TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

যুক্তরাজ্যে মানুষ পাচার ঠেকাতে জার্মানির কঠোর আইন

যুক্তরাজ্যে অবৈধ অভিবাসন ও মানুষ পাচার দমনে বড় পদক্ষেপ হিসেবে জার্মানি নতুন আইন পাস করেছে। শুক্রবার ১৯ ডিসেম্বর অনুমোদিত এই আইনে যুক্তরাজ্যগামী অবৈধ অভিবাসী পাচারে জড়িত অপরাধী চক্রের সদস্যদের সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। আইনটি বছরের শেষ নাগাদ কার্যকর হবে।

 

নতুন আইনের আওতায় জার্মানির ভেতরে বসে যুক্তরাজ্য অভিমুখে মানুষ পাচারে সহায়ক যেকোনো কর্মকাণ্ড এখন সরাসরি ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। এর ফলে পাচারকারী চক্রগুলো আর জার্মানিতে ছোট নৌকা ও ইঞ্জিন মজুত করে সেগুলো ফ্রান্সে পাঠিয়ে ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দেওয়ার কাজে ব্যবহার করতে পারবে না।

এই আইন যুক্তরাজ্য ও জার্মানির আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর যৌথ কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী করবে। পাচারকারী চক্রের নৌকা, ইঞ্জিন সরবরাহ ও সংরক্ষণ সংক্রান্ত অপরাধ দমনে প্রসিকিউটরদের হাতে নতুন আইনি ক্ষমতা আসবে। একই সঙ্গে দুই দেশের মধ্যে গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় আরও বিস্তৃত হবে, যাতে পাচারকারীদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনা যায়।

এই উদ্যোগটি ছোট নৌকায় করে অবৈধভাবে যুক্তরাজ্যে প্রবেশ ঠেকাতে সরকারের বৃহত্তর কৌশলের অংশ। আন্তর্জাতিক মিত্রদের সঙ্গে অংশীদারত্বের মাধ্যমে সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার এবং পাচার নেটওয়ার্ক ভেঙে দেওয়াই এর মূল লক্ষ্য। এটি গত ডিসেম্বরে স্বাক্ষরিত যুক্তরাজ্য–জার্মানি যৌথ অ্যাকশন প্ল্যানের ধারাবাহিকতা।

আইনটি এমন এক সময়ে এসেছে, যখন যুক্তরাজ্য সরকার আধুনিক সময়ের সবচেয়ে ব্যাপক অবৈধ অভিবাসনবিরোধী সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে। এসব সংস্কারের লক্ষ্য হলো সীমান্তে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা, অবৈধভাবে যুক্তরাজ্যে আসার প্রণোদনা কমানো এবং যাদের থাকার আইনি অধিকার নেই তাদের প্রত্যাবাসন বাড়ানো।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ বলেন, জার্মান মিত্রদের সঙ্গে একযোগে অবৈধ অভিবাসন বাণিজ্য পরিচালনাকারী অপরাধী চক্রগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তার মতে, অবৈধ অভিবাসন ঠেকাতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদার করা ছাড়া কার্যকর সমাধান সম্ভব নয়।

এই আইনি পরিবর্তন অবৈধ অভিবাসন মোকাবিলায় যুক্তরাজ্য ও জার্মানির মধ্যে প্রথম ধরনের দ্বিপক্ষীয় চুক্তির ফল। এক বছরেরও বেশি সময় আগে স্বাক্ষরিত ওই চুক্তির পর থেকে দুই দেশ দ্রুততার সঙ্গে কাজ করে এই আইন বাস্তবায়নের পথ সুগম করেছে, যাতে উভয় দেশের সীমান্ত নিরাপত্তা দুর্বলকারী চক্রগুলো বিচারের মুখোমুখি হয়।

যৌথ কর্মপরিকল্পনার আওতায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে পাচার–সংক্রান্ত কনটেন্ট অপসারণ, ইউরোপোলের মাধ্যমে পাচার নেটওয়ার্কের পুরো রুট ভাঙা এবং ইউরোপীয় ও আঞ্চলিক অংশীদারদের সঙ্গে উৎসস্থলে অবৈধ অভিবাসন দমনেও জোর দেওয়া হয়েছে।

এরই মধ্যে যৌথ অভিযানের ফলও মিলেছে। গত নভেম্বর যুক্তরাজ্য ও জার্মান কর্তৃপক্ষের সমন্বিত তদন্তে সিরীয় একটি মানুষ পাচার চক্রের সন্দেহভাজন উচ্চপদস্থ এক সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়। ২০২৩ সালের শুরু থেকে ইউরোপজুড়ে অংশীদারদের সহায়তায় ন্যাশনাল ক্রাইম এজেন্সি ৯৫০টিরও বেশি নৌকা ও ইঞ্জিন জব্দ করেছে।

সব মিলিয়ে, জার্মানির এই নতুন আইন যুক্তরাজ্য–ইউরোপীয় সহযোগিতাকে নতুন মাত্রা দিল। সীমান্ত পেরিয়ে পরিচালিত পাচারচক্রের বিরুদ্ধে সমন্বিত আইনি ও আইনশৃঙ্খলা উদ্যোগ যে কার্যকর হতে পারে, এই পদক্ষেপ তারই স্পষ্ট বার্তা

সূত্রঃ ইউকে ডট গভ

এম.কে

আরো পড়ুন

নিখোঁজ মায়ের নামে অ্যালকোহল আসক্ততার বদনাম

নিউজ ডেস্ক

হাঁফ ছেড়ে বাঁচলেন ব্রিটিশ রাজনীতিকরা

ক্রিসমাসে চরম বিপর্যয়ে ব্রিটেনের হোটেল ব্যবসা

অনলাইন ডেস্ক