যুক্তরাজ্যের জাতীয় স্বাস্থ্য সেবা সংস্থা এনএইচএস হাসপাতাল রেফারালের সংখ্যা ২৫ শতাংশ কমানোর বিতর্কিত পরিকল্পনা শেষ পর্যন্ত প্রত্যাহার করেছে। চিকিৎসক ও নীতিনির্ধারকদের তীব্র সমালোচনা এবং রোগী অধিকার সংগঠনগুলোর উদ্বেগের পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
শুরুতে প্রস্তাব করা হয়েছিল, জিপির মাধ্যমে হাসপাতাল রেফারালের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো হবে। কিন্তু চিকিৎসকদের দাবি, এই উদ্যোগ কার্যত রোগীদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পাওয়া বিলম্বিত করতে পারত এবং অনেক ক্ষেত্রে গুরুতর রোগ শনাক্তে দেরি ঘটাতে পারত।
টেলিগ্রাফ পত্রিকার অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের পর বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হয়। এরপর এনএইচএসের পক্ষ থেকে একটি চিঠিতে জানানো হয়, রেফারাল কমানোর কোনো বাধ্যতামূলক জাতীয় লক্ষ্য নেই। আগের নির্দেশনায় ২৫ শতাংশ কমানোর যে ধারণা দেওয়া হয়েছিল, সেটিকে এখন কেবল একটি অনুমান হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে।
চিকিৎসকদের অভিযোগ ছিল, কিছু ক্ষেত্রে জিপি’র সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে রোগীকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের কাছে পাঠানো থেকে বিরত রাখছিল বিশেষ টিম, যা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। বিশেষ করে জরুরি ও ক্যান্সার সন্দেহজনক রোগীদের ক্ষেত্রে বিষয়টি মারাত্মক হতে পারতো।
নতুন ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, রোগী ব্যবস্থাপনায় একজন নির্দিষ্ট পরামর্শক চিকিৎসকের তত্ত্বাবধান থাকবে। তবে ট্রায়াজ প্রক্রিয়ায় কারা দায়িত্ব পালন করবে, তাদের যোগ্যতা কী হবে—সে বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা নেই।
এছাড়া পারিবারিক চিকিৎসকদের জন্য একটি বিশেষ ব্যবস্থা রয়েছে, যেখানে তারা সরাসরি রেফারাল না দিয়ে আগে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিতে পারেন। তবে চিকিৎসকদের একটি বড় অংশ দাবি করেছেন, এই ব্যবস্থা বাধ্যতামূলক হলে রোগীদের হাসপাতালে পৌঁছাতে আরও দেরি হতে পারে।
কিছু চিকিৎসক জানান, পরামর্শ পাওয়ার জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়েছে, এমনকি একটি ঘটনায় রোগী অপেক্ষার সময়েই মৃত্যুবরণ করেন বলে অভিযোগ ওঠে।
অন্যদিকে চিকিৎসক সংগঠনগুলো বলছে, নতুন নীতি রোগীদের জন্য ক্ষতিকর এবং রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত হতে পারে। রোগী অধিকার সংগঠনও পুরো ব্যবস্থার স্বাধীন মূল্যায়নের দাবি জানিয়েছে।
এনএইচএস কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে, উদ্দেশ্য ছিল রোগীদের দ্রুত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসা নিশ্চিত করা এবং অপ্রয়োজনীয় হাসপাতালে ভর্তির চাপ কমানো। তবে তারা স্পষ্ট করেছে, কোনো নির্দিষ্ট রেফারাল কমানোর লক্ষ্য কখনোই আনুষ্ঠানিকভাবে নির্ধারণ করা হয়নি।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ও জানিয়েছে, পারিবারিক চিকিৎসকের পরামর্শ ও রেফারাল নীতিতে কোনো পরিবর্তন হয়নি এবং কোনো নির্দিষ্ট লক্ষ্য চাপিয়ে দেওয়া হয়নি।
সব মিলিয়ে, বিতর্কিত এই নীতি প্রত্যাহারের মাধ্যমে এনএইচএস আপাতত বড় ধরনের রাজনৈতিক ও পেশাগত চাপ থেকে সরে এসেছে, তবে রোগী রেফারাল ও চিকিৎসা ব্যবস্থার ভবিষ্যৎ নীতি নিয়ে প্রশ্ন এখনও রয়ে গেছে।
সূত্রঃ দ্য টেলিগ্রাফ
এম.কে

