TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

যুক্তরাজ্যে জাতীয় জরুরি সতর্কতাঃ দাবানলের চরম ঝুঁকিতে দেশ

তীব্র তাপপ্রবাহ, দীর্ঘস্থায়ী খরা এবং দ্রুত ছড়িয়ে পড়া দাবানলের কারণে যুক্তরাজ্য সরকার দেশজুড়ে জাতীয় জরুরি সতর্কতা জারি করেছে। সরকার জনগণকে খোলা আগুন, ডিসপোজেবল বারবিকিউ, ফায়ারপিট, ক্যাম্পফায়ার এবং আতশবাজি ব্যবহার থেকে বিরত থাকার কঠোর নির্দেশ দিয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম জরুরি COBR বৈঠক ডেকেছেন, যেখানে মন্ত্রী, জরুরি সেবা সংস্থা এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দেশের চলমান সংকট নিয়ে আলোচনা করছে।

সরকারের সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, চলমান তাপপ্রবাহ ও খরার ফলে যুক্তরাজ্যের বিস্তীর্ণ এলাকা শুকিয়ে যাওয়ায় সামান্য অসতর্কতাও বড় ধরনের দাবানলের কারণ হতে পারে। তাই পার্ক, বনাঞ্চল ও গ্রামাঞ্চলে কোনো ধরনের খোলা আগুন ব্যবহার না করার পাশাপাশি বাগানে আবর্জনা পোড়ানো এবং কাঁচের বোতল বা এমন বস্তু ফেলে না রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, যা সূর্যের আলোকে কেন্দ্রীভূত করে আগুন লাগাতে পারে। কোথাও ধোঁয়া বা আগুনের লক্ষণ দেখা গেলে সঙ্গে সঙ্গে ৯৯৯ নম্বরে ফোন করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

এবারের গ্রীষ্মে যুক্তরাজ্যে পঞ্চম দফার তাপপ্রবাহ চলছে এবং লন্ডনের কিউ গার্ডেনে সর্বোচ্চ ৩৮.১ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে, যা চলতি বছরের সর্বোচ্চ। আবহাওয়াবিদদের মতে, এ বছর তৃতীয়বারের মতো দেশের কোথাও ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি তাপমাত্রা রেকর্ড হলো, যা যুক্তরাজ্যের জন্য অত্যন্ত বিরল ঘটনা।

চরম গরমের মধ্যে দাবানলের ঘটনাও নজিরবিহীনভাবে বেড়েছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালে ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে দাবানলের সংখ্যা ইতোমধ্যে গত বছরের মোট সংখ্যাকে ছাড়িয়ে গেছে। স্টোরব্রিজসহ বিভিন্ন এলাকায় আগুনে ঘরবাড়ি পুড়ে গেছে, বহু মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং কয়েকজন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। একদিনেই দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে একাধিক বড় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে, যা জরুরি সেবার ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করেছে।

প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম দেশকে “টিন্ডারবক্স” বা শুকনো দাহ্য ভূমিতে পরিণত হওয়ার সতর্কতা দিয়ে বলেছেন, অনেক দাবানলের পেছনে ডিসপোজেবল বারবিকিউ বড় ভূমিকা রাখছে। এ কারণে সরকার এসব বারবিকিউ ব্যবহারে আরও কঠোর পদক্ষেপ বিবেচনা করছে এবং জনসাধারণকে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানিয়েছে।

দাবানলের পাশাপাশি খরাও দেশের জন্য বড় সংকটে পরিণত হয়েছে। প্রায় ৪ কোটি ৫০ লাখ মানুষ খরাপ্রবণ অঞ্চলে বসবাস করছেন এবং প্রায় ২ কোটি ৭০ লাখ মানুষ পানি ব্যবহারে বিধিনিষেধের আওতায় রয়েছেন। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে যুক্তরাজ্যে তাপপ্রবাহ, খরা ও দাবানলের মতো চরম আবহাওয়ার ঘটনা ভবিষ্যতে আরও ঘন ঘন দেখা দিতে পারে।

সূত্রঃ ইউকে ডট গভ

এম.কে

আরো পড়ুন

যুক্তরাজ্য প্রধানমন্ত্রী নতুন রুয়ান্ডা স্কিম নিয়ে নতুন চাপে পড়েছেন

যুক্তরাজ্যের স্বাস্থ্যসেবায় বর্ণবাদী আচরণ বেড়েছেঃ রোগীদের গালিগালাজ ও বৈষম্যের শিকার কর্মীরা

যুক্তরাজ্যের সাধারণ নির্বাচনের তারিখ নিয়ে কারসাজির অভিযোগ