যুক্তরাজ্যে কর্মভিসাধারীদের জন্য অনির্দিষ্টকালের বসবাসের অনুমতি (Indefinite Leave to Remain–ILR) সংক্রান্ত বিতর্কিত পরিকল্পনায় সম্ভাব্য পরিবর্তনের আভাস পাওয়া গেছে। ব্রিটিশ দৈনিক দ্য টাইমস সরকারের দুটি সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, ইতোমধ্যে যুক্তরাজ্যে অবস্থানরত কর্মভিসাধারীদের দীর্ঘায়িত ১০ বছরের ILR নীতির আওতার বাইরে রাখা হতে পারে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সরকার একটি বিকল্প সমঝোতার বিষয় বিবেচনা করছে। সেই প্রস্তাবে বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী ৫ বছর পূর্ণ হলেই ILR পাওয়া যাবে। তবে ILR পাওয়ার পরও আরও ৩ থেকে ৪ বছর পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা সরকারি ভাতা (Benefits) পাওয়ার অধিকার পাবেন না।
এ প্রস্তাবের উদ্দেশ্য হলো একদিকে বর্তমান কর্মভিসাধারীদের জন্য ১০ বছরের অপেক্ষার বাধ্যবাধকতা এড়ানো, অন্যদিকে নতুন স্থায়ী বাসিন্দাদের সরকারি কল্যাণমূলক সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে অতিরিক্ত সময়সীমা নির্ধারণ করা।
অভিবাসন নীতি নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন পর্যবেক্ষক ও অভিবাসী সম্প্রদায়ের সদস্যদের মধ্যে এ সম্ভাব্য সমঝোতা নিয়ে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। তাদের অনেকের মতে, অধিকাংশ কর্মভিসাধারী যুক্তরাজ্যে সরকারি ভাতা নেওয়ার উদ্দেশ্যে আসেননি; বরং কাজ ও স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগই ছিল তাদের প্রধান লক্ষ্য। সে কারণে ৫ বছর পর ILR বহাল রেখে ভাতা পাওয়ার ক্ষেত্রে অতিরিক্ত অপেক্ষার শর্ত তুলনামূলকভাবে গ্রহণযোগ্য হতে পারে।
তবে বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত নয়। সরকারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা দেওয়া হয়নি। রাজনৈতিক অঙ্গনে নেতৃত্ব পরিবর্তনের সম্ভাবনার কারণে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পরিবর্তনও আসতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
সম্প্রতি লেবার সরকারের ১০ বছর পর ILR দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়ে ব্যাপক রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়। বিরোধী কনজারভেটিভ পার্টি প্রকাশ্যে ওই পরিকল্পনাকে সমর্থন করলেও, লেবার পার্টির একটি অংশ এবং অভিবাসী অধিকার নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন সংগঠন বিদ্যমান কর্মভিসাধারীদের জন্য আলাদা ব্যবস্থা রাখার দাবি জানিয়ে আসছে।
বিশ্লেষকদের মতে, যদি সরকার শেষ পর্যন্ত ৫ বছর পর ILR বহাল রেখে সরকারি ভাতা পাওয়ার ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ৩ থেকে ৪ বছরের অপেক্ষার নীতি গ্রহণ করে, তাহলে তা একদিকে বর্তমান কর্মভিসাধারীদের উদ্বেগ কমাতে পারে, অন্যদিকে সরকারি ব্যয় নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যও আংশিকভাবে পূরণ করতে সহায়ক হতে পারে।
তবে সরকারের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়টিকে সম্ভাব্য নীতিগত আলোচনা হিসেবেই দেখা হচ্ছে। ফলে কর্মভিসাধারীদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করার পরামর্শ দিচ্ছেন অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা।
সূত্রঃ দ্য টাইমস
এম.কে

