22.6 C
London
August 2, 2026
TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

যুক্তরাজ্যে তিন গুণ বড় হচ্ছে অভিবাসী আটক কেন্দ্রঃ ‘নিজের ঘরেই বন্দি’ বলে ক্ষোভ স্থানীয়দের

যুক্তরাজ্যের হ্যাম্পশায়ারের গসপোর্টে অবস্থিত হাসলার ইমিগ্রেশন রিমুভাল সেন্টার সম্প্রসারণ পরিকল্পনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। কেন্দ্রটির ধারণক্ষমতা বর্তমান ১৯৮ শয্যা থেকে বাড়িয়ে ৬০০ শয্যায় উন্নীত করার সরকারি পরিকল্পনার বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন আশপাশের এলাকার বাসিন্দারা। তাদের অভিযোগ, প্রকল্পের প্রকৃত আকার সম্পর্কে শুরু থেকেই বিভ্রান্তিকর তথ্য দেওয়া হয়েছে এবং এর ফলে তারা এখন নিজেদের বাড়িতেই কার্যত বন্দি হয়ে পড়েছেন।

বাসিন্দাদের দাবি, সম্প্রসারণের ফলে কেন্দ্রটির ভবন তিনতলা করা হচ্ছে, যদিও শুরুতে দুইতলা ভবনের পরিকল্পনার কথা জানানো হয়েছিল। নতুন ভবনটি আবাসিক এলাকার খুব কাছাকাছি হওয়ায় ব্যক্তিগত গোপনীয়তা, নিরাপত্তা এবং জীবনযাত্রার মান নিয়ে তারা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রকল্প ঘোষণার পর থেকে এলাকার বাড়ির বাজারমূল্য উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। কেউ কেউ জানিয়েছেন, তাদের বাড়ির মূল্য প্রায় ২৫ হাজার পাউন্ড পর্যন্ত কমে গেছে। ফলে অনেকেই বাড়ি বিক্রি করতে পারছেন না এবং বাধ্য হয়ে সেখানে বসবাস করতে হচ্ছে।

নির্মাণকাজ নিয়েও ক্ষোভ রয়েছে স্থানীয়দের মধ্যে। তাদের অভিযোগ, গত প্রায় দুই বছর ধরে চলা নির্মাণকাজের কারণে ভোর থেকেই তীব্র শব্দ, ধুলাবালি এবং যানবাহনের কারণে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। অনেকেই এই পরিস্থিতিকে “নরকের মতো” বলে বর্ণনা করেছেন। গ্রীষ্মকালেও ধুলার কারণে জানালা খুলে রাখা সম্ভব হচ্ছে না বলেও অভিযোগ করেন তারা।

২৭ বছর ধরে কেন্দ্রটির বিপরীতে বসবাসকারী ৬৯ বছর বয়সী ডেভ ওয়েকফিল্ড বলেন, কেন্দ্রটির ধারণক্ষমতা চারশোর বেশি বাড়ানো হলে স্বাভাবিকভাবেই স্থানীয়দের উদ্বেগ বাড়বে। তার ভাষায়, অতীতেও কেন্দ্র থেকে পালানোর চেষ্টা হয়েছিল। এখন আরও বেশি সংখ্যক আটক ব্যক্তি থাকলে পরিস্থিতি কী হতে পারে, তা নিয়েও তিনি শঙ্কা প্রকাশ করেন।

আরেক নারী বাসিন্দা, যিনি পরিচয় প্রকাশ করতে চাননি, বলেন, তারা এখন নিজেদের ঘরেই বন্দি। বাড়ি বিক্রি করা যাচ্ছে না, আবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মত প্রকাশ করলেও নানা ধরনের নেতিবাচক প্রতিক্রিয়ার মুখে পড়তে হচ্ছে। তার মতে, এটি রাজনৈতিক কোনো বিষয় নয়; বরং স্থানীয় মানুষের জীবনযাত্রা ও মানসিক স্বাস্থ্যের সঙ্গে জড়িত একটি বাস্তব সমস্যা।

স্থানীয় বাসিন্দা স্যান্ড্রা কার্ড অভিযোগ করেন, শুরুতে দুইতলা ভবনের কথা বলা হলেও পরে সেটি তিনতলায় উন্নীত করা হয়েছে। এতে তাদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

হাসলার ইমিগ্রেশন রিমুভাল সেন্টার ২০১৫ সালে একটি সংসদীয় পর্যালোচনার পর বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। ওই পর্যালোচনায় অভিবাসী আটক ব্যবস্থাকে ব্যয়বহুল এবং আটক ব্যক্তিদের জন্য ক্ষতিকর বলে উল্লেখ করা হয়। বর্তমানে কেন্দ্রটি সংস্কার ও সম্প্রসারণের কাজ চলছে। প্রথম ধাপে ১৩০ শয্যা চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে এবং ২০২৭ সালের বসন্তে প্রথম দফায় আটক ব্যক্তিদের সেখানে স্থানান্তরের সম্ভাবনা রয়েছে।

গসপোর্টের এমপি ক্যারোলিন ডিনেনেজ এই প্রকল্প নিয়ে সরকারের কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছেন। তিনি পার্লামেন্টে বিষয়টি উত্থাপন করেছেন এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে চিঠি দিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তার দাবি, এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ পরিকল্পনা স্থানীয় কাউন্সিলের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত হওয়া উচিত, যাতে স্থানীয় জনগণের মতামত যথাযথভাবে প্রতিফলিত হয়।

তবে হোম অফিস অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। তাদের দাবি, গত বছরের জনপরামর্শ সভাতেই তিনতলা ভবনের পরিকল্পনা উপস্থাপন করা হয়েছিল এবং পুরো প্রক্রিয়ায় স্থানীয়দের মতামত দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে।

হোম অফিসের এক মুখপাত্র বলেন, সরকারের লক্ষ্য আগামী এক দশকে ৪৫ হাজারেরও বেশি বিদেশি অপরাধী ও অবৈধ অভিবাসীকে যুক্তরাজ্য থেকে অপসারণের সক্ষমতা বৃদ্ধি করা। এজন্য অভিবাসী আটক কেন্দ্রগুলোর ধারণক্ষমতা বাড়ানো প্রয়োজন এবং এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

সূত্রঃ দ্য সান

এম.কে

আরো পড়ুন

হিথ্রো বিমানবন্দরের বর্ডার ফোর্স কর্মীদের ধর্মঘট প্রত্যাহার

যুক্তরাজ্যে বাড়িভাড়া ২০১৬ এর পর সর্বোচ্চ

দক্ষ অভিবাসীরা ব্রিটিশ কর্মীদের প্রশিক্ষণ দেবেঃ ব্লানকেটের নতুন পরিকল্পনায় সমর্থন