13.2 C
London
October 12, 2026
TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

যুক্তরাজ্যে কাজের অধিকার হারানো ২২ হাজার নিরাপত্তাকর্মীর লাইসেন্স বাতিল

যুক্তরাজ্যে বৈধভাবে কাজ করার অধিকার না থাকায় গত তিন বছরে প্রায় ২২ হাজার নিরাপত্তাকর্মীর লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে। ভিসা-সংক্রান্ত কারণে লাইসেন্স বাতিলের এই সংখ্যা সাম্প্রতিক সময়ে দ্রুত বেড়েছে বলে সরকারি পরিসংখ্যানে উঠে এসেছে।

দ্য টেলিগ্রাফের পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের শুরু থেকে যুক্তরাজ্যের বেসরকারি নিরাপত্তা খাতে কাজের জন্য প্রয়োজনীয় প্রায় ২২ হাজার লাইসেন্স বাতিল করেছে সিকিউরিটি ইন্ডাস্ট্রি অথরিটি (এসআইএ)। এর মধ্যে ২০২৫ সালেই বাতিল হয়েছে রেকর্ড ৭ হাজার ৭৪০টি লাইসেন্স। ২০২২ সালে এই সংখ্যা ছিল মাত্র ৭৩৪।

চলতি বছরের প্রথম সাত মাসেও পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হয়নি। জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত আরও ৪ হাজার ২৪৪টি নিরাপত্তা লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে।

এসআইএর লাইসেন্স প্রয়োজন হয় দোকান, পাব, ক্লাব, গুদাম, অর্থ পরিবহন এবং হাসপাতালসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সরকারি ভবনের নিরাপত্তাকর্মীদের। যুক্তরাজ্যে নিরাপত্তা খাতে কাজ করতে হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বৈধভাবে কাজ করার অধিকার থাকা বাধ্যতামূলক।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সাল থেকে বাতিল হওয়া লাইসেন্সের প্রায় ৯০ শতাংশই বাতিল হয়েছে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির যুক্তরাজ্যে কাজ করার বৈধ অধিকার না থাকার কারণে। বাতিল হওয়া লাইসেন্সের সবচেয়ে বড় অংশ পাকিস্তানি ও ভারতীয় নাগরিকদের।

পরিসংখ্যানে দেখা যায়, পাকিস্তানি নাগরিকদের ৯ হাজার ৬২৫টি এবং ভারতীয় নাগরিকদের ৭ হাজার ৮৬১টি লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে। নাইজেরীয় নাগরিকদের ক্ষেত্রেও বাতিল হয়েছে ২ হাজার ৮৯৮টি লাইসেন্স।

তবে এসআইএর বক্তব্য অনুযায়ী, এসব ব্যক্তির সবাই যে লাইসেন্স পাওয়ার সময় অবৈধভাবে কাজ করছিলেন, তা নয়। অনেকের ক্ষেত্রে লাইসেন্সের জন্য আবেদন করার সময় যুক্তরাজ্যে কাজ করার বৈধ অধিকার ছিল। পরবর্তীতে তাদের ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়া বা অভিবাসন-স্থিতি পরিবর্তনের কারণে তারা কাজের অধিকার হারান।

এসআইএর একজন মুখপাত্র জানান, যুক্তরাজ্যে কাজ করার অধিকার থাকা লাইসেন্স ধরে রাখার অন্যতম শর্ত। কোনো ব্যক্তির কাজের অধিকার শেষ হয়ে গেলে কর্তৃপক্ষ তা যাচাই করে এবং প্রয়োজন হলে লাইসেন্স বাতিল করে।

একটি এসআইএ লাইসেন্স সাধারণত তিন বছরের জন্য বৈধ। এই সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ভিসা বা কাজের অধিকার শেষ হয়ে গেলে তা পুনরায় যাচাই করা হয়। ব্যক্তি যুক্তরাজ্য ছেড়ে গেলে কিংবা নতুন ধরনের ভিসায় চলে গেলেও লাইসেন্স বাতিল হতে পারে।

এদিকে, যুক্তরাজ্যের কনজারভেটিভ পার্টি অবৈধভাবে কাজ করা নিরাপত্তাকর্মীদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে।

ছায়া স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ক্রিস ফিলপ বলেন, নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের কাজের অধিকার যাচাইয়ের মতো মৌলিক বিষয় নিশ্চিত করা না গেলে তাদের ওপর জনসাধারণের আস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। বৈধ কাজের অধিকার ছাড়া কাজ করতে গিয়ে কেউ ধরা পড়লে তাকে বহিষ্কারেরও দাবি জানান তিনি।

ফিলপের ভাষ্য, নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে কাজের অনুমতি দেওয়ার আগে এসআইএর আরও কার্যকর যাচাইব্যবস্থা নিশ্চিত করা প্রয়োজন এবং বিষয়টি নিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।

বর্তমানে যুক্তরাজ্যে প্রায় ৪ লাখ ৫০ হাজার নিরাপত্তা লাইসেন্সধারী রয়েছেন। তাদের মধ্যে যারা বৈধভাবে কাজের অধিকার হারিয়েছেন, তাদের লাইসেন্স শনাক্ত করে বাতিল করার প্রক্রিয়া অব্যাহত রেখেছে এসআইএ।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যুক্তরাজ্যে অভিবাসন ও ভিসার অপব্যবহার নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কের মধ্যেই নিরাপত্তা খাতে লাইসেন্স বাতিলের এই পরিসংখ্যান নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

সূত্রঃ দ্য টেলিগ্রাফ

এম.কে

আরো পড়ুন

ইংল্যান্ডে পেশাবদল করছেন সমাজকর্মীরা

যুক্তরাজ্যে নারীকে দাসত্বে বাধ্য করার অপরাধে জাতিসংঘের বিচারক কারাগারে

বিদেশি অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান: কিয়ার স্টারমার বললেন “এটা মাত্র শুরু”