যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সের মধ্যে কার্যকর ‘ওয়ান ইন, ওয়ান আউট’ অভিবাসী প্রত্যাবাসন চুক্তি নতুন করে বিতর্কের মুখে পড়েছে। হোম অফিসের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের আগস্ট থেকে ২০২৬ সালের মে পর্যন্ত ৯৪ জন শিশুকে ভুলবশত প্রাপ্তবয়স্ক হিসেবে শনাক্ত করে আটক করা হয়েছিল। পরে বয়স যাচাই শেষে তাদের নাবালক হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।
সরকারি হিসাব অনুযায়ী, ওই সময়ে বয়স নিয়ে বিতর্কিত ৩০৪টি মামলার মধ্যে ৯৪টি, অর্থাৎ প্রায় এক-তৃতীয়াংশ ক্ষেত্রে প্রাথমিক সিদ্ধান্ত ভুল প্রমাণিত হয়েছে। যুক্তরাজ্যের নীতিমালা অনুযায়ী, একা থাকা নাবালক আশ্রয়প্রার্থীদের দীর্ঘ সময় অভিবাসন আটক কেন্দ্রে রাখা আইনগতভাবে অনুমোদিত নয়, ফলে এই ভুলগুলো শিশু সুরক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলেছে।
হোম অফিসকে পাঠানো এক চিঠিতে স্বাধীন মনিটরিং বোর্ড সতর্ক করে বলেছে, বয়স নির্ধারণ প্রক্রিয়ায় গুরুতর ত্রুটি রয়েছে। বোর্ডের অন্তর্বর্তীকালীন চেয়ার জেন লিচের মতে, যাদের বয়স নিয়ে সন্দেহ ছিল, তাদের আটক করার আগে আরও সতর্ক ও নির্ভুল মূল্যায়ন করা উচিত ছিল।
প্রতিবেদনে আরও উঠে এসেছে, কিছু ক্ষেত্রে বয়স নির্ধারণে ৪০ দিনেরও বেশি সময় লেগেছে। এ সময় নির্যাতন, মানবপাচার বা সহিংসতার শিকার হওয়া অনেক ঝুঁকিপূর্ণ আশ্রয়প্রার্থীও আটক অবস্থায় ছিলেন, যা তাদের মানসিক ও শারীরিক সুস্থতার জন্য উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
স্বাস্থ্যসেবা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। এক যক্ষ্মা (টিবি) আক্রান্ত ব্যক্তিকে আটক কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছিল, আবার একজনকে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়ার প্রয়োজন হয়। এমনকি জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজন থাকা কিছু ব্যক্তিকে ফ্রান্সে ফেরত পাঠানোর প্রস্তুতি নেওয়ার অভিযোগও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
রিফিউজি কাউন্সিলসহ বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন বলছে, সীমান্ত কর্মকর্তাদের মাধ্যমে বয়স নির্ধারণের পরিবর্তে প্রশিক্ষিত সমাজকর্মীদের সম্পৃক্ত করলে এমন ভুল অনেকটাই কমানো সম্ভব। তাদের মতে, শিশুদের প্রাপ্তবয়স্ক হিসেবে ভুল শনাক্ত করা তাদের নিরাপত্তা ও অধিকারকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
এর আগে জেসুইট রিফিউজি সার্ভিস ও হিউম্যানস ফর রাইটস নেটওয়ার্কের এক যৌথ প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, চুক্তি চালুর পর অন্তত ১৪১ জন বয়স-বিতর্কিত কিশোরকে আটক করা হয়েছে, যাদের মধ্যে অনেককে পরে শিশু হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।
২০২৫ সালে চালু হওয়া ‘ওয়ান ইন, ওয়ান আউট’ চুক্তির আওতায় ইংলিশ চ্যানেল পেরিয়ে ছোট নৌকায় যুক্তরাজ্যে পৌঁছানো কিছু অভিবাসীকে ফ্রান্সে ফেরত পাঠানো হয়। এর বিনিময়ে ফ্রান্স থেকে সমসংখ্যক যোগ্য আশ্রয়প্রার্থীকে বৈধভাবে যুক্তরাজ্যে আনার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। তবে সমালোচকদের মতে, চুক্তির বাস্তবায়নে শিশু সুরক্ষা নিশ্চিত না হলে এর মানবিক ও আইনি বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাবে।
সমালোচনার জবাবে হোম অফিস জানিয়েছে, সীমান্ত নিরাপত্তা বজায় রাখার পাশাপাশি প্রকৃত শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে তারা বয়স নির্ধারণ প্রক্রিয়া আরও শক্তিশালী করছে। ভবিষ্যতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে বয়স মূল্যায়ন আরও নির্ভুল করার পরিকল্পনাও রয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
সূত্রঃ দ্য ড্যাজলিং ডন
এম.কে

