেকে আয় করার সম্ভাবনাও উঠে আসে।
সূত্রঃ মাই লন্ডন
এমকে

