যুক্তরাজ্যে বিবিসির টিভি লাইসেন্স ব্যবস্থায় পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। বর্তমানে বছরে ১৮০ পাউন্ডের টিভি লাইসেন্স ফি নেওয়া হলেও তা বাতিল করে জার্মানির আদলে সব পরিবারের জন্য বাধ্যতামূলক একটি ফি চালুর বিষয়টি বিবেচনা করছে বিবিসি। প্রস্তাবটি বাস্তবায়িত হলে একটি পরিবারের বার্ষিক খরচ প্রায় ৩৬ পাউন্ড কমতে পারে।
বিবিসির মহাপরিচালক ম্যাট ব্রিটিন জানিয়েছেন, ইউরোপের একটি মডেল অনুসরণ করে বর্তমান ১৮০ পাউন্ডের বার্ষিক ফি প্রায় ২০ শতাংশ কমানো সম্ভব হতে পারে। সে ক্ষেত্রে মাসিক খরচ ১৫ পাউন্ড থেকে কমে প্রায় ১২ পাউন্ডে নামতে পারে।
সম্প্রতি এক গণমাধ্যম সম্মেলনে ম্যাট ব্রিটিন বলেন, প্রতি পরিবারের মাসিক অর্থপ্রদান প্রায় ১৫ পাউন্ড থেকে ১২ পাউন্ডে নামিয়ে আনা সম্ভব হতে পারে।
তবে প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় বর্তমান ব্যবস্থার তুলনায় গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আসবে। বর্তমানে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে কোনো পরিবার টিভি লাইসেন্স না নেওয়ার সুযোগ পায়। নতুন মডেলে সব পরিবারের কাছ থেকে বাধ্যতামূলকভাবে অর্থ নেওয়া হতে পারে। ফলে কোনো পরিবার বিবিসির টেলিভিশন অনুষ্ঠান, আইপ্লেয়ার, রেডিও বা পডকাস্ট ব্যবহার না করলেও তাদের এই ফি দিতে হতে পারে।
জার্মানিতে ‘রুন্ডফাঙ্কবাইট্রাগ’ নামে একই ধরনের একটি ব্যবস্থা চালু রয়েছে। দেশটিতে ১৮ বছরের বেশি বয়সী বাসিন্দাদের কাছ থেকে প্রতি মাসে ১৮ দশমিক ৩৬ ইউরো করে নেওয়া হয়। এই অর্থ দেশটির টেলিভিশন ও রেডিও সম্প্রচারব্যবস্থার অর্থায়নে ব্যবহৃত হয়।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম আই পেপারের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাজ্যে জার্মানির মতো ব্যবস্থা চালু হলে পরিবারের টিভি লাইসেন্স বাবদ বার্ষিক খরচ ৩৬ পাউন্ড পর্যন্ত কমতে পারে। বর্তমানে বছরে ১৮০ পাউন্ডের পরিবর্তে তা প্রায় ১৪৪ পাউন্ডে নেমে আসতে পারে।
তবে ফি কমলেও নতুন ব্যবস্থায় অর্থ প্রদানকারীর সংখ্যা বাড়তে পারে। বর্তমানে যারা বিবিসির সেবা ব্যবহার করলেও লাইসেন্স ফি দেন না, তাদেরও নতুন ব্যবস্থার আওতায় আনা হতে পারে।
প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় কিছু শ্রেণির মানুষকে ছাড় দেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনায় থাকতে পারে। জার্মানির ব্যবস্থায় বয়স্ক ব্যক্তি, শিক্ষার্থী এবং নির্দিষ্ট কিছু ঝুঁকিপূর্ণ বা বিশেষ পরিস্থিতিতে থাকা মানুষ ছাড় পান। যুক্তরাজ্যে একই ধরনের কোনো ব্যবস্থা রাখা হবে কি না, তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি।
বিবিসির একটি সূত্র আই পেপারকে জানিয়েছে, এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব সরকারের। বিবিসি ইতোমধ্যে একটি বাধ্যতামূলক ফিসহ বিভিন্ন ধরনের অর্থায়ন ব্যবস্থার সম্ভাব্য খরচ নিয়ে কাজ করেছে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি।
বিবিসির একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, ম্যাট ব্রিটিনের বক্তব্যের ভিত্তি হলো—বর্তমানে যেখানে প্রায় ৮০ শতাংশ পরিবার লাইসেন্স ফি দেয়, সেখানে সব পরিবার অর্থ প্রদান করলে তুলনামূলক কম হারে ফি নির্ধারণ করা সম্ভব হতে পারে।
বিবিসির তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাজ্যের প্রায় ৯৪ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ এর কোনো না কোনো সেবা ব্যবহার করেন। তবে তাদের সবাই বর্তমানে টিভি লাইসেন্সের জন্য অর্থ প্রদান করেন না।
এদিকে প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম সরকারে লিসা ন্যান্ডিকে সংস্কৃতিমন্ত্রীর দায়িত্বে পুনর্নিয়োগ করেছেন। পরবর্তী বিবিসি চার্টার নিয়ে সরকারের সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকবে।
তবে বিবিসির টিভি লাইসেন্স বাতিল করে নতুন বাধ্যতামূলক পারিবারিক ফি চালুর বিষয়টি এখনো প্রস্তাব ও আলোচনার পর্যায়ে রয়েছে। সরকারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের পরই নতুন অর্থায়ন ব্যবস্থা, ফি-এর পরিমাণ এবং কারা ছাড় পাবেন—এসব বিষয় স্পষ্ট হবে।
সূত্রঃ বার্মিংহাম লাইভ
এমকে

