23.3 C
London
July 4, 2026
TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

যুক্তরাজ্যে দণ্ডপ্রাপ্ত মানবপাচারকারীকে ঘিরে হোম অফিসের জবাবদিহি দাবি এমপির

ফ্রান্সে মানবপাচারের দায়ে পাঁচ বছরের কারাদণ্ডপ্রাপ্ত এক ব্যক্তির যুক্তরাজ্যের লেস্টারশায়ারে বসবাস, আশ্রয় (অ্যাসাইলাম) প্রার্থনা এবং অবৈধভাবে কাজ করার অভিযোগ ঘিরে দেশটির রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অঙ্গনে তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। বিবিসির এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ফরাসি অভিবাসী শিবিরগুলোর একসময়ের কথিত “গডফাদার” টুয়ানা জামাল বর্তমানে লেস্টারশায়ারের ব্লাবি এলাকায় অবস্থান করছেন এবং তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দুটি মিনিমার্টেরও সন্ধান পাওয়া গেছে।

বিবিসির অনুসন্ধান অনুযায়ী, টুয়ানা জামাল সাংবাদিকদের কাছে নিজেকে লেস্টারে বসবাসকারী বলে পরিচয় দেন। এরপর অনুসন্ধানী দল তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হতে পারে এমন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খুঁজতে গিয়ে ব্লাবিতে দুটি মিনিমার্টের সন্ধান পায়। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, সাংবাদিকরা তাকে ওই দোকানে কাজ করতে, বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাড়া গাড়ি চালাতে এবং ভিন্ন নামে পরিচয় ব্যবহার করতে দেখেছেন।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন টুয়ানা জামাল। তিনি দাবি করেন, তিনি কখনও মানবপাচারের সঙ্গে জড়িত ছিলেন না, ফ্রান্সে কারাদণ্ডও ভোগ করেননি এবং ২০০৯ সাল থেকেই যুক্তরাজ্যে বসবাস করছেন। কিন্তু ২০১৬ সালে ফ্রান্সের একটি আদালতে তার উপস্থিতির ছবি দেখানো হলে সেটি যে তারই ছবি, তা তিনি অস্বীকার করেননি। এছাড়া দোকানে কাজ করার অভিযোগও তিনি নাকচ করেন, যদিও বিবিসির প্রতিবেদনে তাকে কাউন্টারের পেছনে কাজ করা এবং পণ্য ওঠানামা করতে দেখা গেছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

ফরাসি আদালত ২০১৬ সালে ইরাকি কুর্দি বংশোদ্ভূত টুয়ানা জামালকে মানবপাচারের দায়ে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেন। সে সময় ফরাসি কর্তৃপক্ষ তাকে গ্রেপ্তার হওয়া সবচেয়ে সফল মানবপাচারকারীদের একজন হিসেবে উল্লেখ করেছিল। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ ছিল, ইংলিশ চ্যানেল হয়ে অবৈধ অভিবাসীদের পারাপার করিয়ে তিনি প্রতি সপ্তাহে প্রায় এক লাখ পাউন্ড পর্যন্ত আয় করতেন।

ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর সাউথ লেস্টারশায়ারের কনজারভেটিভ এমপি আলবার্তো কোস্তা তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তার নির্বাচনী কার্যালয় অভিযুক্তের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে দাবি করা একটি দোকানের পাশেই অবস্থিত।

তিনি বলেন, “একটি বিষয় পরিষ্কার—এই ব্যক্তির ব্লাবিতে থাকার কথা নয়, এমনকি এই দেশেও থাকার কথা নয়।”

এমপি কোস্তা জানান, তিনি এ বিষয়ে লেস্টারশায়ার পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন এবং স্বরাষ্ট্র দপ্তরের কাছেও বিষয়টি উত্থাপন করবেন। তার ভাষায়, একজন দণ্ডপ্রাপ্ত মানবপাচারকারী কীভাবে যুক্তরাজ্যে এসে আশ্রয়ের আবেদন করার সুযোগ পেলেন, সেটির ব্যাখ্যা হোম অফিসকেই দিতে হবে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের উদ্দেশে তিনি অভিযুক্তের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দোকানগুলো এড়িয়ে চলার আহ্বানও জানান। তার অভিযোগ, বৈধ অভিবাসন মর্যাদা ছাড়াই কাজ করে ওই ব্যক্তি যুক্তরাজ্যের অভিবাসন ব্যবস্থার অপব্যবহার করছেন।

এদিকে যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র দপ্তর (হোম অফিস) জানিয়েছে, প্রত্যেক আশ্রয়প্রার্থীর ক্ষেত্রে পরিচয়, নিরাপত্তা, অভিবাসন-সংক্রান্ত তথ্য এবং অপরাধমূলক অতীত যাচাইয়ের বাধ্যতামূলক প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়। তবে টুয়ানা জামালের নির্দিষ্ট মামলার বিষয়ে তারা কোনো মন্তব্য করেনি।

ব্লাবি ডিস্ট্রিক্ট কাউন্সিলের লিবারেল ডেমোক্র্যাট কাউন্সিলর পল হার্টশর্ন বলেন, বিবিসির প্রতিবেদন প্রকাশের পর বহু উদ্বিগ্ন বাসিন্দা তার সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। তার মতে, এমন একজন ব্যক্তি যুক্তরাজ্যে বসবাস, কাজ এবং ব্যবসা পরিচালনা করতে পারছেন—এটি সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

অন্যদিকে লেস্টারশায়ার ও রাটল্যান্ডের রিফর্ম ইউকে–সমর্থিত পুলিশ ও ক্রাইম কমিশনার রুপার্ট ম্যাথিউস জনগণকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর তার আস্থা রয়েছে এবং কোনো অপরাধ সংঘটিত হয়ে থাকলে পুলিশ যথাযথ ব্যবস্থা নেবে। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, কোনো ধরনের সহিংসতা গ্রহণযোগ্য নয়।

লেস্টারশায়ার পুলিশ জানিয়েছে, বিবিসির প্রকাশিত প্রতিবেদনের বিষয়ে তারা অবগত রয়েছে এবং হোম অফিস, স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে বিষয়টি পর্যালোচনা করছে।

সূত্রঃ বিবিসি

এম.কে

আরো পড়ুন

যুক্তরাজ্যে বেকারত্বের হার বাড়ছে

লন্ডনে আর্থিক খাতের চাকরিতে শূন্যপদ কমছে

পবিত্র কাবার আদলে যুক্তরাজ্যে পাওয়া যাচ্ছে সোনার বার