ক্ল্যাকটন উপনির্বাচনে জয়ের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই আবারও বিতর্কের কেন্দ্রে চলে এসেছেন রিফর্ম ইউকের নেতা নাইজেল ফারাজ। পার্লামেন্টের স্ট্যান্ডার্ডস কমিশনার তার বিরুদ্ধে পাঁচ মিলিয়ন পাউন্ডের একটি উপহার যথাযথভাবে ঘোষণা করা হয়েছিল কি না, সেই অভিযোগের তদন্ত পুনরায় শুরু করেছেন। উপনির্বাচনে জয়ের পর তদন্তের স্থগিতাদেশ তুলে নেওয়ায় বিষয়টি নতুন রাজনৈতিক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
এর আগে এমপি পদ থেকে পদত্যাগ করার পর ফারাজের আসন শূন্য হলে ক্ল্যাকটনে উপনির্বাচনের পথ তৈরি হয়। সে সময় তার বিরুদ্ধে চলমান পার্লামেন্টারি তদন্ত সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়েছিল। তবে উপনির্বাচনের ফল ঘোষণার পরই পার্লামেন্টের স্ট্যান্ডার্ডস কমিশনারের ওয়েবসাইটে তদন্তের অবস্থা পরিবর্তন করে জানানো হয়, তদন্ত আর স্থগিত নেই এবং এটি আবার সক্রিয় হয়েছে।
উপনির্বাচনে ফারাজ ২২ হাজার ২৩৯ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। নির্বাচনে কয়েকটি বড় রাজনৈতিক দল কার্যত শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা না করায় তার জয় আরও সহজ হয়েছে বলে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের ধারণা।
এদিকে ফল ঘোষণার অনুষ্ঠানেও তৈরি হয় আলাদা বিতর্ক। নির্বাচনের ফল ঘোষণা করার সময় ফারাজ নিজে সেখানে উপস্থিত ছিলেন না। রিফর্ম ইউকের দাবি ছিল, নিরাপত্তাজনিত কারণে পুলিশ তাকে অনুষ্ঠানে না যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছিল।
তবে এ দাবির সঙ্গে ভিন্ন তথ্য সামনে এসেছে। বিবিসি জানিয়েছে, পুলিশ ফারাজকে ফল ঘোষণার অনুষ্ঠানে না যেতে এমন কোনো পরামর্শ দিয়েছিল—এমন দাবির সত্যতা পাওয়া যায়নি।
এখন পার্লামেন্টারি তদন্তের মূল প্রশ্ন হচ্ছে, ফারাজ যে ৫ মিলিয়ন পাউন্ডের উপহার পেয়েছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে, সেটি সংসদ সদস্যদের আর্থিক স্বার্থ ঘোষণার নিয়ম অনুযায়ী নিবন্ধন করা বাধ্যতামূলক ছিল কি না। স্ট্যান্ডার্ডস কমিশনারের তদন্তের ফলাফলের ওপর নির্ভর করবে এ বিষয়ে পরবর্তী কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হবে কি না।
সূত্রঃ বিবিসি
এম.কে

