অবৈতনিক সেবাদাতা এবং গুরুতর অসুস্থ শিশুদের বাবা-মায়েদের জন্য নতুন কর্মসংস্থান অধিকার চালুর পরিকল্পনা করছে যুক্তরাজ্য সরকার। এ বিষয়ে জনমত জানতে একটি পরামর্শ কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে।
বর্তমানে যুক্তরাজ্যে প্রায় ৩০ লাখ মানুষ চাকরির পাশাপাশি পরিবারের সদস্য, অসুস্থ স্বজন বা প্রিয়জনের দেখাশোনার দায়িত্ব পালন করেন। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রেই এই দায়িত্ব পালনের কারণে তাদের কর্মঘণ্টা কমাতে হয়, চাকরি ছেড়ে দিতে হয় অথবা কাজে ফিরতে দেরি হয়। সরকারের হিসাবে, এর ফলে প্রতিবছর প্রায় ৩৭ বিলিয়ন পাউন্ডের অর্থনৈতিক ক্ষতি হচ্ছে।
নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রথমবারের মতো অবৈতনিক সেবাদাতাদের জন্য বেতনসহ ছুটি চালুর বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। এছাড়া দীর্ঘ সময় ধরে পরিচর্যার দায়িত্ব পালনের পর কর্মীদের আগের চাকরিতে ফিরে যাওয়ার অধিকার নিশ্চিত করার বিষয়েও আলোচনা চলছে। কর্মী ও নিয়োগকর্তাদের জন্য নতুন নির্দেশিকাও তৈরি করা হতে পারে, যাতে সবাই নিজেদের অধিকার ও দায়িত্ব সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পান।
কর্মসংস্থান অধিকারবিষয়ক মন্ত্রী কেট ডিয়ারডেন বলেছেন, যারা অসুস্থ স্বজন বা পরিবারের সদস্যদের যত্ন নিচ্ছেন, তাদের যেন চাকরি ও প্রিয়জনের মধ্যে একটিকে বেছে নিতে না হয়। তিনি বলেন, কর্মক্ষেত্রের নীতিমালা মানুষের বাস্তব জীবনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়া প্রয়োজন।
সরকার গুরুতর অসুস্থ শিশুদের বাবা-মায়েদের জন্যও নতুন সহায়তার বিষয়টি বিবেচনা করছে। “হিউজ ল” নামে পরিচিত এই প্রস্তাবটি এমন পরিবারগুলোর জন্য বেতনসহ ছুটি ও আর্থিক সহায়তার ব্যবস্থা করার দাবি থেকে এসেছে। ছয় বছর বয়সে ক্যান্সারে মারা যাওয়া হিউজ মেনাই-ডেভিসের স্মরণে এই উদ্যোগের নামকরণ করা হয়েছে।
সেবাবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী স্টিফেন কিনক বলেন, অবৈতনিক সেবাদাতারা সমাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তারা প্রায়ই নিজেদের প্রয়োজনের চেয়ে অন্যের প্রয়োজনকে অগ্রাধিকার দেন। তাই তাদের জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব।
অন্যদিকে, সেবাদাতাদের অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠন ক্যারার্স ইউকে বলেছে, অনেক মানুষ যথাযথ কর্মক্ষেত্রের সহায়তা না থাকায় চাকরি ছেড়ে দিতে বাধ্য হন। তাদের মতে, বেতনসহ কেয়ারার ছুটি চালু করা হলে লাখো মানুষ কর্মজীবনে টিকে থাকতে পারবেন।
সরকার জানিয়েছে, এই বিষয়ে সেবাদাতা, অভিভাবক, নিয়োগকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের মতামত নেওয়া হবে। প্রাপ্ত মতামতের ভিত্তিতে ভবিষ্যতে নতুন আইন ও নীতিমালা প্রণয়ন করা হতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, এসব প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে একদিকে যেমন কর্মজীবী সেবাদাতারা উপকৃত হবেন, অন্যদিকে শ্রমবাজারে দক্ষ কর্মীদের ধরে রাখাও সহজ হবে। একই সঙ্গে গুরুতর অসুস্থ শিশুদের পরিবারগুলোও কিছুটা আর্থিক ও মানসিক স্বস্তি পাবে।
সূত্রঃ ইউকে ডট গভ
এম.কে

