ব্র্যাডফোর্ডের একটি আবাসিক এলাকায় অবস্থিত একটি মাদ্রাসার অংশকে মসজিদে রূপান্তরের প্রস্তাব শেষ পর্যন্ত নাকচ করে দিয়েছে স্থানীয় পরিকল্পনা কমিটি। পার্কিং সংকট এবং সম্ভাব্য শব্দদূষণের আশঙ্কাকে কেন্দ্র করে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
থর্নবুরির উডহল অ্যাভিনিউতে অবস্থিত আনোয়ার-উল-ইসলাম নামের প্রতিষ্ঠানটি ২০১২ সাল থেকে একটি মাদ্রাসা হিসেবে পরিচালিত হয়ে আসছে। সে সময় ভবনটিকে ধর্মীয় শিক্ষা কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হলেও স্পষ্ট শর্ত ছিল—এটি উপাসনার স্থান হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না।
তবে গত বছর আবেদনকারী মোহাম্মদ কাশিফ আলী ভবনের নিচতলাকে একটি মসজিদে রূপান্তরের অনুমতি চান। তার প্রস্তাব অনুযায়ী, সেখানে সর্বোচ্চ ৫০ জন মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারবেন।
আবেদনকারীদের পক্ষ থেকে গাজানফার খালিক পরিকল্পনা কমিটিকে জানান, ভবনটির ধারণক্ষমতা সীমিত এবং ৫০ জনের বেশি মুসল্লি সেখানে জায়গা পাবে না। তিনি আরও দাবি করেন, অধিকাংশ মুসল্লি আশপাশের বাসিন্দা হওয়ায় পার্কিং নিয়ে বড় ধরনের সমস্যা হওয়ার কথা নয়।
তবে বিষয়টি নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেন কাউন্সিলের সদস্যরা। প্রায় ২০০ জনের স্বাক্ষরযুক্ত একটি সমর্থনকারী পিটিশন জমা পড়ায় তাদের ধারণা, বাস্তবে মুসল্লির সংখ্যা ঘোষিত সীমার চেয়ে বেশি হতে পারে।
কাউন্সিলের পরিকল্পনা কর্মকর্তারা বলেন, ভবনটিতে পর্যাপ্ত পার্কিং সুবিধা নেই এবং নিয়মিত সমাবেশ হলে স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য শব্দদূষণ ও ভোগান্তির সৃষ্টি হতে পারে।
এছাড়া কাউন্সিলের আইনি কর্মকর্তা বব পাওয়ার জানান, মুসল্লির সংখ্যা নির্দিষ্ট সীমায় রাখার কোনো শর্ত কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা প্রায় অসম্ভব, কারণ সবসময় উপস্থিতির সংখ্যা পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব নয়।
লেবার দলের কাউন্সিলর সিনিয়াড এঙ্গেল বলেন, ২০১২ সালে দেওয়া অনুমোদনের শর্তকে দুর্বল করা ঠিক হবে না। তার মতে, এটি মসজিদ স্থাপনের জন্য উপযুক্ত স্থান নয় এবং বৃহত্তর পরিসরের একটি জায়গা খোঁজা উচিত।
সব দিক বিবেচনায় নিয়ে পরিকল্পনা কমিটি শেষ পর্যন্ত আবেদনটি প্রত্যাখ্যান করে, ফলে আপাতত মাদ্রাসাটিকে মসজিদে রূপান্তরের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হচ্ছে না।
সূত্রঃ বিবিসি
এম.কে

