যুক্তরাজ্যে বিরল এক পরজীবীজনিত সংক্রমণ দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় দেশটির যুক্তরাজ্য স্বাস্থ্য নিরাপত্তা সংস্থা জরুরি স্বাস্থ্য সতর্কতা জারি করেছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে বিশেষ করে মেক্সিকো ভ্রমণ শেষে দেশে ফেরা যাত্রীদের মধ্যে এই সংক্রমণের ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
স্বাস্থ্য নিরাপত্তা সংস্থার প্রকাশিত সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ৩০ এপ্রিল থেকে ১৫ জুলাই পর্যন্ত যুক্তরাজ্যে ৬৭ জন এই পরজীবীতে আক্রান্ত হয়েছেন। এর মধ্যে ইংল্যান্ডে ৩০ জন, স্কটল্যান্ডে ২৭ জন এবং ওয়েলসে ১০ জন আক্রান্ত হয়েছেন। যেসব রোগীর ভ্রমণের তথ্য পাওয়া গেছে, তাদের অধিকাংশই মেক্সিকোর রিভিয়েরা মায়া ও কানকুন অঞ্চলে ছুটি কাটিয়ে ফিরেছেন।
স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই পরজীবী মানুষের অন্ত্রে সংক্রমণ ঘটিয়ে তীব্র পানিযুক্ত বা বিস্ফোরণধর্মী ডায়রিয়া সৃষ্টি করে। এছাড়া পেটব্যথা, পেট ফাঁপা, বমিভাব, অতিরিক্ত গ্যাস, হালকা জ্বর, ক্ষুধামন্দা, ওজন কমে যাওয়া এবং অবসাদের মতো উপসর্গও দেখা দিতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরজীবী সাধারণত দূষিত সালাদ, কাঁচা শাক-পাতা, বিভিন্ন ভেষজ পাতা, নরম ফল এবং দূষিত খাবার বা পানির মাধ্যমে মানুষের শরীরে প্রবেশ করে। তবে এটি একজন মানুষ থেকে আরেকজন মানুষের শরীরে সহজে ছড়ায় না এবং যুক্তরাজ্যে এটি স্বাভাবিকভাবে পাওয়া যায় না।
স্বাস্থ্য নিরাপত্তা সংস্থা জানিয়েছে, অধিকাংশ আক্রান্ত ব্যক্তি কয়েক দিনের মধ্যে সুস্থ হয়ে উঠলেও যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল, তাদের ক্ষেত্রে সংক্রমণ দীর্ঘস্থায়ী ও জটিল হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে চিকিৎসকের পরামর্শে অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োগের প্রয়োজন হতে পারে।
সংস্থাটির ভ্রমণ স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. ফিলিপ ভিল বলেছেন, মেক্সিকোসহ যেসব দেশে এই সংক্রমণের ঝুঁকি বেশি, সেখানে ভ্রমণের সময় বোতলজাত পানি পান করা, ভালোভাবে রান্না করা খাবার খাওয়া এবং কাঁচা বেরিজাতীয় ফল, ভেষজ পাতা, খোসা না ছাড়ানো ফল ও সালাদ এড়িয়ে চলা উচিত। এমনকি বিলাসবহুল সব-সুবিধাসম্পন্ন অবকাশ কেন্দ্রেও এসব সতর্কতা মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, বিদেশ সফর শেষে যদি কারও তীব্র পানিযুক্ত ডায়রিয়া, পেটব্যথা, ক্ষুধামন্দা, ওজন কমে যাওয়া, বমিভাব বা ফ্লু-সদৃশ উপসর্গ দেখা দেয়, তাহলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উচিত এবং চিকিৎসককে সাম্প্রতিক বিদেশ ভ্রমণের তথ্য জানানো প্রয়োজন।
স্বাস্থ্য নিরাপত্তা সংস্থা জানিয়েছে, গ্রীষ্মকালীন ছুটিতে মেক্সিকো ভ্রমণকারীর সংখ্যা বাড়ায় আগামী সপ্তাহগুলোতে আক্রান্তের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। এ কারণে সংস্থাটি ব্রিটিশ ভ্রমণ সংস্থাগুলোর সমিতি এবং মেক্সিকোর জনস্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যৌথভাবে বিষয়টি তদন্ত করছে।
সূত্রঃ যুক্তরাজ্য স্বাস্থ্য নিরাপত্তা সংস্থা এবং ডেইলি মিরর
এম.কে

